বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) :
সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের দুর্ভোগ কমানো এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামত করা হচ্ছে।
সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
হাবিবুর রশিদ হাবিব জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও সড়কের কিনারা ধসে পড়েছে এবং কোথাও কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা প্রস্তুত, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং জরুরি সংস্কারকাজ শুরু করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ২১২ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে। বন্যার স্রোতে কোথাও সড়কের অংশ ভেঙে গেছে, আবার কোথাও দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সড়কের বিটুমিনাস স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ও শিল্পাঞ্চলের জন্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রথম ধাপে জরুরি পণ্য, খাদ্যশস্য, ওষুধ, জ্বালানি ও ত্রাণ পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত সড়কগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা সদর, হাসপাতাল, বন্দর, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কগুলোও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, যেসব স্থানে স্থায়ী সংস্কারে সময় লাগবে, সেখানে অস্থায়ী সংস্কারের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। বর্ষা মৌসুম শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর টেকসই পুনর্নির্মাণকাজ করা হবে।
তিনি বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বন্যার কারণে অনেক এলাকায় কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে বিকল্প সড়ক ব্যবহার, জরুরি মেরামত এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, জরুরি সংস্কারকাজ পরিচালনায় প্রাথমিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলায় সড়ক নির্মাণে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার প্রবণতা বাড়ছে। তাই উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অধিক উচ্চতায় সড়ক নির্মাণ, টেকসই নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত নয়, ভবিষ্যতে যাতে একই স্থানে বারবার ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সেতু ও কালভার্টগুলোর অবস্থাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করতে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে। কোথাও সড়ক বা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ হবে এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) 




















