Dhaka সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভ্যাট কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে হত্যার রহস্য জানাল র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চট্টগ্রাম থেকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাব জানায়, মধ্যরাতে বাস থেকে নামার পর ওৎ পেতে থাকা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের কবলে পড়ে নির্মম হত্যার শিকার হন তিনি। ছিনতাইকারীদের আঘাত এবং চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বুলেট বৈরাগীর। এরপর কুমিল্লা বিশ্বরোডের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২ টায় কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

‎গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং সুজন। তাদেরকে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।

‎র‌্যাব জানায়, মধ্যরাতে বাস থেকে নামার পর ওঁৎ পেতে থাকা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের কবলে পড়ে নির্মম হত্যার শিকার হন বুলেট বৈরাগী। ছিনতাইকারীদের আঘাত এবং চলন্ত সিএনজি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গত ২৪ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট বৈরাগী। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ২৫ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। মরদেহে আঘাতের একাধিক চিহ্ন ছিল।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, চাপাতি, সুইস গিয়ার, হাতুড়িসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা মূলত দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করত। ঘটনার রাতে বাস থেকে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় নামেন বুলেট। এই সময়ে ওৎ পেতে থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগীকে টার্গেট করা হয়। পরে সিএনজিতে তুলে তাকে মারধর ও ছিনতাইয়ের পর চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেয় তারা। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আবহাওয়া

ময়মনসিংহে কৃষক হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

ভ্যাট কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে হত্যার রহস্য জানাল র‌্যাব

প্রকাশের সময় : ০২:২৭:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চট্টগ্রাম থেকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাব জানায়, মধ্যরাতে বাস থেকে নামার পর ওৎ পেতে থাকা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের কবলে পড়ে নির্মম হত্যার শিকার হন তিনি। ছিনতাইকারীদের আঘাত এবং চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বুলেট বৈরাগীর। এরপর কুমিল্লা বিশ্বরোডের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২ টায় কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

‎গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং সুজন। তাদেরকে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।

‎র‌্যাব জানায়, মধ্যরাতে বাস থেকে নামার পর ওঁৎ পেতে থাকা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের কবলে পড়ে নির্মম হত্যার শিকার হন বুলেট বৈরাগী। ছিনতাইকারীদের আঘাত এবং চলন্ত সিএনজি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গত ২৪ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট বৈরাগী। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ২৫ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। মরদেহে আঘাতের একাধিক চিহ্ন ছিল।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, চাপাতি, সুইস গিয়ার, হাতুড়িসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা মূলত দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করত। ঘটনার রাতে বাস থেকে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় নামেন বুলেট। এই সময়ে ওৎ পেতে থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগীকে টার্গেট করা হয়। পরে সিএনজিতে তুলে তাকে মারধর ও ছিনতাইয়ের পর চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেয় তারা। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।