Dhaka বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির সময়ে শেয়ারবাজার লুটের সুযোগ ছিল না, এবারও থাকবে না : অর্থমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০২:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯২ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিএনপি সরকারের কোনো সময়ে শেয়ারবাজার লুটপাটের কোনো সুযোগ ছিল না, এবারও থাকবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ অধিকতর সংশোধনের জন্য [বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬] বিশেষ কমিটির সুপারিশ বিবেচনার প্রস্তাব দেন।

তবে এই বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

শেয়ারবাজার লুটপাটে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে যে কটি স্তম্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তার অন্যতম একটি হচ্ছে পুঁজিবাজার।

তিনি বলেন, আজকের বিশ্বে যেসব দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক, তাদের শক্তির অন্যতম উৎস শেয়ারবাজার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ১৯৯৬ সালে একবার ও ২০১০ সালে একবার ভয়াবহ রকম পতনের শিকার হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকাশিত শ্বেতপত্রের উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজার থেকে লুট হয়েছে ১ লাখ কোটি টাকার উপরে। এই ১ লাখ কোটি টাকা, সাধারণ মানুষের টাকা। যে মানুষগুলো তাদের সমস্ত সঞ্চয়গুলো হয়তো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন—সেই মানুষগুলোর টাকা। এগুলো লুটপাট করা হয়েছে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মাধ্যমে। বিশেষ কিছু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে। যাদের কখনোই বিচারের আওতায় আনা হয় নাই।

দেশের অর্থনীতি নানা সমস্যার মুখে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সার্বিক পরিস্থিতিতে আমি আমি আশা করব, অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজার লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের যেমন জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন, একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে দক্ষ ও যোগ্য মানুষের সম্মিলন ঘটিয়ে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে আবারও একটি আস্থার জায়গায় নিয়ে যাবেন।

জবাবে রুমিন ফারহানার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন অর্থমন্ত্রী। বলেন, যেহেতু বিশেষ কমিটি এই বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে, তারপর বিলটি এখানে এসেছে। সুতরাং আর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দেওয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।

এ সময় বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। বিএনপির কোনো সরকার বাংলাদেশে এই সিদ্ধান্ত দেয়নি। বিগত দিনের ইতিহাসে নেই। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করবেন আগামীতে যে ব্যাংকিং সেক্টরে বলেন, আর্থিক সেক্টরে বলেন, কোনো পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট হবে কি না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন- বিএনপি সরকারের সব নিয়োগ ছিল অরাজনৈতিক। সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণেই বিএনপি সরকারের সময় কোনো আর্থিক বিশৃঙ্খলা বা শেয়াবাজার লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমান গভর্নর কোনো দলের ব্যক্তি নন, তিনি বড়জোর কোনো দলের সমর্থক হতে পারেন। তবে তার যোগ্যতা থাকলে নিয়োগে কোনো বাধা নেই।

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা কিছু মন্তব্য করেছেন। আসলে একটা বিল পাস হওয়ার পরে এই ধরনের আলোচনার কোনো সুযোগ ছিল না এখানে। সেটাও রুলস অব প্রসিডিউরের বাইরে হচ্ছে। যেহেতু ওনারা প্রশ্ন তুলেছেন, আমাদের উত্তর দিতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের বিগত সরকারগুলো যদি দেখেন, যতবার বিএনপি সরকারে এসেছে, প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে যতগুলো অ্যাপয়েন্টমেন্ট হয়েছে, সবগুলো নন-পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট। সবগুলো নন-পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট, আমি ক্লিয়ারলি বলতে চাই। যে কারণে বাংলাদেশের আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে বিএনপি সরকারের সময় কোনো সমস্যা হয়নি। সব সময় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় ছিল। কোনো সময় শেয়ারবাজার লুটপাট হয়নি। কারণ, বিএনপির অ্যাপয়েন্টমেন্টগুলো কোনো সময় পলিটিক্যাল কনসিডারেশনে হয়নি এবং যোগ্য ব্যক্তিদের সেখানে দেওয়া হয়েছে। সেই ধারা এই সরকার অব্যাহত রাখবে- এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে চাই।

সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা যখন বিগত দিনগুলোতে দেখবেন, এই বিগত কেয়ারটেকার সরকারের সময় যখন গভর্নরের বয়স বাড়িয়েছে, তো সেই সময় তো আপনারা কোনো আপত্তি তোলেননি। গভর্নরের এজ আমরা বাড়াইনি, এটা বিগত কেয়ারটেকার সরকারের সময়ে বাড়ানো হয়েছে।

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রধানের বয়স বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই বিলটা যখন ৯৩-তে হলো, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, তখন গড় বয়স ছিল ৫৭ বছর। এখন গড় বয়স হচ্ছে ৭২ বছর। আপনি কি এই লোকগুলোকে কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখতে চান? বাংলাদেশের এই নাগরিকগুলোকে, এই অভিজ্ঞ লোকগুলো, তাদেরকে কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখতে চান? কোথায় ৫৭ বছর, এখন ৭২ বছর । গড় আয়ু বেড়েছে বলে বয়স বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে যারা আছেন, তাদের তো আমরা বাইরে রাখতে পারবো না।

তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটি দেশে যেখানে সাকসেসফুলি এই সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অপারেট করছে, তাদের এখানে কোনো এইজ বার নাই এবং সফলভাবে এগুলো পরিচালনা করছে। এখানে কেন এই বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে। দেশের এই সমস্ত প্রফেশনাল অর্গানাইজেশনে আপনি এইজ বার দিলে হবে না। বয়সে একটা লিমিটেশন করে দিলে যোগ্য ব্যক্তিদের কাজ করার ক্ষেত্রে হবে না। যেখানে গড় এইজ পরিবর্তন হয়ে গেছে, সেটা আপনাকে সমন্বয় করতে হবে। বাংলাদেশের আগামীর অর্থনীতির যে নতুন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হচ্ছে, এখানে আপনার যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের যদি আনতে হয়, আপনাকে এগুলো মাথায় রাখতে হবে। এখানে ইমোশনের কোনো সুযোগ নাই। দিস ইজ আ প্রফেশনাল জব। একটা ইকোনমিকে প্রফেশনালি চালাতে গেলে এই পরিবর্তন আনতে হবে বাংলাদেশে।

আবহাওয়া

অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপারসহ ১২ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি

বিএনপির সময়ে শেয়ারবাজার লুটের সুযোগ ছিল না, এবারও থাকবে না : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০২:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিএনপি সরকারের কোনো সময়ে শেয়ারবাজার লুটপাটের কোনো সুযোগ ছিল না, এবারও থাকবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ অধিকতর সংশোধনের জন্য [বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬] বিশেষ কমিটির সুপারিশ বিবেচনার প্রস্তাব দেন।

তবে এই বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

শেয়ারবাজার লুটপাটে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে যে কটি স্তম্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তার অন্যতম একটি হচ্ছে পুঁজিবাজার।

তিনি বলেন, আজকের বিশ্বে যেসব দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক, তাদের শক্তির অন্যতম উৎস শেয়ারবাজার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ১৯৯৬ সালে একবার ও ২০১০ সালে একবার ভয়াবহ রকম পতনের শিকার হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকাশিত শ্বেতপত্রের উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজার থেকে লুট হয়েছে ১ লাখ কোটি টাকার উপরে। এই ১ লাখ কোটি টাকা, সাধারণ মানুষের টাকা। যে মানুষগুলো তাদের সমস্ত সঞ্চয়গুলো হয়তো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন—সেই মানুষগুলোর টাকা। এগুলো লুটপাট করা হয়েছে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মাধ্যমে। বিশেষ কিছু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে। যাদের কখনোই বিচারের আওতায় আনা হয় নাই।

দেশের অর্থনীতি নানা সমস্যার মুখে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সার্বিক পরিস্থিতিতে আমি আমি আশা করব, অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজার লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের যেমন জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন, একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে দক্ষ ও যোগ্য মানুষের সম্মিলন ঘটিয়ে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে আবারও একটি আস্থার জায়গায় নিয়ে যাবেন।

জবাবে রুমিন ফারহানার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন অর্থমন্ত্রী। বলেন, যেহেতু বিশেষ কমিটি এই বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে, তারপর বিলটি এখানে এসেছে। সুতরাং আর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দেওয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।

