নিজস্ব প্রতিবেদক :
পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পদ্মা অববাহিকার বিশাল কৃষি অঞ্চলকে মরুময়তা থেকে বাঁচাতে ও শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় এমপির প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ-এর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় হতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পের ডিপিপি (প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন এবং বাস্তবায়নে নির্ধারিত বিস্তারিত প্রস্তাবনা) ইতিমধ্যে প্রণয়ন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪শ ৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সাল হতে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং যেখানে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ বসবাস করে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি নদী নির্ভরশীল জনগণের জীবন রক্ষাকারী প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত।
পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ধারণা দীর্ঘদিনের। ১৯৬০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রকল্পটি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে মোট চারটি সমীক্ষা পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে ২০০২ সালে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। ২০০৪ সালে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা ২০১৩ সালে সম্পন্ন হওয়ার পর, প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশা চূড়ান্ত করা হয়।
সরকার দলীয় আরেক এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় এক হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন/পুনঃখনন করবে। দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জুন ২০২৬ পর্যন্ত কাবিখা, কাবিটা, টিআরের মাধ্যমে ১৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন/সংস্কার হবে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নেওয়া খাল খনন কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরে জুন পর্যন্ত ৩৫৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের সংস্থান রয়েছে। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১২৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন শেষ হয়েছে। এ বিবেচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি শতকরা ৩৫ ভাগ।
তিনি জানান, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২৯২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ৩১৬ কিলোমিটার নদ-নদীর ড্রেজিং ও ডুবোচর অপসারণ, ৮০০টি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণ এবং ২৫০ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষার কাজ চলমান আছে।
মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ইদানিংকালে আমাদের তিনটা যুদ্ধ সবচেয়ে বেশি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একটা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আরেকটা বিগত সময়ে রাজনৈতিক যুদ্ধ এবং সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ।
পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, তিনটা যুদ্ধ, ইদানীংকালে আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একটা হল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরেকটা আমরা বিগত সময়ে রাজনৈতিক যুদ্ধ মোকাবেলা করে এখানে এসেছি। সবচেয়ে কঠিন হল প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করা। সুতরাং এই যে যুদ্ধটা যে কত কঠিন যারা নদীর পাড়ে থাকেন নদীর পাড়ে যারা বসবাস করেন তারাই সবচেয়ে বেশি বুঝেন এবং উপলব্ধি করেন।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, আমিও কমবেশি ভুক্তভোগী। আমার সুমেশ্বরী এবং কংশ দুইটার।
এর পর পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসান যে নোটিশটি এনেছেন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি যে সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন সিলেট জেলার জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার নদীভাঙ্গন রোধকল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক এবং উনাকে সমর্থন করে যারা ইতিমধ্যে বক্তব্য রেখেছেন আমি সকল সংসদ সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল সিলেট। এই বৃহত্তর সিলেটের যে অঞ্চল এ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে দুইটা নদী।
একটা হল সুরমা আরেকটা হল কুশিয়ারা। ভারতের ওরাক নদী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে এই নদীগুলো সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের মণিপুর রাজ্য এই রাজ্যের পাহাড়ি এলাকায় উৎপন্ন হয়ে বরাক নদী মিজোরাম ও আসামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার অমরশিদ নামক স্থানে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এটি একটি খরস্রোতা নদী। উজানে ভারতের পাহাড়ি এলাকায় স্বল্প সময়ে মাত্রাতে রক্ত পরিমাণ বৃষ্টির কারণে ২০২২, ২০২৪ এবং ২০২৫ সর্বশেষ যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে ওই যে বলেছি যে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদেরকে এখনো সেখানে বসবাস করতে হচ্ছে এবং টিকে থাকতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে সিলেট জেলার এই জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার নদী ভাঙ্গন রোদে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান সমূহে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। সুরমা কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রথম পর্যায়ে একটি প্রকল্প ডিসেম্বর ২০২৫ সালে একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটির অনুমোদিত প্রকল্পিত যে ব্যয় ৭৩ কোটি টাকা।প্রকল্পটি বাস্তবায়ন মেয়াদকাল জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ২০২৮। বর্তমানে প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সুরমা কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রথম পর্যায়ে শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় জকিগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত রক্ষায় ১৩ টি স্থানে ৪ দশমিক ৩৩৫ কিলোমিটার এবং কানাঘাট উপজেলার চারটি স্থানে ১ দশমিক ৪৪০ কিলোমিটার মোট ৫ দশমিক ৭৭৫ কিলোমিটার নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নদীর তীর অনেকাংশে সুরক্ষিত হবে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘরবাড়ি কৃষি জমি এবং বাংলাদেশের ভূখণ্ড নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে অনেকাংশ রক্ষা পাবে।
মন্ত্রী বলেন, এই কাজটি করতে গিয়ে আমাদেরকে যেহেতু এটি বর্ডার লাইন। ভারত এবং বাংলাদেশের সীমান্ত আমরা ইতিমধ্যে বিজিবিএসএফ একটা ফ্ল্যাগ মিটিং হয়েছে। জয়েন্ট রিভার কমিশনে সেখানে মিটিং চলছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেআরসির বাহিরে ডিসি বাংলাদেশ এবং ডিসট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ইন্ডিয়া সেখানে একটা কনফারেন্স মিটিং এর অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই এই দুইটা মিটিং হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে খুব শীঘ্রই আমরা একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি যার ভিত্তিতে অদূর ভবিষ্যতে নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবো।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















