নিজস্ব প্রতিবেদক :
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তলানিতে থাকা অর্থনীতিকে তুলে ধরতে বড় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ কারণেই বড় বাজেট দিচ্ছে সরকার।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায়’ তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, ধসে যাওয়া ব্যাংকিং খাত আর শেয়ার বাজার হাতে পেয়েছে বিএনপি সরকার। তবে পরিস্থিতির উন্নয়নে সকল ব্যবসায়িক বাধা দূর করতে কাজ চলছে। রপ্তানি বেগবান করতে গার্মেন্টসের মতো বাকি সম্ভাবনাময় খাতেও সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে।
মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণাতেই সরকার পরিচালিত হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিখাতের উন্নয়নের মাধ্যমেই অর্থনীতিকে টেনে তোলা হবে। যেকোনো সম্ভাবনাময় রফতানি খাতকেই তৈরি পোশাক শিল্পের মতো সরকারি সহায়তা দেবে সরকার।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু আর বর্তমান বাস্তবতায় জ্বালানি খাতে বাড়তি ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। আইএমএফ ওয়ার্ল্ড ব্যাংককে বাংলাদেশ জানিয়েছে এমন পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত দুই বছরের কুশন দরকার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির কঠিন সময়ে সব ক্ষেত্রে করের সুবিধা দিতে পারবে না সরকার, তবে ব্যবসা সহজ করতে আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। ব্যবসার ক্ষেত্রে সব বাধা দূর করা হবে।
বিগত সরকার বিদ্যুতের ৪০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জ্বালানি খাতে ৪ বিলিয়ন ডলার বেশি খরচ করেছে সরকার।
খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান অবস্থায় দেশের অর্থনীতিকে শক্তভাবে এগিয়ে নিতে আগামী দুই বছর বিশেষ ‘পুশ অন’ প্রয়োজন হবে। তৃতীয় বছরে গিয়ে অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে চলতে শুরু করবে। একই বার্তা তিনি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফকে দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব ধরনের বাধা ধীরে ধীরে দূর করা হবে। প্রাইভেট সেক্টরের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা হবে। সরকার ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো বুঝতে পারছে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করছে।
তিনি বলেন, আমরা মাত্র দুই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। এই অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। প্রাইভেট সেক্টরই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তাই তাদের সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিচ্ছি। বর্তমানে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত ভালো করছে, তবে অন্যান্য খাত কেন পিছিয়ে রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরো বলেন, বড় ব্যবসায়ীরা মূলধন সংকটে ভুগছেন—এ বিষয়টি আমি আইএফএম, বিশ্বব্যাংকে জানিয়েছি। ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ উন্নয়নে কাজ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতকে পোশাক খাতের মতো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ব্যবসা করতে যত বাধা আছে, আমরা সব বাধা সরিয়ে দিতে চাই। প্রাইভেট সেক্টরের প্রবৃদ্ধিই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে।
বাংলাদেশের স্বর্ণ ব্যবসা খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিও বলেন, সঠিক নীতি, আধুনিক সুবিধা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাতকে সাদা অর্থনীতির আওতায় এনে বড় রপ্তানি খাতে পরিণত করা সম্ভব। আগামী দিনে এ খাত থেকে বছরে ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার আয় করা যেতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা দক্ষ হাতে রয়েছে এবং সরকার ব্যবসাবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে। আগামী দিনে এর ইতিবাচক ফল ব্যবসায়ীরা দেখতে পাবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার একটি প্রতিকূল সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আগামী বাজেটে বেসরকারি খাতের প্রস্তাবনা কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করা এখন অত্যন্ত জরুরি। এটি শুধু অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং সামগ্রিক জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গেও জড়িত।
তিনি বলেন, বর্তমানে বেসরকারি খাতের অনেক শিল্পখাত সংকটের মুখে রয়েছে। এসব খাতকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদহার, ব্যাংক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং লজিস্টিক সমস্যার মতো বড় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে।
ট্যাক্স ও ডিউটির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ব্যবসায়ীরা এগিয়ে গেলে দেশের অর্থনীতিও এগিয়ে যাবে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কর প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসায়ীরা টিকে থাকলে এবং প্রবৃদ্ধি অর্জন করলে দেশও এগিয়ে যাবে। অর্থমন্ত্রীও ব্যবসায়ীদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। আগামী বাজেট প্রণয়নে ট্যাক্স ও ডিউটির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের জন্য যতটা সম্ভব সহায়ক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, যেসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা জটিল বিধিনিষেধ রয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে সমাধান করা হবে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া সমস্যাগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আবদুর রহমান খান বলেন, রাজস্ব কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে এনবিআর কাজ করছে। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তারা যেন সহজে কর ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও এফবিসিসিআই প্রশাসক আব্দুর রহিম খানের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এতে শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















