নিজস্ব প্রতিবেদক :
কোনো এজেন্সি বিমানের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য আদায় করলে বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। এদিন সংসদে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
আফরোজা খানম বলেন, অভ্যন্তরীণ বিমানে টিকিট বুকিংয়ে দিন ও সময়কে কেন্দ্র করে ভাড়া ওঠানামা করার কারণ হলো আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনের মতো অভ্যন্তরীণ রুটেও এয়ারলাইন্সসমূহের ভাড়া সময় এবং চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, যা বিশ্বব্যাপী ‘রেভেন্যু ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি নামে পরিচিত। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও অভ্যন্তরীণ রুটে বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া এই পদ্ধতিতেই নির্ধারিত হয়ে থাকে।
বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ভাড়া ওঠা নামা করার আরো কারণ হলো বাংলাদেশ বিমান তার নিজস্ব বাণিজ্যিক স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, একই রুটে অন্যান্য উড়োজাহাজ কোম্পানির প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের নিয়ামক যেমন- জ্বালানি মূল্য, পরিচালনা ব্যয়, এয়ারক্রাফটের ধরন, দিন, সময়, পিক, অফ-পিক, মৌসুম, যাত্রী চাহিদা, আসন প্রাপ্যতা, অগ্রীম বুকিং, যাত্রীসেবার মান ইত্যাদি বিবেচনায় টিকিটের মূল্য/ভাড়া নির্ধারণ করে থাকে। ফলে অধিক চাহিদা সম্পন্ন সময়ে ভাড়া বৃদ্ধি পায় এবং কম চাহিদাসম্পন্ন সময়ে তুলনামূলকভাবে ভাড়া হ্রাস পায়।
তিনি বলেন, ভাড়া ওঠা নামা করার ক্ষেত্রে আরো উল্লেখযোগ্য কারণ হলো মুক্ত বাজার অর্থনীতি এবং এভিয়েশন শিল্পের বৈশ্বিক নিয়ম অনুযায়ী টিকিটের সরাসরি ফিক্সড বা নির্ধারিত ভাড়া আরোপ করা না হলেও, অভ্যন্তরীণ রুটে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স হিসেবে বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া যাতে সাধারণ যাত্রীদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে না যায় এবং অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী অন্যান্য উড়োজাহাজ কোম্পানির। তুলনায় টিকিটের মূল্য/ভাড়া যুক্তিযুক্ত সাশ্রয়ী পর্যায়ে থাকে সে বিষয়ে বিমান সর্বদা সচেষ্ট থাকে।
বিমানমন্ত্রী বলেন, এয়ার টিকিটের মূল্যের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা, বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি রোধ ও যাত্রীদের স্বার্থ সংরক্ষণে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭ সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তাছাড়া টিকিট সিন্ডিকেট ও প্রতারণা রুখতে টিকিটের গায়ে আবশ্যিকভাবে মূল্য, এজেন্সির নাম ও লাইসেন্স নম্বর উল্লেখ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো এজেন্সি অস্বাভাবিক মূল্য আদায় করলে বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিমান টিকিটের দাম যেন যাত্রীদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) নিয়মিত ট্রাভেল এজেন্সি ও এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও আলোচনা চলমান রেখেছে।
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০৩৫ সালের মধ্যে বহরের উড়োজাহাজ সংখ্যা ৪৭টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘ফ্লিট এক্সপ্যানশন প্ল্যান ২০২৬-২০৩৫’ অনুযায়ী ২০৩৫ সালে সংস্থাটির বহরে মোট ৪৭টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার জন্য বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি বিমানের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মিশ্র বহর (মিক্সড ফ্লিট) গঠনের অংশ হিসেবে আরও উড়োজাহাজ সংযোজনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী এক দশকে জাতীয় বিমান সংস্থাটির বহরে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
লিখিত উত্তরে মন্ত্রী আরও জানান, গত ১৫ বছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মোট ৯টি উড়োজাহাজ কিনে বহরে যুক্ত করেছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের দুটি, ২০২০ ও ২০২১ সালে ড্যাশ ৮-৪০০ মডেলের পাঁচটি এবং ২০২১ সালে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের দুটি উড়োজাহাজ ক্রয় করা হয়।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম প্রশ্ন রাখেন, দেশের সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোর মধ্যে পর্যটন শিল্প অন্যতম। কিন্তু বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে পর্যটন শিল্প এখনো অনেকটা পিছিয়ে। পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিং এবং পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না?
