Dhaka সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিডিয়া কমিশন গঠনে যুক্তরাষ্ট্র নৈতিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ভবিষ্যতে একটি মিডিয়া কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নৈতিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এটি মূলত একটি রুটিন সৌজন্য সাক্ষাৎ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, তারই ধারাবাহিকতায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই সাক্ষাৎকে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও দেশটি অন্যতম প্রধান অংশীদার। এ কারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে উভয় পক্ষই আগ্রহী। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত গণমাধ্যম পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমাদের গার্মেন্টস রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় গন্তব্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় দাতা হচ্ছে তারা, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় অংশীদার হচ্ছে তারা। সেই বিবেচনায় আমাদের বন্ধুত্বকে আমরা আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

তিনি বলেন, এখন একটা চ্যালেঞ্জ মিডিয়া সিচুয়েশনের মধ্যে আছে সারা পৃথিবী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটা দেশ এই নতুন ইকোসিস্টেমকে তারা কীভাবে ম্যানেজ করে, এ ব্যাপারে আমরা পারস্পরিক সহযোগিতা বিনিময় করতে পারি। এটাই ছিল মূলত আলোচনার বিষয়। তারা বেশ আন্তরিকতার সঙ্গে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিশন ফর মিডিয়া কীভাবে কাজ করে এবং এখানে একটা মিডিয়া কমিশন গঠন করার যে প্রতিশ্রুতি সরকার ঘোষণা করেছে, আমরা সেই কাজটা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা আমাদের নৈতিক সহযোগিতা করবে।

মন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখানকার রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় এবং আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে আমরা পারস্পরিকভাবে যৌথভাবে খোঁজার চেষ্টা করব, যে কোথায় আমরা গণমাধ্যম নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারি।

তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে এবং আমাদের জন্য তো অবশ্যই— মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশনকে কমব্যাট করাটা প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছেও এটা একটা যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যেভাবে মানুষের জন্য সুযোগ রয়ে গেছে, সেই সুযোগে অপতথ্য প্রচারকারীরা একটা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে সমাজ জীবনে, রাষ্ট্র জীবনে, নাগরিক জীবনে। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র এবং সরকার কীভাবে জনগণকে এই অপতথ্যের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, এটা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্ত্রী বলেন, এক সময় চ্যালেঞ্জ ছিল গণমাধ্যমের ফ্রিডম, এখন শুধু ফ্রিডম নয় ব্যালেন্সড ফ্রিডমটা কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যারা ফ্রিডম এক্সারসাইজ করছে, সেটা প্রতিষ্ঠান হোক অথবা ব্যক্তিই, বিশেষ করে যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা দেখছি যে এই ফ্রিডমের অপব্যবহারটা এমন হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ অনেক বেশি ভুক্তভোগী হয়ে পড়ছেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অপতথ্যের হাত থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া দুটো কাজই তথ্য মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে করতে হচ্ছে।

‘আমরা সমস্যাটা বলেছি, বিনিময় করেছি। তাদের অভিজ্ঞতায়ও এরকম সমস্যা আছে। কীভাবে আমরা কোথায় কী করতে পারি, পরবর্তী সময়ের আলোচনাতে এগিয়ে যাব’- যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী।

আবহাওয়া

ময়মনসিংহে কৃষক হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

মিডিয়া কমিশন গঠনে যুক্তরাষ্ট্র নৈতিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী : তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০২:২৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ভবিষ্যতে একটি মিডিয়া কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নৈতিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এটি মূলত একটি রুটিন সৌজন্য সাক্ষাৎ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, তারই ধারাবাহিকতায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই সাক্ষাৎকে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও দেশটি অন্যতম প্রধান অংশীদার। এ কারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে উভয় পক্ষই আগ্রহী। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত গণমাধ্যম পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমাদের গার্মেন্টস রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় গন্তব্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় দাতা হচ্ছে তারা, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় অংশীদার হচ্ছে তারা। সেই বিবেচনায় আমাদের বন্ধুত্বকে আমরা আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

তিনি বলেন, এখন একটা চ্যালেঞ্জ মিডিয়া সিচুয়েশনের মধ্যে আছে সারা পৃথিবী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটা দেশ এই নতুন ইকোসিস্টেমকে তারা কীভাবে ম্যানেজ করে, এ ব্যাপারে আমরা পারস্পরিক সহযোগিতা বিনিময় করতে পারি। এটাই ছিল মূলত আলোচনার বিষয়। তারা বেশ আন্তরিকতার সঙ্গে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিশন ফর মিডিয়া কীভাবে কাজ করে এবং এখানে একটা মিডিয়া কমিশন গঠন করার যে প্রতিশ্রুতি সরকার ঘোষণা করেছে, আমরা সেই কাজটা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা আমাদের নৈতিক সহযোগিতা করবে।

মন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখানকার রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় এবং আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে আমরা পারস্পরিকভাবে যৌথভাবে খোঁজার চেষ্টা করব, যে কোথায় আমরা গণমাধ্যম নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারি।

তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে এবং আমাদের জন্য তো অবশ্যই— মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশনকে কমব্যাট করাটা প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছেও এটা একটা যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যেভাবে মানুষের জন্য সুযোগ রয়ে গেছে, সেই সুযোগে অপতথ্য প্রচারকারীরা একটা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে সমাজ জীবনে, রাষ্ট্র জীবনে, নাগরিক জীবনে। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র এবং সরকার কীভাবে জনগণকে এই অপতথ্যের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, এটা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্ত্রী বলেন, এক সময় চ্যালেঞ্জ ছিল গণমাধ্যমের ফ্রিডম, এখন শুধু ফ্রিডম নয় ব্যালেন্সড ফ্রিডমটা কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যারা ফ্রিডম এক্সারসাইজ করছে, সেটা প্রতিষ্ঠান হোক অথবা ব্যক্তিই, বিশেষ করে যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা দেখছি যে এই ফ্রিডমের অপব্যবহারটা এমন হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ অনেক বেশি ভুক্তভোগী হয়ে পড়ছেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অপতথ্যের হাত থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া দুটো কাজই তথ্য মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে করতে হচ্ছে।

‘আমরা সমস্যাটা বলেছি, বিনিময় করেছি। তাদের অভিজ্ঞতায়ও এরকম সমস্যা আছে। কীভাবে আমরা কোথায় কী করতে পারি, পরবর্তী সময়ের আলোচনাতে এগিয়ে যাব’- যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী।