নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁর ঝগড়া বা সংঘর্ষের কোনো রেকর্ড নেই।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রচারণা কর্মসূচির সময় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের লোকজন।
এনসিপি নেতার এই অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের সুযোগ তারা খুঁজছে। বহুদিন ধরে তারা চেষ্টা করছে কোনোভাবে লাগার জন্য। অযথা কারও সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ানোর কী দরকার, সেই প্রয়োজন তাঁর নেই। তিনি বলেন, তাঁর ঝগড়া করার কোনো রেকর্ড আছে কি না, সেটাই প্রশ্ন। তিনি ১৯৭৭ সাল থেকে এই এলাকায় নির্বাচন করে আসছেন, আজ থেকে নয়। প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ বা ঝগড়ার কোনো রেকর্ড তাঁর নেই।
ভিন্ন উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাদের কিছু ভিন্নতর উদ্দেশ্য আছে, সেই উদ্দেশ্য থেকেই এসব করা হচ্ছে।
ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস বলেন, এই মুহূর্তে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে কিছু কিছু জায়গায় ভোটকেন্দ্র নিয়ে সমস্যা আছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, রেলওয়ে স্কুলে নির্মাণাধীন ভবনে ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে, সেখানে ভোট দেওয়া সম্ভব নয়। তবে সামগ্রিকভাবে এখন পর্যন্ত পরিবেশ ভালোই আছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি তোমাদের বয়সে ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। শহর জুড়ে আমার বন্ধু-আত্মীয়স্বজন আছে। আমার যত ভক্ত আছে তোমাদের আত্মীয়স্বজনও তত নেই। যে যত কথাই বলুক আমি তাদের ফাঁদে পা দেব না। আমার ভোট আমি চাইব, তুমিও ভোট চাও। এলাকার জন্য কি করেছো আর কি করবে বলো। তোমরা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছো।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কিছু অতিথি পাখি দেখা যায়। পরে আর পাওয়া যায় না। ৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কেউ বলতে পারবে না আমাকে পাওয়া যায়নি। যখন আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, তখন হাত উচিয়ে এ এলাকার মানুষ সমর্থন দিতেন। পুলিশি হামলা হলে বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছি। অন্য প্রার্থী কি আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন? আপনাদের কাজ শুধু কুৎসা রটানো।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আমি অনেকবার এমপি ছিলাম। কেউ বলতে পারবে না আমার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে গেছে। কিন্তু আমি যা পারবো না তা কখনও আশ্বাস দেইনি। মিথ্যা আশ্বাস আমি দেই না। আমি ফেরেস্তা না। তবে, কারও ক্ষতি করার জন্য মিথ্যা বলি না।
তিনি বলেন, কিছু মাছের পোনা এসেছে। এদের ঠিকানা কি? আমি যখন জেলে গিয়েছিলাম তখনও বিভিন্ন প্রয়োজনে এলাকার মানুষ আমার বাসায় গেছে। আমার স্ত্রী ও কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেছে। আজকে লম্বা লম্বা কথা বলছেন, কয়জনকে সাহায্য করেছেন! এলাকার কতজনের জানাযায় গেছেন, কয়জনের বিয়ের অনুষ্ঠানে গেছেন? আবার বলেন আমার এলাকা।
মির্জা আব্বাস বলেন, একজন বলছে চাঁদাবাজি না কমালে লাল কার্ড দেখাবে। আরে চাঁদাবাজিতো আপনারা করছেন। চাঁদাবাজি তকমা দিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। চাঁদাবাজদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। যারা লাল কার্ড দেখানোর কথা বলছেন ১২ তারিখে জনগণই আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে।
তিনি বলেন, ভাবটা এমন যেন বিএনপি ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগকে যেভাবে সরানো হয়েছে বিএনপিকেও সেভাবে তাড়ানো হবে। বিএনপি বানের জলে ভেসে আসেনি। সবকিছুতেই বিএনপির দোষ। দেশে এখন থেকেই অশান্তি পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























