Dhaka রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তারেক রহমান

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’শীর্ষক মতবিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নগরীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এ মতবিনিময় করেন তিনি। এতে চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের অর্ধশত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে চারশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, এ মুহূর্তে অ্যাডভান্টেজ হল, আমাদের ইয়ুথ ফোর্স অনেক বেশি, যা আগামী ১৫-২০ বছর থাকবে। এই ওয়ার্ক ফোর্সের সুবিধা আমরা পাব। বাংলাদেশকে আমরা কীভাবে আগামী দিনে সাজাতে চাই সেটা বলব।

তারেক রহমান বলেন, বললে অনেক কথা বলতে পারি, এ খারাপ ও খারাপ। কিন্তু তাতে সমাধান আসবে না। অনেক সমস্যা আছে সেগুলো নিরসনে কিছু প্ল্যান গ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতে আপনারা যারা দেশকে পরিচালনা করবেন তারা কীভাবে দেশকে পরিচালনা করবেন তা শুনতে চাই।

এরপর প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের একজন শিক্ষার্থী মাইক নিয়ে বলেন, আসসালামুআলাইকুম স্যার।

এ সময় তারেক রহমান বলেন, একটু পজ দিই। আপনি, আপনারা যারা প্রশ্ন করবেন, আমাকে ভাইয়া বলতে পারেন। এ সময় ওই শিক্ষার্থী বলে ওঠেন, থ্যাংক ইউ স্যার।

এরপর তারেক রহমান তার অসম্পূর্ণ বাক্য শেষ করেন। তিনি বলেন, বয়সের হিসেবে আঙ্কেল ডাকতে পারেন। তবে আঙ্কেল ডাকটা শুনতে খুব একটা পছন্দ করব না। ভাইয়া বললে ভালো লাগবে।

এরপর আচ্ছা ধন্যবাদ, আচ্ছা ভাইয়া বলে প্রশ্ন শুরু করেন ওই তরুণী।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে মহামারীর মধ্যে তারা মাশুরুমের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পুঁজির সংকটে বেশিদিন চালাতে পারেননি।

জামানত দেওয়ার নিয়মের কারণে তরুণ উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে গিয়ে যে জটিলতায় পড়েন, সে কথা তুলে ধরে শিক্ষার্থী বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদের সহায়তায় কী পদক্ষেপ নেবে।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা আছে। নির্বাচিত হলে আইন সংশোধন করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার পরিকল্পনা তাদের আছে।

পাশাপাশি যারা পড়ালেখা করতে বিদেশে যেতে চায়, তাদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ দেওয়া যায় কি না- সে ভাবনা আছে বলেও তারেক রহমান জানান।

এরপর চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের একজন শিক্ষার্থী প্রশ্ন করতে উঠে জানতে চান, আপনি কেমন আছেন?

উত্তরে তারেক রহমান বলেন, একটু হালকা জ্বর আছে।

এরপর ওই শিক্ষার্থী জলাবদ্ধতা সংকট, উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা সমন্বয় এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনা জানতে চান।

তারেক রহমান বলেন, ‘রাজনীতি করতে গিয়ে আমরা একে অপরকে দোষারোপ করি। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে দেশ গড়তে তরুণদের পরামর্শ নিতে চাই। অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়ে আর্থিক অসুবিধায় পড়ে। তাদের সুবিধার্থে স্টুডেন্ট লোন কীভাবে দেওয়া যায়, সে পরিকল্পনা করছে বিএনপি।’

জবাবে তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রাম ঢাকাসহ সব বড় শহরে জলাবদ্ধতা আছে। এটা কাটাতে একটা কাজ করতে হবে তা হলো খাল খনন। বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। পানিগুলো তো কোথাও যেতে হবে। তাই দরকার খাল খনন। সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করব।

প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা না করলে রাজনৈতিক দলের কোনো লাভ নেই, জনগণ তাদের পাশে থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতি রোধ করতে না পারলে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। চাঁদাবাজি সমস্যা নানাভাবে সমাজে ছড়িয়ে রয়েছে। একটা সরকারের অনেক বার্তা অনেক কিছুকেই সমাধান করতে পারে। সরকারের বার্তা যদি থাকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, তাহলে এই অপরাধ অনেকখানিই কমে যাবে।’

