Dhaka বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছোটোখাটো ঘটনা মেনে নেব, বড় কোনো বিষয় ঘটলে ছাড় দেব না : জামায়াত আমির

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১১:১৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৭৮ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ছোটোখাটো ঘটনা মেনে নেব, বড় কোনো বিষয় ঘটলে ছাড় দেব না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মণিপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভোটের পরিবেশ নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি কেবল কেন্দ্রে এসে ভোট দিলাম। এখন বাকি কেন্দ্রগুলো দেখব, সারা দেশের খবর নেব। ছোটোখাটো কোনো বিষয় হলে আমরা অবশ্যই ইগনোর করব। কিন্তু বড় কোনো বিষয় হলে ছাড় দেব না। মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যাক, এটা আমরা কোনোভাবেই চাই না।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় যুগ দেশবাসী কোনো ভোট দিতে পারেনি, আমিও পারিনি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। তিনটি ভোট হারানোর পর আল্লাহ আজ আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, শুধু আমি নই, বিশেষ করে যুবসমাজ-যারা জীবনে একটা ভোটও দিতে পারেনি-তারা আজকের এই ভোটের জন্য বড় অপেক্ষায় ছিল। এই ভোট শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সন্ত্রাস ও দখলমুক্ত হোক। এটি যেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, সেই দোয়া করি।’

তিনি বলেন, আগামীতে এমন সরকার গঠিত হোক, যে সরকার কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের হবে না; বরং ১৮ কোটি মানুষের সরকার হবে। আমরা সেই সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী।’

ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি-সবাই যার যার ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন। নিজের অধিকার প্রয়োগ করুন এবং রাষ্ট্র গঠনের গর্বিত অংশীদার হোন।’

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মিডিয়া রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। দেশ গড়ার কাজে আমরা মিডিয়াকে পাশে চাই। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় আমরা আগামী দিনগুলোতে একসঙ্গে কাজ করব।’

এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মিডিয়ার মধ্যেও একই নিউজ ভিন্নভাবে পরিবেশিত হচ্ছে। কেউ যদি অপরাধ করে থাকে, সে আমি হলেও আমি অপরাধের বিপক্ষে। কিন্তু যা অপরাধ নয়, সেটাকে জোর করে অপরাধ বানানো আরও বড় অপরাধ।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা ছোটখাটো কোনো বিষয় হলে অবশ্যই ইগনোর করব (এড়িয়ে যাব), কিন্তু বড় কোনো বিষয় হলে আমরা ছাড় দেব না। আমাদের যা করা প্রয়োজন, তা-ই করব। কারণ, মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যায়, এটা আমরা কোনোভাবেই চাই না।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘২০১৪ সাল, ’১৮ সাল, ’২৪ সালে ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি। তিনটি ভোট হারানোর পর আজকে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। এই ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটা নতুন অধ্যায়ের শুরু হোক, দোয়া করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, শুধু আমি না; দেশের যুবসমাজ যারা জীবনে একটা ভোটও দিতে পারে নাই, আজকের এই ভোটের জন্য তারা বড় অপেক্ষায় ছিল। এই ভোট শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সংঘাতমুক্ত ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক—সেটা আমরা দোয়া করি।’

আমি বিশ্বাস করি, শুধু আমি না; দেশের যুবসমাজ যারা জীবনে একটা ভোটও দিতে পারে নাই, আজকের এই ভোটের জন্য তারা বড় অপেক্ষায় ছিল। এই ভোট শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সংঘাতমুক্ত ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক—সেটা আমরা দোয়া করি।

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এই ভোটের মাধ্যমে এমন সরকার গঠন হোক, যা কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দলের হবে না, যা হবে ১৮ কোটি মানুষের। আমরা সেই সরকার গঠনের ব্যাপারে আশা করি। আজকে ভোট দিয়ে শুরু করলাম। অন্যান্য কেন্দ্রেও যাব।’

‎দেশটা সবাই মিলে গড়তে হবে—মন্তব্য করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘দেশ গড়ার কাজে আমরা মিডিয়াকে আমাদের পাশে চাই। মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যাক, সেটা আমরা কখনোই চাই না। ভোট যখন সুষ্ঠু হবে, নিরপেক্ষ হবে, সেটা আমরাও মানব, আপনাদেরও মানতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ছোটোখাটো ঘটনা মেনে নেব, বড় কোনো বিষয় ঘটলে ছাড় দেব না : জামায়াত আমির

