Dhaka রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসি একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে : ছাত্রদল সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির আওতায় সকাল থেকে ইসি ভবনের সামনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জড়ো হন। সেখানেই তিনি এই মন্তব্য করেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা এবং ইসিতে বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করছে সংগঠনটি।

কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আমাদের প্রধান ইস্যু ব্যালট পেপার। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তার এই ধরনের কর্মকাণ্ড করা হয়েছে। কমিশনে প্রত্যক্ষ ইন্দনে এই ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে,ঠিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতো একইভাবে আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তারা (বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন) ভূমিকা পালন করেছে।’

সংগঠনটির অভিযোগ, জবরদস্তিমূলকভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং বিশেষ সেটআপের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিচ্ছে কমিশন। এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় নির্বাচনেও বড় ধরনের কারচুপির নীল নকশা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের অভিযোগ, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক নির্বাচনে অনৈতিকভাবে একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিতে নির্বাচনের তারিখ বারবার পরিবর্তন ও স্থগিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছে। সচিবালয় বা নির্বাচন কমিশনে তাদের কোনো কাজ না থাকলেও তারা সেখানে অবাধ বিচরণ করছে এবং প্রভাব বিস্তার করছে।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজস্ব ‘সেটআপ’ ছাড়া তারা নির্বাচন করতে ভয় পায়। তাদের জামাতপন্থি ভিসি, প্রক্টর এবং নিজস্ব ওএমআর মেশিনের সেটআপ ব্যতিত তারা কোথাও নির্বাচন করতে পারে না। শাবিপ্রবিতে পাঁচদিন নির্বাচন বন্ধ রেখে পুনরায় চালু করা এর বড় প্রমাণ।

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হল সংসদ নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থনে তারা ভালো ফলাফল করছে। কিন্তু এই অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে এবং জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতেই কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন।

আজকের এই ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করা হচ্ছে উল্লেখ করে ছাত্রদল নেতা বলেন, আমরা আজ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এসেছি। যদি এই জবরদস্তিমূলক সিদ্ধান্ত এবং বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বন্ধ না হয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।

২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব এবং হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।

এই ৩ বিষয়ে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি।

 

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সংযোগ সড়কের অভাবে কাজে আসছে না ১৭ কোটি টাকার সেতু

ইসি একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে : ছাত্রদল সভাপতি

প্রকাশের সময় : ১২:১৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির আওতায় সকাল থেকে ইসি ভবনের সামনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জড়ো হন। সেখানেই তিনি এই মন্তব্য করেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা এবং ইসিতে বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করছে সংগঠনটি।

কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আমাদের প্রধান ইস্যু ব্যালট পেপার। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তার এই ধরনের কর্মকাণ্ড করা হয়েছে। কমিশনে প্রত্যক্ষ ইন্দনে এই ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে,ঠিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতো একইভাবে আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তারা (বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন) ভূমিকা পালন করেছে।’

সংগঠনটির অভিযোগ, জবরদস্তিমূলকভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং বিশেষ সেটআপের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিচ্ছে কমিশন। এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় নির্বাচনেও বড় ধরনের কারচুপির নীল নকশা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের অভিযোগ, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক নির্বাচনে অনৈতিকভাবে একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিতে নির্বাচনের তারিখ বারবার পরিবর্তন ও স্থগিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছে। সচিবালয় বা নির্বাচন কমিশনে তাদের কোনো কাজ না থাকলেও তারা সেখানে অবাধ বিচরণ করছে এবং প্রভাব বিস্তার করছে।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজস্ব ‘সেটআপ’ ছাড়া তারা নির্বাচন করতে ভয় পায়। তাদের জামাতপন্থি ভিসি, প্রক্টর এবং নিজস্ব ওএমআর মেশিনের সেটআপ ব্যতিত তারা কোথাও নির্বাচন করতে পারে না। শাবিপ্রবিতে পাঁচদিন নির্বাচন বন্ধ রেখে পুনরায় চালু করা এর বড় প্রমাণ।

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হল সংসদ নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থনে তারা ভালো ফলাফল করছে। কিন্তু এই অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে এবং জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতেই কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন।

আজকের এই ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করা হচ্ছে উল্লেখ করে ছাত্রদল নেতা বলেন, আমরা আজ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এসেছি। যদি এই জবরদস্তিমূলক সিদ্ধান্ত এবং বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বন্ধ না হয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।

২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব এবং হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।

এই ৩ বিষয়ে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি।