Dhaka সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভয়াবহ মবের শিকার হয়েছিলেন রাবিনা ট্যান্ডন

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • ২০৪ জন দেখেছেন

বিনোদন ডেস্ক : 

২০২৪ সালে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে সামনে একদল জনতার হাতে মবের শিকার হয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী রাবিনা ট্যান্ডন। সেই সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা অভিনেত্রী জানালেন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে।

রভিনা জানান, পুরো বিষয়টি ছিল তাঁকে হেনস্তা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত ফাঁদ। সৌভাগ্যবশত সিসিটিভি ফুটেজ থাকায় সত্যটা দ্রুত সবার সামনে চলে আসে। কিন্ত সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছিল অভিনেত্রী গাড়িচালক এক নারীকে মারধর করেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাভিনা বলেন, ‘ভাগ্যিস আমাদের সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, যার কারণে সত্যটা সঙ্গে সঙ্গেই সামনে চলে আসে। আমি সব সময় বলি, ইনস্টাগ্রাম এবং সোশ্যাল মিডিয়া যেমন আশীর্বাদ, তেমনি অভিশাপ। তারা ভিডিওটি এমনভাবে এডিট করে প্রচার করার চেষ্টা করেছিল যাতে আমাকে দোষী বানানো যায়। পুলিশ পরে জানিয়েছে, এটি ছিল একটি চাঁদাবাজির পরিকল্পনা।’

ঘটনার দিন রাভিনার গাড়ি কোনো নারীকে আঘাত করেনি— সিসিটিভি ফুটেজে তা স্পষ্ট হলেও একদল মানুষ তাঁর বাড়ির ভেতর জোর করে প্রবেশের চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তে কেন তিনি রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে রাভিনা বলেন, ‘একদল উত্তেজিত জনতা আমার বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়েছিল। বাড়িতে তখন আমার সন্তানরা একা ছিল। আর অনিল (স্বামী অনিল থাদানি) অফিসে ছিল। আপনারা কি মনে করেন আমি কাউকে এভাবে আমার বাড়িতে ঢুকতে দিতাম? আমি নিশ্চিতভাবেই উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতাম। আসল বিষয় হলো, তারা আমাদের ভয় দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফা করতে চেয়েছিল।’

অভিনেত্রী জানান, তাঁর গাড়িচালক বিগত ১০ বছর ধরে তাঁদের সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি তাঁদের পরিবারের সদস্যর মতো। ঘটনার শুরুতে বিষয়টি মীমাংসা করতে গিয়েই তিনি বিপদে পড়েন। সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে রাভিনা বলেন, ‘তারা কোনো কারণ ছাড়াই আমার ড্রাইভারকে দোষারোপ করছিল অথচ তেমন কিছুই ঘটেনি। আমি ওই এলাকার সবাইকে চিনি। পাশের বাড়ির কয়েকজন নারীর সাথে আমি নিয়মিত হাঁটতেও যাই। আমি ভেবেছিলাম বোরকা পরা ওই নারীরা হয়তো কারও অতিথি, তাই ড্রাইভারের হয়ে আমি নিজেই দুঃখ প্রকাশ করতে যাই। কিন্তু আমি বাইরে পা রাখা মাত্রই— আমার মনে হয় তারা এই সুযোগটার জন্যই অপেক্ষা করছিল।’

রাভিনা আরও জানান, তাঁর ড্রাইভারকে একা পেয়ে ওই নারীরা বাড়ি ভিডিও করার চেষ্টা করছিল। ড্রাইভার যখন তাঁদের ফোন নামিয়ে রাখতে বলে, তখন তারা মিথ্যা শ্লীলতাহানির মামলার হুমকি দিতে শুরু করে। ড্রাইভারকে বাঁচাতে যখন অভিনেত্রী এগিয়ে যান, তখনই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।

রাভিনার কথায়, ‘আমি বাইরে বের হওয়া মাত্রই দেখি সেখানে ৩০ জন মানুষ ওত পেতে আছে! আমার ড্রাইভার আমাকে টেনে গেটের ভেতরে নিয়ে আসে। এর ঠিক পরেই আমি পুলিশকে ফোন করি। কিন্তু আমার ড্রাইভার বাইরে আটকা পড়ে যায় এবং উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করতে শুরু করে। আমি গেট খুলে তাকে টেনে ভেতরে নিয়ে আসি। তখন হামলাকারীরা আমাকে হুমকি দিয়ে বলে, ড্রাইভারকে তাদের হাতে তুলে না দিলে পরদিন তার লাশ দেখতে হবে! ভাবা যায়, বান্দ্রার মতো জায়গায় এমন ঘটনা ঘটছে?’

