নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব পদক্ষেপের কথা বলেন। সংসদ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন। কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম প্রশ্ন রাখেন রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীন সিটি রূপে গড়ে তুলতে সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কি না?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীন সিটি রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনসমূহ (বর্জ্য ফেলার স্থান) আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন সচেতনতামূলক গ্রাফিতি কাজ অন্তর্ভুক্ত করে পরিবেশসম্মতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানসমূহ সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক কোরিয়া ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সকল বর্জ্যকে জিরো বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) উন্মুক্ত মিডিয়ান জিরো সয়েল/সবুজে আবৃত করা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় আগামী ৫ বছরে ০৫ লক্ষ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশে (মিরপুর-১২ হতে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (আব্দুল্লাহপুর হতে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশের) নীচে খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে।
রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ঢাকার বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎসসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন, কনস্ট্রাকশন কার্যক্রম ও নির্মাণ সামগ্রী দ্বারা বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার চারদিকে অবস্থিত অবৈধ দূষণকারী ইটভাটাসমূহ বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অধিকন্তু ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে এবং উক্ত এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো ইত্যাদি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
‘ঢাকা ও আশেপাশের নদী, খাল ও জলাশয় দূষণরোধে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে ইটিপি (ঊভভষঁবহঃ ঞৎবধঃসবহঃ চষধহঃ) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অদ্যাবধি ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের তরল বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্থাপিত ইটিপির রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য আইপি ক্যামেরা স্থাপন চলমান রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদীর দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে ঢাকা মহানগরে প্রবাহিত ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা উত্তর/দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে যৌথভাবে রাস্তার মিডিয়ান, ইউলুপ, পন্ডিং এরিয়া এবং খালের পাড়সমূহে বৃক্ষরোপণ এবং জিরো সয়েল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির ৪১ হাজার ৫শত ৬৫টি ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা শহরের দূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রজাতির লতা, গুল্ম ও ঘাস দ্বারা মাটি আবৃত করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীন সিটি রূপে গড়ে তুলতে বনায়নযোগ্য খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ সকল কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে নারী ও শিশুরা হবে টেকসই উন্নয়নের সমঅংশীদার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। নারী ও শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- গরিব অসচ্ছল, সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের সাধনের লক্ষ্যে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রম; গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন পুষ্টি এবং শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি; মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি; নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের লক্ষ্যে জয়িতা ফাউন্ডেশন পরিচালনা ইত্যাদি।
তিনি বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে বিভিন্ন আইন এবং বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল টোল ফ্রি হেল্প লাইন, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেল, ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরী, ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসূচিতে প্রসবপূর্ব এবং প্রসব পরবর্তী সেবা অন্তর্ভুক্ত করা, টিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মানসম্মত প্রশিক্ষণ, নগদ সহায়তার সঙ্গে জীবিকা সহায়তা যুক্ত করে, শহর ও গ্রামাঞ্চলের জন্য পৃথক গ্রাজুয়েশনভিত্তিক মডেল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অধিকসংখ্যক নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও নারীদের জন্য বিপণন নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এরইমধ্যে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলা এবং ৩টি সিটি কর্পোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের নারী প্রধানকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, শিশুরা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। শিশুর বিকাশ ও কল্যাণে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ; জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা আয়োজন; শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ, দরিদ্র ও দুস্থ শিশুদের প্রাক্-প্রাথমিক ও শিশু বিকাশ কর্মসূচি; অটিজম বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম; পরিবেশ সংরক্ষণসহ শিশু স্বার্থ সংরক্ষণে নানাবিধ দায়িত্ব পালন করে আসছে। পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় ২টি আবাসিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বর্তমানে ১৫১ জন শিশুকে আবাসিক ব্যবস্থা, খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়াও এ কার্যক্রমের আওতায় ৯টি আউটরিচ স্কুল রয়েছে। কর্মজীবী মায়েদের ৬ মাস হতে ৬ বছর বয়সের শিশুদের দেখভালের জন্য মোট ৬৪টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব দিবাযত্ন কেন্দ্রে সুষম খাবার প্রদান, প্রাক-স্কুল শিক্ষা প্রদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা করা হয় এবং ইনডোর খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। নারীদের কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র (ডে-কেয়ার) স্থাপনের পাশাপাশি, গার্মেন্টসসহ সব শিল্প কারখানা, অফিস ও আদালতে কর্মরত মায়েদের জন্য ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ স্থাপনের বিষয়ে নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষত নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততার ঝুঁকি প্রশমন ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং জীবিকার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জেন্ডার রেসপন্সিভ ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় (খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা এবং সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলা) বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ৪৩ হাজার নারীকে জীবিকা সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, ১৩ হাজার ৩০৮টি পরিবারভিত্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয়েছে এবং উপকারভোগীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৩ হাজার লিটার বিশিষ্ট আরো ২ হাজার পরিবারভিত্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এ অর্থবছরে আরো ১০ খানাবিশিষ্ট ৬৫৮টি কমিউনিটিভিত্তিক রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপনের কাজও চলমান আছে।
