নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী ৩ মার্চ থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এদিন ১৩ মার্চের টিকিট পাওয়া যাবে। আর ঈদের পর ফেরত যাত্রার ক্ষেত্রে ১৩ মার্চ থেকে টিকিট পাওয়া যাবে, এদিন ২৩ মার্চের টিকিট পাওয়া যাবে। অগ্রিম ও ফিরতি যাত্রার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এছাড়া ঈদ ফেরত যাত্রায় ২৪ মার্চের টিকিট ১৪ মার্চ, ২৫ মার্চের টিকিট ১৫ মার্চ, ২৬ মার্চের টিকিট ১৬ মার্চ, ২৭ মার্চের টিকিট ১৭ মার্চ, ২৮ মার্চের টিকিট ১৮ মার্চ এবং ২৯ মার্চের টিকিট ১৯ মার্চ পাওয়া যাবে।
ঘোষণা অনুযায়ী, ১৬ মার্চ ২০২৬ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন (অফ-ডে) প্রত্যাহার করা হবে। ঈদের পর পুনরায় আগের নিয়ম অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটি কার্যকর থাকবে।
যাত্রীদের টিকিট ক্রয় সহজলভ্য করার জন্য পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলরত সকল আন্ত:নগর ট্রেনের টিকিট সকাল ৮ টা হতে এবং পূর্বাঞ্চলে চলাচলরত সকল আন্ত:নগর ট্রেনের টিকিট দুপুর ২ টা হতে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বিশেষ নির্দেশনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একবারে ৪টি টিকিট কিনতে পারবেন। অগ্রিম ও ফেরত যাত্রার টিকিট রিফান্ডযোগ্য না। যাত্রার দিন মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি হবে। ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল থাকবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ডিভিশনাল ও জোনাল পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ও সিগন্যাল কেবিনে কর্মকর্তা মোতায়েন, রেলপথ পেট্রোলিং, ব্রিজ ও সিগন্যালিং ব্যবস্থার বিশেষ নজরদারি এবং রিলিফ ট্রেন প্রস্তুত রাখা হবে। এছাড়া ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ বড় স্টেশনগুলোতে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে টিকিটবিহীন যাত্রী ও নাশকতা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টিকিট বিক্রির নামে ফেসবুক লিংক বা ভুয়া অফার দেখা গেলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য যাত্রীদের অনুরোধ করা হচ্ছে।
যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে ডিভিশনাল ও জোনাল কন্ট্রোলে পৃথক মনিটরিং সেল গঠন করে কর্মকর্তাদের জরুরি ডিউটি দেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ ও জংশন স্টেশন এবং সিগন্যাল কেবিনগুলোতে কর্মকর্তা ও পরিদর্শদের সরাসরি তদারকির মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনা করা হবে।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও ট্রেনের সিডিউল ঠিক রাখতে রেলপথে বিশেষ পেট্রোলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রেলসেতুগুলোর নিরাপত্তায় নেওয়া হচ্ছে বাড়তি সতর্কতা। সিগন্যালিং ব্যবস্থা, কোচ ও ইঞ্জিনের নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন করা হবে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবিলায় রিলিফ ট্রেন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে বলে জানানো হয়।
ঈদের দিন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কিছু মেইল এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করবে। তবে ১৯ মার্চ ২০২৬ রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কন্টেইনার ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া সব ধরনের গুডস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।
নিরাপত্তা জোরদারে ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ বড় স্টেশনগুলোতে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি, র্যাব ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। টিকিটবিহীন যাত্রীদের স্টেশনে প্রবেশ ঠেকাতে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। চলন্ত ট্রেন, স্টেশন ও রেললাইনে নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হবে।
এছাড়া, টিকিটধারী যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত জয়দেবপুর থেকে ঢাকামুখী এবং ঢাকা থেকে জয়দেবপুরমুখী আন্তঃজোনাল আন্তঃনগর ট্রেনে কোনো টিকিট ইস্যু করা হবে না।
ঈদে স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচি
চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে ‘চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১’ চট্টগ্রাম থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ৮টা ২০ মিনিটে চাঁদপুর পৌঁছাবে। ‘চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-২’ ভোর ৪টায় চাঁদপুর থেকে ছেড়ে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে।
ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘তিস্তা স্পেশাল-৩’ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জ পৌঁছাবে। ‘তিস্তা স্পেশাল-৪’ বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫’ সকাল ৬টায় ভৈরববাজার থেকে ছেড়ে সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে। ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৬’ দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে দুপুর ২টায় ভৈরববাজারে পৌঁছাবে।
ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৭’ ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে। ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৮’ দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে বিকেল ৩টায় ময়মনসিংহে পৌঁছাবে।
জয়দেবপুর-পার্বতীপুর-জয়দেবপুর রুটে ‘পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯’ সন্ধ্যা ৭টায় জয়দেবপুর থেকে ছেড়ে রাত ২টা ৩০ মিনিটে পার্বতীপুর পৌঁছাবে। ‘পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-১০’ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে জয়দেবপুরে পৌঁছাবে।
ঈদের পর পার্বতীপুর স্পেশাল-৯ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে জয়দেবপুর থেকে ছেড়ে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে পার্বতীপুর পৌঁছাবে। স্পেশাল-১০ রাত ১০টা ২০ মিনিটে পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে জয়দেবপুর পৌঁছাবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























