নিজস্ব প্রতিবেদক :
আগামী ৩ মে থেকে ধান, চাল ও গম সংগ্রহ করবে সরকার। চলতি বোরো মৌসুমের ১৮ লাখ টন ধান-চাল ও ৫০ হাজার গম সংগ্রহ শুরু করবে হবে। এ সংগ্রহ চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এ বছর প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে বোরো ধান, ৪৯ টাকা দরে সিদ্ধ চাল, ৪৮ টাকা দরে আতব চাল এবং ৩৬ টাকা দরে গম কেনা হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এবার এফপিএমসি সভা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৩ মে থেকে এই ধান, চাল ও গম সংগ্রহ শুরু করা হবে, যা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। চলতি বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহের মূল্য আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা। সিদ্ধ চালের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ৪৯ টাকা এবং আতপ চালের ক্ষেত্রে ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ সালের সংগ্রহ মৌসুমে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ হাজার মেট্রিক টন, যদিও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও কৃষকদের অনাগ্রহের কারণে গম সংগ্রহে অতীতে তেমন সাফল্য পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, দেশে মোট খাদ্যশস্যের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন গড়ে ৭০-৭২ লাখ মেট্রিক টন। বাকি চাহিদা পূরণে সরকার প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি করে, যা সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তি অথবা উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের নিরাপদ খাদ্য মজুদের পরিমাণ ১৩ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সবসময় বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে দেশে মোট খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন।
সরকার আগামীতে খাদ্য মজুদ বাড়িয়ে ২৪ থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ লক্ষ্যে চলতি মৌসুমে সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি ও চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মজুদের লক্ষ্যমাত্রা সমন্বয় করা হবে, যাতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখা যায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















