নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর (বায়োটেক, ইলেকট্রনিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্স) সামিট-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সোয়া ১১টায় ঢাকার নভোথিয়েটারে দুই দিনব্যাপী এ সামিটের উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগে সকাল ১০টায় ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকেও পাঠ করা হয়। ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়ামের ওপর একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
‘বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার দু’দিন ব্যাপী এ সামিটের আয়োজন করে। সামিটের মূল লক্ষ্য- বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্স শিল্পের বর্তমান অবস্থা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ বিশ্ব দরবারে ও গণমাধ্যমে তুলে ধরা।
সামিটে সরকারের নীতিনির্ধারক, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের শীর্ষ নির্বাহী, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তাঁরা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক কৌশল প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। এতে গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যানডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্স অ্যান্ড পার্টনারশিপের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সামিটের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬। এতে মোট ৩৫টি স্টলে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম এবং অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, আইসিটি বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন, সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) সভাপতি এম এ জাব্বার, বিশেষ বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন পারড্যু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সিলিকন রিভার ইনিশিয়েটিভের চিফ আর্কিটেক্ট প্রফেসর মুহাম্মদ মোস্তফা হুসাইন।
২৬ জুলাই সামিটের দ্বিতীয় ও সমাপনী অনুষ্ঠানে আয়োজিত হবে ক্রিস্টে ফেলো রিসার্চ সিম্পোজিয়াম। এতে দেশের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর গবেষকরা তাঁদের গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি আটটি কৌশলগত জাতীয় দলিল প্রকাশ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে সেমিকন্ডাক্টর সুপারিশমালা, ট্যালেন্ট রোডম্যাপ ২০৩০, ইকোসিস্টেম রোডম্যাপ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব কাঠামো, ডিপ-টেক অগ্রাধিকার খাত ও বাণিজ্যিকীকরণ কাঠামো।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এসব দলিল বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক খাতের দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরিতে দিকনির্দেশনা দেবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















