Dhaka সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে এসেছে।

সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে লিমনের মরদেহবাহী উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাঁর মরদেহ নিতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন স্বজনেরা।

শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সকাল ১০টার দিকে লিমনের মরদেহ শাহজালাল বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে বের করা হয়। তখন মরদেহ গ্রহণ করেন তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি জামালপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

এর আগে ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত শনিবার (২ মে) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি উড়োজাহাজে লিমনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে।

লিমনের মরদেহ দেশের পাঠানোর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকায় ইসলামি সোসাইটিতে লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ কমিউনিটির লোকজন জানাজায় শরিক হন।

লিমন (২৭) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) নামে আরেক শিক্ষার্থী। তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে বলা হয়, আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় আবর্জনা ফেলার কালো রঙের কয়েকটি ব্যাগের মধ্যে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

লিমনের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার দুই দিন পর গত ২৬ এপ্রিল ম্যানগ্রোভ এলাকায় কয়েকজন মাছশিকারি কায়াক চালানোর সময় একটি কালো রঙের পলিথিন দেখতে পান। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে যেখানে জামিলের মরদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে, এলাকাটি এর কাছেই। খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনের ভেতর মরদেহের খণ্ডিত অংশ দেখতে পায়।

তবে খণ্ডিত অংশগুলো এমন অবস্থায় ছিল যে পুলিশ সেগুলো শনাক্ত করতে পারছিল না। ৩০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে এসে হিসলবরো কাউন্টি শেরিফ নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশ বৃষ্টির। এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবহাওয়া

হায়দরাবাদকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার জালমি

যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

প্রকাশের সময় : ১১:৫২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে এসেছে।

সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে লিমনের মরদেহবাহী উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাঁর মরদেহ নিতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন স্বজনেরা।

শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সকাল ১০টার দিকে লিমনের মরদেহ শাহজালাল বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে বের করা হয়। তখন মরদেহ গ্রহণ করেন তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি জামালপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

এর আগে ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত শনিবার (২ মে) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি উড়োজাহাজে লিমনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে।

লিমনের মরদেহ দেশের পাঠানোর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকায় ইসলামি সোসাইটিতে লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ কমিউনিটির লোকজন জানাজায় শরিক হন।

লিমন (২৭) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) নামে আরেক শিক্ষার্থী। তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে বলা হয়, আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় আবর্জনা ফেলার কালো রঙের কয়েকটি ব্যাগের মধ্যে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

লিমনের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার দুই দিন পর গত ২৬ এপ্রিল ম্যানগ্রোভ এলাকায় কয়েকজন মাছশিকারি কায়াক চালানোর সময় একটি কালো রঙের পলিথিন দেখতে পান। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে যেখানে জামিলের মরদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে, এলাকাটি এর কাছেই। খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনের ভেতর মরদেহের খণ্ডিত অংশ দেখতে পায়।

তবে খণ্ডিত অংশগুলো এমন অবস্থায় ছিল যে পুলিশ সেগুলো শনাক্ত করতে পারছিল না। ৩০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে এসে হিসলবরো কাউন্টি শেরিফ নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশ বৃষ্টির। এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।