বিএনপি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলোতে বিশেষ নজর দিতে চায় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ৫-১০ বছরে কী ধরনের ভোকেশনাল কাজ বৈশ্বিকভাবে গুরুত্ব পাবে, সেগুলো খুঁজে বের করে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রশিক্ষণ এবং ভাষা শিখিয়ে যদি বিদেশে কাজে পাঠানো হয় তাহলে বিশেষ মানের শ্রমশক্তি রফতানি করা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলে দিতে পারতাম, জেলায় জেলায় হাসপাতাল তৈরি করা হবে। কিন্তু তাতে পাঁচ-সাত বছর চলে যাবে এবং সেটি টেকসই নয়। আমরা হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে সার্বিক স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তুলে টেকসই ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই।’

স্কুলগুলোকে অডিও-ভিজুয়াল সংযোগে আনতে চান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এর মাধ্যমে দেশের নানাপ্রান্তের সেরা শিক্ষকদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা যাবে। একইভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্যও আধুনিক ডিভাইস সরবরাহ করা হবে।’

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘এখানে দুটো বিষয়। এই প্রবলেম সলভ হবে না যদি আমরা দুটো ইস্যুকে অ্যাড্রেস না করি। প্রথমত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া, মানুষকে নিরাপদ করা, এটা যদি আমরা নিশ্চিত করতে না পারি এবং অ্যাট দ্যা সেইম টাইম করাপশনকে (দুর্নীতি) যদি আমরা অ্যাড্রেস করতে না পারি, করাপশনকে যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে আমরা যত প্ল্যান, যা-ই করি না কেন, কিছুই হবে না।’

এরপর ‘চাঁদাবাজি’ শব্দটি উল্লেখ না করেই তিনি বলেন, ‘সেকেন্ড বিষয়টা হচ্ছে, এটা যারা করছে, আমরা এদের হয়তো দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। একটা হচ্ছে, বেকার সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু মানুষ এটার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। তাদের একটা ইনকাম দরকার, তারা তাদের জোর দিয়ে সেখান থেকে ইনকামটা করতে চায়। আরেকটা হচ্ছে প্রফেশনাল ক্রিমিনাল যারা, তারা এটা করতে চায়।’

এ সমস্যা থেকে উত্তরণের বিষয়ে তারেক বলেন, ‘তো, প্রফেশনাল ক্রিমিনাল যারা, তাদের ক্ষেত্রে আইন অ্যাপ্লিকেবল হবে, যেটা আমি মাত্র বললাম। অবশ্যই আমরা সরকার গঠন করলে, এটা জিনিস বি প্র্যাকটিক্যাল প্লিজ, এই সমস্যাটা কমবেশি বিভিন্নভাবে সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে আছে। আমরা যে ওভারনাইট সবকিছু খুলে ফেলতে পারবো নট দ্যাট। বাট আমি মনে করি, যেহেতু আমার দেখার সুযোগ হয়েছে একটা গভর্নমেন্ট, আমি গভর্নমেন্টে ছিলাম না, বাট কাছাকাছি থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে, একটা গভর্নমেন্টের মেসেজিং অনেক ক্ষেত্রে অনেক সঠিক পথে নিয়ে আসতে পারে।’

‘গভর্নমেন্টের কাছ থেকে যদি মেসেজ যায় যে, উই উইল নট টলারেট দিজ, তারপর তো গভর্নমেন্টের বিভিন্ন প্রিকশন বা স্টেপস থাকবে। কিন্তু যখন মেসেজ যাবে যে, আমরা এই ধরনের জিনিস টলারেট করবো না, আমরা করাপশন টলারেট করবো না, অটোমেটিক এটলিস্ট টুয়েন্টি-থার্টি পারসেন্ট সমস্যা রিলিজ হয়ে যাবে। সো, আমি যেটা প্রথমেই কথাটা শুরু করেছিলাম, আমাদের যে প্ল্যানগুলো আমরা করেছি, এটা ৩১ দফার ভেতরে হোক কিংবা কোর যে কয়েকটা প্রজেক্ট আমাদের আছে, ৮টা পয়েন্ট যে আমরা দিয়েছি, সেক্ষেত্রে প্রথমে আমাদের ওই দুটো ইস্যু অ্যাড্রেস করতে হবে। একটা- মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারে, সেটা ছেলে হোক আর মেয়ে হোক, স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে, এটা এবং অ্যাট দ্যা সেইম টাইম করাপশন। আমি নিশ্চয় বোঝাতে পেরেছি।’

