নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি চাইলে ঢাকা শহরে জামায়াতের কোনো প্রার্থী রাস্তায় নামতে পারবে না। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে, তারা কোথাও থেকে ভেসে আসেনি।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বংশালের সুরিটোলা স্কুলের সামনে নির্বাচনি গণসংযোগের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগের রাজনীতি করেছি। আমাদের বহু নেতাকর্মীর রক্ত রয়েছে রাজপথে। অথচ জামায়াতের এক প্রার্থীর সাম্প্রতিক বক্তব্য এখন হাস্যরসে পরিণত হয়েছে।
জামায়াতকে ‘গুপ্ত বাহিনী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এতদিন তারা কোথায় ছিল? ৫ আগস্টের পর হঠাৎ করে তাদের দেখা মিলছে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকেই এই গুপ্ত বাহিনীর উদয় হয়েছে। যখন রাস্তায় মানুষ থাকত না, তখন তারা অন্ধকারে ঝটিকা মিছিল করে পালিয়ে যেত। এই ছিল তাদের আন্দোলন।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা রাজপথে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়েছি, গুলির মুখে থেকেছি। আর তারা নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখতেই এখন এসব বক্তব্য দিচ্ছে।’
জামায়াতের নির্বাচনি ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘তাদের নেতারাও জানেন, ঢাকা শহরের সব আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে যদি তাদের কোনো অশুভ চিন্তাভাবনা থাকে, তাহলে নির্বাচনের আগেই আমরা তাদের ঢাকা থেকে বিতাড়িত করব।’
পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, দূষণ ও ট্রাফিক জ্যামের মতো জটিল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বিএনপি প্রার্থী বলেন, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পুরান ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণ অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত এবং তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য তারা অপেক্ষা করছেন। আমরাও সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছি, যাতে সবাই ভোটকেন্দ্রে যায় এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।
তিনি বলেন, পুরান ঢাকার যে স্থানীয় সমস্যাগুলো রয়েছে, যেমন গ্যাস সংকট এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় খোলা ড্রেনেজ রয়েছে, যেখানে নর্দমার মতো পানি জমে থাকে। এছাড়া আমাদের এখানে জলাবদ্ধতা, দূষণ এবং ট্রাফিক জ্যামসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত এই পুরান ঢাকার অঞ্চলটি। এসব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি আমরা দিচ্ছি।
ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে এই জায়গায় এসেছি, ভেসে আসিনি। আমাদের দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ রয়েছে। আমাদের বহু ভাইয়ের রক্ত রয়েছে। তারা কোথায় ছিল? তারা তো হঠাৎ করে বের হয়েছে ২৪ এর ৫ আগস্টের এরপরে। এই গুপ্ত বাহিনী হঠাৎ করে উদয় হয়েছে। এর আগে আমরা দেখেছি, তারা ভোর ৬টার সময়, যখন রাস্তাঘাটে জনগণ থাকত না, তখন চুপ করে অন্ধকারে বের হয়ে মিছিল করে চলে যেত এই ছিল তাদের আন্দোলন।
তিনি বলেন, আমরা রাজপথে বুক ফুলিয়ে রক্ত দিয়েছি, গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি। আমাদের হত্যা করা হয়েছে, ১৭ বছর ধরে গুম-খুনের শিকার হয়েছি। আমরা কোনো সময় পিছু হটিনি। তাই এখন তারা যা বলছে, তারাও জানে ঢাকা শহরের সবগুলোর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। এসব কেবল তাদের নেতাকর্মীদের উৎসাহ জাগানোর জন্য বলছে।
দুর্নীতি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিএনপি মন্তব্য করে তিনি জানান, আমরা কথা দিচ্ছি, যারা অবৈধভাবে বিভিন্ন জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করছে ফুটপাতে, রাস্তায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছে এবং সেখান থেকে চাঁদা তুলছেনা তাদের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। কোনো অবৈধ স্থাপনা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড আমাদের দল অনুমোদন করে না। আমরাও এর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছি।
কর্মসংস্থান ও নারীদের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান ও নারীদের উন্নয়নের বিষয়ে আমাদের ৩১ দফার মধ্যে বিস্তারিত বলা আছে। আমরা বলেছি আগামী এক বছরে কতগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই এবং কীভাবে করতে চাই। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ফ্যাসিলিটেট করে তারাও যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, সে উদ্যোগ আমাদের রয়েছে। নারীদের ক্ষমতায়নের ব্যাপারেও আমাদের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা, নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহনসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতে তারা স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারে, সে ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত।
এ সময় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট ও গণসংযোগ পরিচালনা করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























