নিজস্ব প্রতিবেদক :
টিকা সংকটের এই সময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে চীন। চীনের সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও টিকা অনুদান দিয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পোলিও ভ্যাকসিনের ডোজ হস্তান্তর করেন চীনের প্রতিনিধিরা।
এ সময় চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্যাকসিনের নাম : Poliomyelitis Vaccine (Vero Cell, Inactivated Sabin strains) (sIPV)। ভ্যাকসিনের সংখ্যা বা সর্বমোট ডোজ : ৩,৮০,০০০ (৭৬,০০০ ভায়াল) ৷
এ সময় চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা দিয়ে আবারও সম্পর্কের গভীরতা প্রমাণ করেছে দেশটি।
তিনি বলেন, টিকা নিয়ে বাংলাদেশের এই দুঃসময়ে পোলিও প্রতিরোধে চীনের সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, অর্থনৈতিক বন্ধু হিসেবে চীন বাংলাদেশের পাশে রয়েছে, সেটি আবারও প্রমাণ করেছে দেশটি।
তিনি আরও বলেন, হামের টিকার ব্যবস্থা করা হলেও সামনে ডেঙ্গু, পোলিও, হান্টাসহ বিভিন্ন রোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। এসব রোগ মোকাবিলা করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে পোলিও, যক্ষীসহ যেসব রোগের টিকা প্রয়োজন, সেগুলোর কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব টিকাদান কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে।
হাম মোকাবিলায় সরকারের মনোযোগ এখন টিকা ও চিকিৎসা কার্যক্রমের দিকে বলে জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, আমরা হামের টিকা দিচ্ছি। টিকার ওপরে কোনো চিকিৎসা নেই। টিকা নেয়নি এমন শিশুদের আমরা খুঁজে বের করে টিকা দেবো।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও স্বীকার করেছে আমাদের টার্গেট পরিপূর্ণ হয়েছে। আমাদের টিকা কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
হামের টিকার সংকটের তদন্ত করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্ত করবো না এমন কোনো কথা আমি বলিনি। এখন একটা সংকট চলছে। সংকট শেষ হওয়ার পর সরকারের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত হবে। আমরা সেদিকে নজর দেবো। এখন যদি আমরা বিচার করার মনোযোগ দেই, তাহলে সংকট আরও বেড়ে যেতে পারে। আমাদের মনোযোগ এখন টিকা ও চিকিৎসা কার্যক্রমের দিকে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন মাইকিং কার্যক্রম করছি। যেসব এলাকায় টিকা পায়নি, তাদের ডেকে এনে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। টিকা দেওয়ার পর অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সময় লাগে, আমাদের সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অনেক ভুল তথ্য পত্রিকায় আসছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাম মোকাবিলায় আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ঘাটতি নেই। আইসিইউ রয়েছে এবং ডাক্তাররা সচেষ্ট রয়েছেন। আমরা চেষ্টা করছি। সবার সহযোগিতা চাই।’
ডেঙ্গু প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ডেঙ্গুর কোনো টিকা নেই। সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা চাই। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি এবং থাকতে হবে। ডেঙ্গুর চিকিৎসায় মোবাইল হাসপাতালও করে রেখেছি। যদি রোগী বেশি চাপ হয়ে যায়, একটা রোগীকেও যেন বাইরে থাকতে না হয়। আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