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘এ মুহূর্তে অ্যাডভান্টেজ হল, আমাদের ইয়ুথ ফোর্স অনেক বেশি, যা আগামী ১৫-২০ বছর থাকবে। এই ওয়ার্ক ফোর্সের সুবিধা আমরা পাব। বাংলাদেশকে আমরা কীভাবে আগামী দিনে সাজাতে চাই সেটা বলব। বললে অনেক কথা বলতে পারি, এ খারাপ ও খারাপ। কিন্তু তাতে সমাধান আসবে না। অনেক সমস্যা আছে সেগুলো নিরসনে কিছু প্ল্যান গ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতে আপনারা যারা দেশকে পরিচালনা করবেন তারা কীভাবে দেশকে পরিচালনা করবেন তা শুনতে চাই।’

এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা ছাত্রছাত্রীরা তারেক রহমানকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান। তিনি নিজেই মঞ্চে ঘুরে ঘুরে প্রশ্ন গ্রহণ করেন এবং সরাসরি জবাব দেন।

পারমিতা চাকমা নামের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আপনি (তারেক রহমান) দেশে আসার পর পাহাড় এবং সমতলের সবাইকে একসাথে নিয়ে দেশ গড়ার কথা বলেছেন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেহেতু বহু জাতিভিত্তিক দেশ, ত্রে আমি একজন চাকমা নারী প্রতিনিধিত্বকারী, আমি একজন আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দবোধ করি। তো সেক্ষেত্রে আদিবাসীদের সংবিধান স্বীকৃত ভূমির অধিকার ও ভুমি নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে উত্তেজনা-উদ্বেগ সেটা দূর করতে এবং আমাদের নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহনে আপনার দলের ভূমিকা কতটূকু থাকবে এবং পাহাড়ি তরুণদের শিক্ষা, চিকিৎসাক্ষেত্রে এবং সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অংশগ্রহন কীভাবে জোরদার করবেন বা আমাদের ক্ষেত্রে স্কিল ডেভেলপমেন্টের কোনো বিষয় আছে কি-না আমি জানতে খুবই আগ্রহী।’

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন আমরা যদি বিষয়টাকে এইভাবে দেখি যে, একাত্তর সালে যখন যুদ্ধ হয়েছিলো দেশ স্বাধীন করার জন্য তখন কে কোন ধর্মের এটা কিন্তু কেউ দেখেনি। আবার কে সমতল বা কে পাহাড়ের এটাও কেউ দেখেনি। ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালে যখন আন্দোলন হতো ঠিক সেইসময়ও কে কোন ধর্মের কেউ দেখেনি, ঠিক একইভাবে কে কোন সমতলের বা কে পাহাড়ের সেইটাও কেউ দেখেনি। বাংলাদেশে একজন সমতলের আপনার মতো তরুন প্রজন্মের সদস্য যে সুবিধা পাবে, পাহাড়ের মানুষ হয়ে আপনিও সেইম সুবিধা পাবেন আপনার যোগ্যতার ভিত্তিতে।’

‘কারণ আন্দলন যখন শুরু হলো ২০২৪ সালে, এটা তো কোটা প্রথা বাতিল দিয়ে শুরু হয়েছে। আমরা বলেছি, ২০১৪ সালে আমি বলেছিলাম যে কিছু বা অন্য ভিন্ন ধরনের মানুষ আছে, তাদের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু ফাইভ পার্সেন্টের মতো কোটা রেখে বাকি সবক্ষেত্রেই ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, মেধার ভিত্তিতে হওয়া উচিত, সেটা সমতলেই হোক সেটা পাহাড়েই হোক।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী তাসনুভা তাসরীন প্রশ্ন করেন, ২০২০ সালে মহামারীর মধ্যে তারা মাশুরমের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পুঁজির সংকটে বেশিদিন চালাতে পারেননি। জামানত দেওয়ার নিয়মের কারণে তরুণ উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে গিয়ে যে জটিলতায় পড়েন, সে কথা তুলে ধরে তাসনুভা বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদের সহায়তায় কী পদক্ষেপ নেবে।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা আছে। নির্বাচিত হলে আইন সংশোধন করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার পরিকল্পনা তাদের আছে। পাশাপাশি যারা পড়ালেখা করতে বিদেশে যেতে চায়, তাদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ দেওয়া যায় কি-না সে ভাবনাও আছে।

এরপর চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ রাফসান প্রশ্ন করেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সংকট, উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা সমন্বয় এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনা কি?

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম ঢাকাসহ সব বড় শহরে জলাবদ্ধতা আছে। এটা কাটাতে একটা কাজ করতে হবে তা হলো খাল খনন। বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। পানিগুলো তো কোথাও যেতে হবে। তাই দরকার খাল খনন। সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমমিটার খাল আমরা খনন করব।’

চট্টগ্রাম ও আশেপাশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৩৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন এই ইয়ুথ পলিসি টকে।

দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে এলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন তিনি।

এ উপলক্ষে ভোর থেকেই পলোগ্রাউন্ডে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। চট্টগ্রাম জেলার নানা প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হয়েছে তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে।

চট্টগ্রামের সমাবেশ শেষে তারেক রহমান বিকাল সাড়ে ৪টায় ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে, সাড়ে ৫টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে, সন্ধ্যা ৭টায় সোনাগাজী, সাড়ে ৭টায় দাউদকান্দি ঈদগাঁ মাঠে এবং রাত মাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুরমাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কূটনীতিকদের পূর্ণ আস্থা পেয়েছে নির্বাচন কমিশন : সিইসি

চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তারেক রহমান

প্রকাশের সময় : ১১:৪৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’শীর্ষক মতবিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নগরীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এ মতবিনিময় করেন তিনি। এতে চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের অর্ধশত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে চারশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, এ মুহূর্তে অ্যাডভান্টেজ হল, আমাদের ইয়ুথ ফোর্স অনেক বেশি, যা আগামী ১৫-২০ বছর থাকবে। এই ওয়ার্ক ফোর্সের সুবিধা আমরা পাব। বাংলাদেশকে আমরা কীভাবে আগামী দিনে সাজাতে চাই সেটা বলব।

তারেক রহমান বলেন, বললে অনেক কথা বলতে পারি, এ খারাপ ও খারাপ। কিন্তু তাতে সমাধান আসবে না। অনেক সমস্যা আছে সেগুলো নিরসনে কিছু প্ল্যান গ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতে আপনারা যারা দেশকে পরিচালনা করবেন তারা কীভাবে দেশকে পরিচালনা করবেন তা শুনতে চাই।

এরপর প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের একজন শিক্ষার্থী মাইক নিয়ে বলেন, আসসালামুআলাইকুম স্যার।

এ সময় তারেক রহমান বলেন, একটু পজ দিই। আপনি, আপনারা যারা প্রশ্ন করবেন, আমাকে ভাইয়া বলতে পারেন। এ সময় ওই শিক্ষার্থী বলে ওঠেন, থ্যাংক ইউ স্যার।

এরপর তারেক রহমান তার অসম্পূর্ণ বাক্য শেষ করেন। তিনি বলেন, বয়সের হিসেবে আঙ্কেল ডাকতে পারেন। তবে আঙ্কেল ডাকটা শুনতে খুব একটা পছন্দ করব না। ভাইয়া বললে ভালো লাগবে।

এরপর আচ্ছা ধন্যবাদ, আচ্ছা ভাইয়া বলে প্রশ্ন শুরু করেন ওই তরুণী।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে মহামারীর মধ্যে তারা মাশুরুমের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পুঁজির সংকটে বেশিদিন চালাতে পারেননি।

