Dhaka বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর-জুলাই সনদে ইতালির পূর্ণ সমর্থন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও দেশটির গণতান্ত্রিক নবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত জুলাই সনদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ইতালি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ সমর্থনের কথা জানান ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি (ডেপুটি মিনিস্টার ফর ডিফেন্স) ম্যাটটিও পেরেগো ডি ক্রিমনেগো।

বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অভিবাসন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম এবং জুলাই সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠককালে জুলাই সনদের প্রশংসা করে ইতালীয় উপমন্ত্রী বলেন, দলিলটিতে অন্তর্ভুক্ত ব্যাপক সংস্কার প্রস্তাবের প্রতি ইতালির সমর্থন রয়েছে। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় রোমের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

পেরেগো বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বর্তমানে বৈশ্বিক ভূরাজনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির বাংলাদেশসহ, সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী ইতালি, যাতে সামনের দিনগুলোতে একটি যৌথ পথরেখা নির্ধারণ করা যায়।

তিনি উল্লেখ করেন, ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি ভালোভাবে একীভূত হচ্ছে। তবে ভূমধ্যসাগরীয় পথ ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ইতালির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি চলতি বছরের মিলানো-করটিনা উইন্টার অলিম্পিককে একটি সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক ইভেন্ট হিসেবে নকশা প্রণয়নে সহায়তা করেছিলেন।

ড. ইউনূস বলেন, জাপান ও ইতালির মতো উন্নত দেশে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ জরুরি, যেখানে জনসংখ্যা দ্রুত বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে।

তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় আকারের পর্যবেক্ষক দল মোতায়েনের জন্য ইইউকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি শক্তিশালী ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন। তার ভাষায়, গত ১৬ বছরের এক ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসনের সময় অনুষ্ঠিত ‘ভুয়া নির্বাচনগুলোতে’ অনেক তরুণ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি।

তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় ইতালির অব্যাহত সমর্থন এবং প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও অ্যালেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।

 

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর-জুলাই সনদে ইতালির পূর্ণ সমর্থন

প্রকাশের সময় : ১১:৪৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও দেশটির গণতান্ত্রিক নবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত জুলাই সনদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ইতালি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ সমর্থনের কথা জানান ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি (ডেপুটি মিনিস্টার ফর ডিফেন্স) ম্যাটটিও পেরেগো ডি ক্রিমনেগো।

বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অভিবাসন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম এবং জুলাই সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠককালে জুলাই সনদের প্রশংসা করে ইতালীয় উপমন্ত্রী বলেন, দলিলটিতে অন্তর্ভুক্ত ব্যাপক সংস্কার প্রস্তাবের প্রতি ইতালির সমর্থন রয়েছে। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় রোমের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

পেরেগো বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বর্তমানে বৈশ্বিক ভূরাজনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির বাংলাদেশসহ, সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী ইতালি, যাতে সামনের দিনগুলোতে একটি যৌথ পথরেখা নির্ধারণ করা যায়।

তিনি উল্লেখ করেন, ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি ভালোভাবে একীভূত হচ্ছে। তবে ভূমধ্যসাগরীয় পথ ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ইতালির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি চলতি বছরের মিলানো-করটিনা উইন্টার অলিম্পিককে একটি সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক ইভেন্ট হিসেবে নকশা প্রণয়নে সহায়তা করেছিলেন।

ড. ইউনূস বলেন, জাপান ও ইতালির মতো উন্নত দেশে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ জরুরি, যেখানে জনসংখ্যা দ্রুত বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে।

তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় আকারের পর্যবেক্ষক দল মোতায়েনের জন্য ইইউকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি শক্তিশালী ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন। তার ভাষায়, গত ১৬ বছরের এক ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসনের সময় অনুষ্ঠিত ‘ভুয়া নির্বাচনগুলোতে’ অনেক তরুণ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি।

তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় ইতালির অব্যাহত সমর্থন এবং প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও অ্যালেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।