সংসদ সদস্য আমির এজাজ খানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় জেলা খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা ভয়াবহ নদী ভাঙনের ঝুঁকি সম্পর্কে সরকার অবগত। দাকোপ উপজেলায় ৬০-এর দশকে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। বেড়িবাঁধটি নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে সময়ে সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলাবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী ভাঙন রোধকল্পে সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
খুলনা জেলায় দাকোপ উপজেলায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নদী ভাঙন রোধে ‘ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এনহেন্সমেন্ট প্রজেক্ট’- এর আওতায় বটবুনিয়া, খলিশা, গাইনবাড়ি এবং ঝালবুনিয়া নামক স্থানে স্থায়ী নদী তীর ও বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ জুন, ২০২৭ এ শেষ হবে।
এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার ‘উপকূলীয় পোল্ডার নং ৩১ এর পুনর্বাসন’ প্রকল্পটির প্রকল্প দলিল বর্তমানে যাচাই বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দাকোপ উপজেলাবাসী ভয়াবহ নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। ভয়াবহ নদী ভাঙনের হাত থেকে দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলাবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে এরইমধ্যে জরুরি আপদকালীন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই দাকোপ এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো বাস্তবতার আলোকে সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এ লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙনপ্রবণ স্থানগুলো নিয়মিত তদারকি করা এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুততার সঙ্গে সংস্কার কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মো. হাফিজ ইব্রাহিমের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দেশের ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ও অসহায় পরিবারের জন্য টেকসই বাসস্থান এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার বদ্ধপরিকর। এর আগে ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় ‘আবাসন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল সমগ্র বাংলাদেশে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ও দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসন করা। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে ৬৫ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।
তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ভূমিহীন, গৃহহীন, ঠিকানাহীন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙনের ফলে দুর্গত পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য বর্তমানে ‘গুচ্ছগ্রাম-৩ পর্যায় প্রকল্প’ গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ দেশের জেলা/উপজেলা পর্যায়ে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষদের জন্য সুপরিকল্পিত আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে থাকে।
সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিল উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারা দেশে মোট ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। তার মধ্যে ২৩টি মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যা ও তদূর্ধ্ব হাসপাতালের কার্যক্রম চলমান আছে। বর্তমানে ৮টি মেডিকেল কলেজের (যশোর, পাবনা, কক্সবাজার, নোয়াখালী, রাঙামাটি, সুনামগঞ্জ, পটুয়াখালি ও জামালপুর) সঙ্গে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া মাগুরা, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং নওগাঁ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে ডিপিপি প্রণয়নের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে; বাকি ২টি (চাঁদপুর ও নীলফামারী) মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এই উপলব্ধি থেকে প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পরপরই জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার প্রচেষ্টায় অব্যাহত রেখেছেন। রাজধানী ঢাকা নাগরিক সমস্যার সমাধানের জন্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আমার সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চাই, জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ ও বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকামুখী মানুষের স্রোত কমানোসহ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দিতে আপনার সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কিনা এবং করলে তা কী?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন এটির পদক্ষেপটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ। আনফরচুনেটলি যেভাবেই হোক আমরা খেয়াল করেছি যে, মানুষের সুযোগ সুবিধা সেটি চাকরি বাকরির ক্ষেত্রে হোক, চিকিৎসার ক্ষেত্রে হোক, পড়ালেখার ক্ষেত্রে হোক, বাচ্চাদের সবকিছুই ঢাকা কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে। একদিন দুইদিনে না, এটি বহু বছর ধরে গড়ে উঠেছে। আনফরচুনেটলি সারা দেশকে ঘিরে এই সুবিধাগুলো আমরা হয়তো সেভাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হইনি এখনও। সে কারণেই স্বাভাবিকভাবে সারা দেশ থেকে মানুষ ঢাকামুখী হয়ে থাকে। সেটি কর্মসংস্থানের সুবিধার জন্য হোক, সন্তানদের লেখাপড়ার জন্যই হোক, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যই হয় না কেন। সেজন্যই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ধীরে ধীরে দেশের সব অংশেই পর্যায়ক্রমিকভাবে এই বেসিক সুবিধাগুলোকে গড়ে তোলা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন শিল্পায়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ শিল্পায়িত অঞ্চল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে আমরা চেষ্টা করছি দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা সেবাও গড়ে তুলতে এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের লেখাপড়ার জন্য ধীরে ধীরে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য। আমরা মনে করি এই সুবিধাগুলো যদি আমরা গড়ে তুলতে পারি তাহলে মানুষ কম উৎসাহিত হবে ঢাকা শহরে আসার জন্য। এর মাধ্যমেই আমরা ধীরে ধীরে ঢাকার উপরে চাপ কমাতে সক্ষম হব বলে আমরা মনে করি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















