শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন পাঠ্যবই যুক্ত করা হচ্ছে।

‎মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে স্কেলের বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। শিক্ষকদের বেতন অন্য কোনো পেশার সঙ্গে তুলনা করে নির্ধারণ করা উচিত নয়। জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।

‎শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে সরকার অনেক ভাবছে। তবে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রস্তাব আসায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে।

তিনি ‎বলেন, শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র পে স্কেল করা যেতে পারে, যা অন্য কোনো পেশার সঙ্গে তুলনীয় হবে না।

ড. মিলন বলেন, শিক্ষকদের পে স্কেল আলাদা হওয়া উচিত। অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে এটা করা উচিত নয়। কম হোক, বেশি হোক—শিক্ষকদের সঙ্গে কারো তুলনা চলে না।

‎শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে একজন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন নিয়ে একটি তুলনা করেছিলেন। এমন তুলনা শিক্ষকদের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

‎শিক্ষকেরা জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান কারিগর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের শুধু বেতন-ভাতা নয়, তাদের পেশাগত মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। শিক্ষকেরা জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করেন। তাই তাদের অন্য কোনো পেশার সঙ্গে তুলনা না করে তাদের স্বতন্ত্র মর্যাদার জায়গা থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শিক্ষক-সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক প্রয়োজন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদ শূন্য রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এ-সংক্রান্ত মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শিক্ষক নিয়োগ কত দ্রুত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষা ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকের সংকট নিরসনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে একটি ‘রিটায়ার্ড টিচার্স পুল’ গঠনের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে সরকার ইতিমধ্যে স্কুল ড্রেস ও মিডডে মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আগামীতে দেশের সব উপজেলাকে এই মিডডে মিল কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

শিক্ষাক্রমের নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শীর্ষক একটি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজ চলছে। এ ছাড়া ২০২৮ সাল থেকে প্রথম শ্রেণির কারিকুলামেও ‘খেলাধুলা’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশীয় খেলার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেন।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে আনন্দ নিশ্চিত করতে হলে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের সঙ্গে শেখার প্রক্রিয়া একেবারে শুরু থেকেই চালু করতে হবে। এর অংশ হিসেবে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে আমাদের এখন থেকে ইউএনওর মাধ্যমে খেলার মাঠের সংস্থান করতে হবে। গ্রামের খেলার মাঠের জন্য জমি দরকার। জমির দাম বাড়ছে। যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে বিদ্যালয়ের জন্য জমি নিয়ে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি এরই মধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকায় ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে বলেছি, যত খাসজমি আছে, সেগুলো বেদখল থেকে দখলে নিয়ে সেখানে ছোট ছোট মাঠ করে দিতে।

বিদ্যালয়ে জায়গা থাকলে তা ব্যবহার করে খেলার মাঠ তৈরির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের আশপাশে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে খেলার জায়গা রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জায়গার সংকট থাকলেও যতটুকু সম্ভব, ততটুকু জায়গা কাজে লাগিয়ে মাঠ তৈরির চেষ্টা করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সঙ্গেও যুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশের স্থানীয় খেলাগুলোকে শিক্ষার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানায়। ‘খেলায় খেলায় শিখি’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের আনন্দের সঙ্গে শেখার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘আমরা ২০ বছর বা ২১ বছর ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করি না। ২০৪২ সাল পর্যন্ত থাকার পরিকল্পনাও করি না। আমরা চাই, যতটুকু জায়গা দরকার, যতটুকু দায়িত্ব জাতির জন্য পালন করা প্রয়োজন, তা করে যেতে।’

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। প্রথম ১৮০ দিনকে পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেওয়ার সময় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এসব উদ্যোগ ব্যাপকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা ও দেশের উন্নয়নে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

গ্যাস সংকট পুরোপুরি নিরসনে কমপক্ষে আরো দুই বছর সময় লাগবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৭:১৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন পাঠ্যবই যুক্ত করা হচ্ছে।

‎মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে স্কেলের বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। শিক্ষকদের বেতন অন্য কোনো পেশার সঙ্গে তুলনা করে নির্ধারণ করা উচিত নয়। জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।

‎শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে সরকার অনেক ভাবছে। তবে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রস্তাব আসায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে।

তিনি ‎বলেন, শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র পে স্কেল করা যেতে পারে, যা অন্য কোনো পেশার সঙ্গে তুলনীয় হবে না।

ড. মিলন বলেন, শিক্ষকদের পে স্কেল আলাদা হওয়া উচিত। অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে এটা করা উচিত নয়। কম হোক, বেশি হোক—শিক্ষকদের সঙ্গে কারো তুলনা চলে না।

‎শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে একজন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন নিয়ে একটি তুলনা করেছিলেন। এমন তুলনা শিক্ষকদের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

‎শিক্ষকেরা জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান কারিগর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের শুধু বেতন-ভাতা নয়, তাদের পেশাগত মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। শিক্ষকেরা জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করেন। তাই তাদের অন্য কোনো পেশার সঙ্গে তুলনা না করে তাদের স্বতন্ত্র মর্যাদার জায়গা থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শিক্ষক-সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক প্রয়োজন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদ শূন্য রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এ-সংক্রান্ত মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শিক্ষক নিয়োগ কত দ্রুত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষা ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকের সংকট নিরসনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে একটি ‘রিটায়ার্ড টিচার্স পুল’ গঠনের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে সরকার ইতিমধ্যে স্কুল ড্রেস ও মিডডে মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আগামীতে দেশের সব উপজেলাকে এই মিডডে মিল কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

শিক্ষাক্রমের নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শীর্ষক একটি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজ চলছে। এ ছাড়া ২০২৮ সাল থেকে প্রথম শ্রেণির কারিকুলামেও ‘খেলাধুলা’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশীয় খেলার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেন।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে আনন্দ নিশ্চিত করতে হলে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের সঙ্গে শেখার প্রক্রিয়া একেবারে শুরু থেকেই চালু করতে হবে। এর অংশ হিসেবে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে আমাদের এখন থেকে ইউএনওর মাধ্যমে খেলার মাঠের সংস্থান করতে হবে। গ্রামের খেলার মাঠের জন্য জমি দরকার। জমির দাম বাড়ছে। যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে বিদ্যালয়ের জন্য জমি নিয়ে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি এরই মধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকায় ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে বলেছি, যত খাসজমি আছে, সেগুলো বেদখল থেকে দখলে নিয়ে সেখানে ছোট ছোট মাঠ করে দিতে।

বিদ্যালয়ে জায়গা থাকলে তা ব্যবহার করে খেলার মাঠ তৈরির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের আশপাশে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে খেলার জায়গা রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জায়গার সংকট থাকলেও যতটুকু সম্ভব, ততটুকু জায়গা কাজে লাগিয়ে মাঠ তৈরির চেষ্টা করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সঙ্গেও যুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশের স্থানীয় খেলাগুলোকে শিক্ষার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানায়। ‘খেলায় খেলায় শিখি’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের আনন্দের সঙ্গে শেখার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘আমরা ২০ বছর বা ২১ বছর ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করি না। ২০৪২ সাল পর্যন্ত থাকার পরিকল্পনাও করি না। আমরা চাই, যতটুকু জায়গা দরকার, যতটুকু দায়িত্ব জাতির জন্য পালন করা প্রয়োজন, তা করে যেতে।’

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। প্রথম ১৮০ দিনকে পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেওয়ার সময় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এসব উদ্যোগ ব্যাপকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা ও দেশের উন্নয়নে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।