প্রকাশের সময় : ১১:১৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ছোটোখাটো ঘটনা মেনে নেব, বড় কোনো বিষয় ঘটলে ছাড় দেব না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মণিপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভোটের পরিবেশ নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি কেবল কেন্দ্রে এসে ভোট দিলাম। এখন বাকি কেন্দ্রগুলো দেখব, সারা দেশের খবর নেব। ছোটোখাটো কোনো বিষয় হলে আমরা অবশ্যই ইগনোর করব। কিন্তু বড় কোনো বিষয় হলে ছাড় দেব না। মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যাক, এটা আমরা কোনোভাবেই চাই না।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় যুগ দেশবাসী কোনো ভোট দিতে পারেনি, আমিও পারিনি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। তিনটি ভোট হারানোর পর আল্লাহ আজ আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, শুধু আমি নই, বিশেষ করে যুবসমাজ-যারা জীবনে একটা ভোটও দিতে পারেনি-তারা আজকের এই ভোটের জন্য বড় অপেক্ষায় ছিল। এই ভোট শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সন্ত্রাস ও দখলমুক্ত হোক। এটি যেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, সেই দোয়া করি।’

তিনি বলেন, আগামীতে এমন সরকার গঠিত হোক, যে সরকার কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের হবে না; বরং ১৮ কোটি মানুষের সরকার হবে। আমরা সেই সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী।’

ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি-সবাই যার যার ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন। নিজের অধিকার প্রয়োগ করুন এবং রাষ্ট্র গঠনের গর্বিত অংশীদার হোন।’

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মিডিয়া রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। দেশ গড়ার কাজে আমরা মিডিয়াকে পাশে চাই। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় আমরা আগামী দিনগুলোতে একসঙ্গে কাজ করব।’

এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মিডিয়ার মধ্যেও একই নিউজ ভিন্নভাবে পরিবেশিত হচ্ছে। কেউ যদি অপরাধ করে থাকে, সে আমি হলেও আমি অপরাধের বিপক্ষে। কিন্তু যা অপরাধ নয়, সেটাকে জোর করে অপরাধ বানানো আরও বড় অপরাধ।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা ছোটখাটো কোনো বিষয় হলে অবশ্যই ইগনোর করব (এড়িয়ে যাব), কিন্তু বড় কোনো বিষয় হলে আমরা ছাড় দেব না। আমাদের যা করা প্রয়োজন, তা-ই করব। কারণ, মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যায়, এটা আমরা কোনোভাবেই চাই না।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘২০১৪ সাল, ’১৮ সাল, ’২৪ সালে ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি। তিনটি ভোট হারানোর পর আজকে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। এই ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটা নতুন অধ্যায়ের শুরু হোক, দোয়া করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, শুধু আমি না; দেশের যুবসমাজ যারা জীবনে একটা ভোটও দিতে পারে নাই, আজকের এই ভোটের জন্য তারা বড় অপেক্ষায় ছিল। এই ভোট শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সংঘাতমুক্ত ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক—সেটা আমরা দোয়া করি।’

আমি বিশ্বাস করি, শুধু আমি না; দেশের যুবসমাজ যারা জীবনে একটা ভোটও দিতে পারে নাই, আজকের এই ভোটের জন্য তারা বড় অপেক্ষায় ছিল। এই ভোট শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সংঘাতমুক্ত ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক—সেটা আমরা দোয়া করি।

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এই ভোটের মাধ্যমে এমন সরকার গঠন হোক, যা কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দলের হবে না, যা হবে ১৮ কোটি মানুষের। আমরা সেই সরকার গঠনের ব্যাপারে আশা করি। আজকে ভোট দিয়ে শুরু করলাম। অন্যান্য কেন্দ্রেও যাব।’

‎দেশটা সবাই মিলে গড়তে হবে—মন্তব্য করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘দেশ গড়ার কাজে আমরা মিডিয়াকে আমাদের পাশে চাই। মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যাক, সেটা আমরা কখনোই চাই না। ভোট যখন সুষ্ঠু হবে, নিরপেক্ষ হবে, সেটা আমরাও মানব, আপনাদেরও মানতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’