উত্তেজিত জনতা কেবল ড্রাইভারকেই নয়, বাড়ির অন্য নিরাপত্তাকর্মীদেরও মারধর করে। অভিনেত্রী যোগ করেন, ‘যদি ড্রাইভারকে বাইরে রেখে দিতাম, তবে পুলিশ আসার আগেই তারা তাকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিত। তারা মূলত চাচ্ছিল আমি বাইরে এসে বলি— ‘ঠিক আছে, আমি তোমাদের টাকা দিচ্ছি’। তারা আমাদের অন্য একজন ওয়াচম্যানকেও মারধর করে।’

আবহাওয়া

ভয়াবহ মবের শিকার হয়েছিলেন রাবিনা ট্যান্ডন

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক : 

২০২৪ সালে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে সামনে একদল জনতার হাতে মবের শিকার হয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী রাবিনা ট্যান্ডন। সেই সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা অভিনেত্রী জানালেন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে।

রভিনা জানান, পুরো বিষয়টি ছিল তাঁকে হেনস্তা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত ফাঁদ। সৌভাগ্যবশত সিসিটিভি ফুটেজ থাকায় সত্যটা দ্রুত সবার সামনে চলে আসে। কিন্ত সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছিল অভিনেত্রী গাড়িচালক এক নারীকে মারধর করেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাভিনা বলেন, ‘ভাগ্যিস আমাদের সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, যার কারণে সত্যটা সঙ্গে সঙ্গেই সামনে চলে আসে। আমি সব সময় বলি, ইনস্টাগ্রাম এবং সোশ্যাল মিডিয়া যেমন আশীর্বাদ, তেমনি অভিশাপ। তারা ভিডিওটি এমনভাবে এডিট করে প্রচার করার চেষ্টা করেছিল যাতে আমাকে দোষী বানানো যায়। পুলিশ পরে জানিয়েছে, এটি ছিল একটি চাঁদাবাজির পরিকল্পনা।’

ঘটনার দিন রাভিনার গাড়ি কোনো নারীকে আঘাত করেনি— সিসিটিভি ফুটেজে তা স্পষ্ট হলেও একদল মানুষ তাঁর বাড়ির ভেতর জোর করে প্রবেশের চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তে কেন তিনি রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে রাভিনা বলেন, ‘একদল উত্তেজিত জনতা আমার বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়েছিল। বাড়িতে তখন আমার সন্তানরা একা ছিল। আর অনিল (স্বামী অনিল থাদানি) অফিসে ছিল। আপনারা কি মনে করেন আমি কাউকে এভাবে আমার বাড়িতে ঢুকতে দিতাম? আমি নিশ্চিতভাবেই উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতাম। আসল বিষয় হলো, তারা আমাদের ভয় দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফা করতে চেয়েছিল।’

অভিনেত্রী জানান, তাঁর গাড়িচালক বিগত ১০ বছর ধরে তাঁদের সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি তাঁদের পরিবারের সদস্যর মতো। ঘটনার শুরুতে বিষয়টি মীমাংসা করতে গিয়েই তিনি বিপদে পড়েন। সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে রাভিনা বলেন, ‘তারা কোনো কারণ ছাড়াই আমার ড্রাইভারকে দোষারোপ করছিল অথচ তেমন কিছুই ঘটেনি। আমি ওই এলাকার সবাইকে চিনি। পাশের বাড়ির কয়েকজন নারীর সাথে আমি নিয়মিত হাঁটতেও যাই। আমি ভেবেছিলাম বোরকা পরা ওই নারীরা হয়তো কারও অতিথি, তাই ড্রাইভারের হয়ে আমি নিজেই দুঃখ প্রকাশ করতে যাই। কিন্তু আমি বাইরে পা রাখা মাত্রই— আমার মনে হয় তারা এই সুযোগটার জন্যই অপেক্ষা করছিল।’

রাভিনা আরও জানান, তাঁর ড্রাইভারকে একা পেয়ে ওই নারীরা বাড়ি ভিডিও করার চেষ্টা করছিল। ড্রাইভার যখন তাঁদের ফোন নামিয়ে রাখতে বলে, তখন তারা মিথ্যা শ্লীলতাহানির মামলার হুমকি দিতে শুরু করে। ড্রাইভারকে বাঁচাতে যখন অভিনেত্রী এগিয়ে যান, তখনই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।

রাভিনার কথায়, ‘আমি বাইরে বের হওয়া মাত্রই দেখি সেখানে ৩০ জন মানুষ ওত পেতে আছে! আমার ড্রাইভার আমাকে টেনে গেটের ভেতরে নিয়ে আসে। এর ঠিক পরেই আমি পুলিশকে ফোন করি। কিন্তু আমার ড্রাইভার বাইরে আটকা পড়ে যায় এবং উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করতে শুরু করে। আমি গেট খুলে তাকে টেনে ভেতরে নিয়ে আসি। তখন হামলাকারীরা আমাকে হুমকি দিয়ে বলে, ড্রাইভারকে তাদের হাতে তুলে না দিলে পরদিন তার লাশ দেখতে হবে! ভাবা যায়, বান্দ্রার মতো জায়গায় এমন ঘটনা ঘটছে?’

উত্তেজিত জনতা কেবল ড্রাইভারকেই নয়, বাড়ির অন্য নিরাপত্তাকর্মীদেরও মারধর করে। অভিনেত্রী যোগ করেন, ‘যদি ড্রাইভারকে বাইরে রেখে দিতাম, তবে পুলিশ আসার আগেই তারা তাকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিত। তারা মূলত চাচ্ছিল আমি বাইরে এসে বলি— ‘ঠিক আছে, আমি তোমাদের টাকা দিচ্ছি’। তারা আমাদের অন্য একজন ওয়াচম্যানকেও মারধর করে।’