এ সময় বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। বিএনপির কোনো সরকার বাংলাদেশে এই সিদ্ধান্ত দেয়নি। বিগত দিনের ইতিহাসে নেই। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করবেন আগামীতে যে ব্যাংকিং সেক্টরে বলেন, আর্থিক সেক্টরে বলেন, কোনো পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট হবে কি না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন- বিএনপি সরকারের সব নিয়োগ ছিল অরাজনৈতিক। সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণেই বিএনপি সরকারের সময় কোনো আর্থিক বিশৃঙ্খলা বা শেয়াবাজার লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমান গভর্নর কোনো দলের ব্যক্তি নন, তিনি বড়জোর কোনো দলের সমর্থক হতে পারেন। তবে তার যোগ্যতা থাকলে নিয়োগে কোনো বাধা নেই।

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা কিছু মন্তব্য করেছেন। আসলে একটা বিল পাস হওয়ার পরে এই ধরনের আলোচনার কোনো সুযোগ ছিল না এখানে। সেটাও রুলস অব প্রসিডিউরের বাইরে হচ্ছে। যেহেতু ওনারা প্রশ্ন তুলেছেন, আমাদের উত্তর দিতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের বিগত সরকারগুলো যদি দেখেন, যতবার বিএনপি সরকারে এসেছে, প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে যতগুলো অ্যাপয়েন্টমেন্ট হয়েছে, সবগুলো নন-পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট। সবগুলো নন-পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট, আমি ক্লিয়ারলি বলতে চাই। যে কারণে বাংলাদেশের আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে বিএনপি সরকারের সময় কোনো সমস্যা হয়নি। সব সময় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় ছিল। কোনো সময় শেয়ারবাজার লুটপাট হয়নি। কারণ, বিএনপির অ্যাপয়েন্টমেন্টগুলো কোনো সময় পলিটিক্যাল কনসিডারেশনে হয়নি এবং যোগ্য ব্যক্তিদের সেখানে দেওয়া হয়েছে। সেই ধারা এই সরকার অব্যাহত রাখবে- এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে চাই।

সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা যখন বিগত দিনগুলোতে দেখবেন, এই বিগত কেয়ারটেকার সরকারের সময় যখন গভর্নরের বয়স বাড়িয়েছে, তো সেই সময় তো আপনারা কোনো আপত্তি তোলেননি। গভর্নরের এজ আমরা বাড়াইনি, এটা বিগত কেয়ারটেকার সরকারের সময়ে বাড়ানো হয়েছে।

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রধানের বয়স বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই বিলটা যখন ৯৩-তে হলো, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, তখন গড় বয়স ছিল ৫৭ বছর। এখন গড় বয়স হচ্ছে ৭২ বছর। আপনি কি এই লোকগুলোকে কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখতে চান? বাংলাদেশের এই নাগরিকগুলোকে, এই অভিজ্ঞ লোকগুলো, তাদেরকে কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখতে চান? কোথায় ৫৭ বছর, এখন ৭২ বছর । গড় আয়ু বেড়েছে বলে বয়স বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে যারা আছেন, তাদের তো আমরা বাইরে রাখতে পারবো না।

তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটি দেশে যেখানে সাকসেসফুলি এই সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অপারেট করছে, তাদের এখানে কোনো এইজ বার নাই এবং সফলভাবে এগুলো পরিচালনা করছে। এখানে কেন এই বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে। দেশের এই সমস্ত প্রফেশনাল অর্গানাইজেশনে আপনি এইজ বার দিলে হবে না। বয়সে একটা লিমিটেশন করে দিলে যোগ্য ব্যক্তিদের কাজ করার ক্ষেত্রে হবে না। যেখানে গড় এইজ পরিবর্তন হয়ে গেছে, সেটা আপনাকে সমন্বয় করতে হবে। বাংলাদেশের আগামীর অর্থনীতির যে নতুন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হচ্ছে, এখানে আপনার যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের যদি আনতে হয়, আপনাকে এগুলো মাথায় রাখতে হবে। এখানে ইমোশনের কোনো সুযোগ নাই। দিস ইজ আ প্রফেশনাল জব। একটা ইকোনমিকে প্রফেশনালি চালাতে গেলে এই পরিবর্তন আনতে হবে বাংলাদেশে।