জামানত দেওয়ার নিয়মের কারণে তরুণ উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে গিয়ে যে জটিলতায় পড়েন, সে কথা তুলে ধরে শিক্ষার্থী বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদের সহায়তায় কী পদক্ষেপ নেবে।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা আছে। নির্বাচিত হলে আইন সংশোধন করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার পরিকল্পনা তাদের আছে।

পাশাপাশি যারা পড়ালেখা করতে বিদেশে যেতে চায়, তাদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ দেওয়া যায় কি না- সে ভাবনা আছে বলেও তারেক রহমান জানান।

এরপর চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের একজন শিক্ষার্থী প্রশ্ন করতে উঠে জানতে চান, আপনি কেমন আছেন?

উত্তরে তারেক রহমান বলেন, একটু হালকা জ্বর আছে।

এরপর ওই শিক্ষার্থী জলাবদ্ধতা সংকট, উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা সমন্বয় এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনা জানতে চান।

তারেক রহমান বলেন, ‘রাজনীতি করতে গিয়ে আমরা একে অপরকে দোষারোপ করি। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে দেশ গড়তে তরুণদের পরামর্শ নিতে চাই। অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়ে আর্থিক অসুবিধায় পড়ে। তাদের সুবিধার্থে স্টুডেন্ট লোন কীভাবে দেওয়া যায়, সে পরিকল্পনা করছে বিএনপি।’

জবাবে তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রাম ঢাকাসহ সব বড় শহরে জলাবদ্ধতা আছে। এটা কাটাতে একটা কাজ করতে হবে তা হলো খাল খনন। বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। পানিগুলো তো কোথাও যেতে হবে। তাই দরকার খাল খনন। সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করব।

প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা না করলে রাজনৈতিক দলের কোনো লাভ নেই, জনগণ তাদের পাশে থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতি রোধ করতে না পারলে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। চাঁদাবাজি সমস্যা নানাভাবে সমাজে ছড়িয়ে রয়েছে। একটা সরকারের অনেক বার্তা অনেক কিছুকেই সমাধান করতে পারে। সরকারের বার্তা যদি থাকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, তাহলে এই অপরাধ অনেকখানিই কমে যাবে।’

বিএনপি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলোতে বিশেষ নজর দিতে চায় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ৫-১০ বছরে কী ধরনের ভোকেশনাল কাজ বৈশ্বিকভাবে গুরুত্ব পাবে, সেগুলো খুঁজে বের করে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রশিক্ষণ এবং ভাষা শিখিয়ে যদি বিদেশে কাজে পাঠানো হয় তাহলে বিশেষ মানের শ্রমশক্তি রফতানি করা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলে দিতে পারতাম, জেলায় জেলায় হাসপাতাল তৈরি করা হবে। কিন্তু তাতে পাঁচ-সাত বছর চলে যাবে এবং সেটি টেকসই নয়। আমরা হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে সার্বিক স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তুলে টেকসই ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই।’

স্কুলগুলোকে অডিও-ভিজুয়াল সংযোগে আনতে চান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এর মাধ্যমে দেশের নানাপ্রান্তের সেরা শিক্ষকদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা যাবে। একইভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্যও আধুনিক ডিভাইস সরবরাহ করা হবে।’

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘এখানে দুটো বিষয়। এই প্রবলেম সলভ হবে না যদি আমরা দুটো ইস্যুকে অ্যাড্রেস না করি। প্রথমত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া, মানুষকে নিরাপদ করা, এটা যদি আমরা নিশ্চিত করতে না পারি এবং অ্যাট দ্যা সেইম টাইম করাপশনকে (দুর্নীতি) যদি আমরা অ্যাড্রেস করতে না পারি, করাপশনকে যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে আমরা যত প্ল্যান, যা-ই করি না কেন, কিছুই হবে না।’

এরপর ‘চাঁদাবাজি’ শব্দটি উল্লেখ না করেই তিনি বলেন, ‘সেকেন্ড বিষয়টা হচ্ছে, এটা যারা করছে, আমরা এদের হয়তো দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। একটা হচ্ছে, বেকার সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু মানুষ এটার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। তাদের একটা ইনকাম দরকার, তারা তাদের জোর দিয়ে সেখান থেকে ইনকামটা করতে চায়। আরেকটা হচ্ছে প্রফেশনাল ক্রিমিনাল যারা, তারা এটা করতে চায়।’

এ সমস্যা থেকে উত্তরণের বিষয়ে তারেক বলেন, ‘তো, প্রফেশনাল ক্রিমিনাল যারা, তাদের ক্ষেত্রে আইন অ্যাপ্লিকেবল হবে, যেটা আমি মাত্র বললাম। অবশ্যই আমরা সরকার গঠন করলে, এটা জিনিস বি প্র্যাকটিক্যাল প্লিজ, এই সমস্যাটা কমবেশি বিভিন্নভাবে সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে আছে। আমরা যে ওভারনাইট সবকিছু খুলে ফেলতে পারবো নট দ্যাট। বাট আমি মনে করি, যেহেতু আমার দেখার সুযোগ হয়েছে একটা গভর্নমেন্ট, আমি গভর্নমেন্টে ছিলাম না, বাট কাছাকাছি থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে, একটা গভর্নমেন্টের মেসেজিং অনেক ক্ষেত্রে অনেক সঠিক পথে নিয়ে আসতে পারে।’

‘গভর্নমেন্টের কাছ থেকে যদি মেসেজ যায় যে, উই উইল নট টলারেট দিজ, তারপর তো গভর্নমেন্টের বিভিন্ন প্রিকশন বা স্টেপস থাকবে। কিন্তু যখন মেসেজ যাবে যে, আমরা এই ধরনের জিনিস টলারেট করবো না, আমরা করাপশন টলারেট করবো না, অটোমেটিক এটলিস্ট টুয়েন্টি-থার্টি পারসেন্ট সমস্যা রিলিজ হয়ে যাবে। সো, আমি যেটা প্রথমেই কথাটা শুরু করেছিলাম, আমাদের যে প্ল্যানগুলো আমরা করেছি, এটা ৩১ দফার ভেতরে হোক কিংবা কোর যে কয়েকটা প্রজেক্ট আমাদের আছে, ৮টা পয়েন্ট যে আমরা দিয়েছি, সেক্ষেত্রে প্রথমে আমাদের ওই দুটো ইস্যু অ্যাড্রেস করতে হবে। একটা- মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারে, সেটা ছেলে হোক আর মেয়ে হোক, স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে, এটা এবং অ্যাট দ্যা সেইম টাইম করাপশন। আমি নিশ্চয় বোঝাতে পেরেছি।’

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘এ মুহূর্তে অ্যাডভান্টেজ হল, আমাদের ইয়ুথ ফোর্স অনেক বেশি, যা আগামী ১৫-২০ বছর থাকবে। এই ওয়ার্ক ফোর্সের সুবিধা আমরা পাব। বাংলাদেশকে আমরা কীভাবে আগামী দিনে সাজাতে চাই সেটা বলব। বললে অনেক কথা বলতে পারি, এ খারাপ ও খারাপ। কিন্তু তাতে সমাধান আসবে না। অনেক সমস্যা আছে সেগুলো নিরসনে কিছু প্ল্যান গ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতে আপনারা যারা দেশকে পরিচালনা করবেন তারা কীভাবে দেশকে পরিচালনা করবেন তা শুনতে চাই।’

এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা ছাত্রছাত্রীরা তারেক রহমানকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান। তিনি নিজেই মঞ্চে ঘুরে ঘুরে প্রশ্ন গ্রহণ করেন এবং সরাসরি জবাব দেন।