জবাবে আফরোজা খানম বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিপণন ও ব্র্যান্ডিংসহ পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যক্রম নিয়েছে। তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত।
পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিং এবং পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা পর্যটন মন্ত্রীর লিখিত জবাব থেকে হুবহু তুলে ধরা হলো :
দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশে-বিদেশে প্রচার
দেশের পর্যটন আকর্ষণ ও সম্ভাবনাকে দেশে-বিদেশে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বিপণন কৌশল অনুসারে স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে নানাবিধ কার্যক্রম নিয়ে আসছে। সোর্স মার্কেটসমূহে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ, রোড শো ও বিটুবি সেশন আয়োজন, সোর্স মার্কেটের ট্যুর অপারেটর ট্রাভেল, এজেন্ট ও মিডিয়া সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন, বিদেশে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের প্রচার, আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় প্রচার, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে সোর্স মার্কেটে প্রচার কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর এ সব কার্যক্রমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস/ হাইকমিশন কার্যকর সহযোগিতা দিচ্ছে।
টেলিভিশন কমার্শিয়াল (টিভিসি), ভিডিও, ডকুমেন্টারি তৈরি ও প্রচার
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ডিজিটাল কনটেন্ট যেমন : টিভিসি, ডকুমেন্টারি, ফটো প্রস্তুতের কার্যক্রম নিয়ে আসছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর ২৮টি ৩-৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের ডকুমেন্টারি রয়েছে যেখানে থিমভিত্তিক বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং ভিত্তিক কার্যক্রম-এর জন্য ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট দৈর্ঘ্যের ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ইতোমধ্যে ৫০০ এর অধিক অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট প্রস্তুত করেছে যা বিউটিফুল বাংলাদেশ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ফ্রিল্যান্সার ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফারদের উৎসাহ প্রদানের নিমিত্ত ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি কম্পিটিশনের আয়োজন করে। উক্ত আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ইতোমধ্যে ২০০টি ফটো ও ২ থেকে ৪ মিনিট দৈর্ঘ্যের ৬০টি বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ভিত্তিক ভিডিও ডকুমেন্টারি সংগ্রহ করেছে যা প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রচার ও বিপণনে ডিজিটাল মার্কেটিং
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড থেকে সোশ্যাল মিডিয়া যেমন : ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (পূর্বতন টুইটার), লিংকডইন ও ইন্সটাগ্রামে ফটো ও ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া, বিউটিফুল বাংলাদেশ নামে একটি প্রমোশনাল ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।
পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন
বিদেশি ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল রাইটার, ইনফ্লুয়েন্সার, ব্লগার ও সাংবাদিকসহ বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশন ও দূতাবাসের কূটনীতিকদের নিয়ে পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন করা হচ্ছে।
হারমনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজন
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য, খাবার পণ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড শ্রীমঙ্গলে হারমনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে।
বিটুবি সেশন আয়োজন
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে বিদেশি ট্যুর অপারেটর ও বাংলাদেশি ট্যুর অপারেটর নিয়ে বিটুবি মিটিং আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের ৯৭ জন ট্যুর অপারেটর ও বাংলাদেশের ১২৫ জন ট্যুর অপারেটর এবং হোটেল, রিসোর্ট, এয়ারলাইন্স ও টুরিস্ট ভেসেলের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় বিটুবি মিটিং আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারীগণ তাদের বিভিন্ন প্যাকেজ ও পর্যটন আকর্ষণ আগত ট্যুর অপারেটরদের নিকট তুলে ধরে।
বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন ও দূতাবাসসমূহের মাধ্যমে পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রচার
বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণসমূহ তুলে ধরতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে দেশের পর্যটন আকর্ষণ, পণ্য ও সেবা বিষয়ক লিফলেট, ব্রশিউর, টুরিস্ট ম্যাপ, ইভেন্ট ক্যালেন্ডার, ব্রান্ডবুক ও টিভিসিসহ অন্যান্য প্রচার সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।
টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন
ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি পর্যটকদের নিকট দেশের পর্যটন পণ্য ও সেবা বিষয়ক তথ্য দেওয়া ও অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের লক্ষ্যে টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া, বেনাপোল স্থলবন্দর ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ইনফরমেশন সেন্টারের মাধ্যমে ট্যুরিস্টদের পর্যটন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।
পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি
পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড থেকে ‘ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (২০২১-২০৩০)’ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের অফিস বিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি নামক একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজমেন্ট, হাউজ কিপিং, ট্রাভেল ট্যুরিজম অ্যান্ড টিকিটিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স বা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ ছাড়া, পর্যটন মহাপরিকল্পনায় ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে আলোকে সরকার পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার্থে ও দোভাষী হিসেবে দক্ষতা উন্নয়নে গাইডদের বিদেশি ভাষার ওপর এবং সেবা দেওয়ার মানসিকতা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটন শিল্পের (ট্যুর অপারেটর ও হোটেল মালিক) মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার আন্তঃসহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য অংশীজন পরিচিতিমূলক সভা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটিতে সদ্য স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারীদের ইন্টার্নশিপ দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেলিয়ার, ক্রুজ শিপের কর্মী, ট্যুরিস্ট পুলিশ, স্ট্রিট ফুড ভেন্ডর, সিবিটি কর্মী, হোমস্টের পরিবার, ইউএন ভলেন্টিয়ারদের সেবা দেওয়া ও দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