পারমিতা চাকমা নামের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আপনি (তারেক রহমান) দেশে আসার পর পাহাড় এবং সমতলের সবাইকে একসাথে নিয়ে দেশ গড়ার কথা বলেছেন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেহেতু বহু জাতিভিত্তিক দেশ, ত্রে আমি একজন চাকমা নারী প্রতিনিধিত্বকারী, আমি একজন আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দবোধ করি। তো সেক্ষেত্রে আদিবাসীদের সংবিধান স্বীকৃত ভূমির অধিকার ও ভুমি নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে উত্তেজনা-উদ্বেগ সেটা দূর করতে এবং আমাদের নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহনে আপনার দলের ভূমিকা কতটূকু থাকবে এবং পাহাড়ি তরুণদের শিক্ষা, চিকিৎসাক্ষেত্রে এবং সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অংশগ্রহন কীভাবে জোরদার করবেন বা আমাদের ক্ষেত্রে স্কিল ডেভেলপমেন্টের কোনো বিষয় আছে কি-না আমি জানতে খুবই আগ্রহী।’

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন আমরা যদি বিষয়টাকে এইভাবে দেখি যে, একাত্তর সালে যখন যুদ্ধ হয়েছিলো দেশ স্বাধীন করার জন্য তখন কে কোন ধর্মের এটা কিন্তু কেউ দেখেনি। আবার কে সমতল বা কে পাহাড়ের এটাও কেউ দেখেনি। ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালে যখন আন্দোলন হতো ঠিক সেইসময়ও কে কোন ধর্মের কেউ দেখেনি, ঠিক একইভাবে কে কোন সমতলের বা কে পাহাড়ের সেইটাও কেউ দেখেনি। বাংলাদেশে একজন সমতলের আপনার মতো তরুন প্রজন্মের সদস্য যে সুবিধা পাবে, পাহাড়ের মানুষ হয়ে আপনিও সেইম সুবিধা পাবেন আপনার যোগ্যতার ভিত্তিতে।’

‘কারণ আন্দলন যখন শুরু হলো ২০২৪ সালে, এটা তো কোটা প্রথা বাতিল দিয়ে শুরু হয়েছে। আমরা বলেছি, ২০১৪ সালে আমি বলেছিলাম যে কিছু বা অন্য ভিন্ন ধরনের মানুষ আছে, তাদের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু ফাইভ পার্সেন্টের মতো কোটা রেখে বাকি সবক্ষেত্রেই ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, মেধার ভিত্তিতে হওয়া উচিত, সেটা সমতলেই হোক সেটা পাহাড়েই হোক।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী তাসনুভা তাসরীন প্রশ্ন করেন, ২০২০ সালে মহামারীর মধ্যে তারা মাশুরমের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পুঁজির সংকটে বেশিদিন চালাতে পারেননি। জামানত দেওয়ার নিয়মের কারণে তরুণ উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে গিয়ে যে জটিলতায় পড়েন, সে কথা তুলে ধরে তাসনুভা বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদের সহায়তায় কী পদক্ষেপ নেবে।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা আছে। নির্বাচিত হলে আইন সংশোধন করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার পরিকল্পনা তাদের আছে। পাশাপাশি যারা পড়ালেখা করতে বিদেশে যেতে চায়, তাদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ দেওয়া যায় কি-না সে ভাবনাও আছে।

এরপর চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ রাফসান প্রশ্ন করেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সংকট, উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা সমন্বয় এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনা কি?

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম ঢাকাসহ সব বড় শহরে জলাবদ্ধতা আছে। এটা কাটাতে একটা কাজ করতে হবে তা হলো খাল খনন। বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। পানিগুলো তো কোথাও যেতে হবে। তাই দরকার খাল খনন। সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমমিটার খাল আমরা খনন করব।’

চট্টগ্রাম ও আশেপাশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৩৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন এই ইয়ুথ পলিসি টকে।

দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে এলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন তিনি।

এ উপলক্ষে ভোর থেকেই পলোগ্রাউন্ডে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। চট্টগ্রাম জেলার নানা প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হয়েছে তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে।

চট্টগ্রামের সমাবেশ শেষে তারেক রহমান বিকাল সাড়ে ৪টায় ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে, সাড়ে ৫টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে, সন্ধ্যা ৭টায় সোনাগাজী, সাড়ে ৭টায় দাউদকান্দি ঈদগাঁ মাঠে এবং রাত মাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুরমাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।