নিজস্ব প্রতিবেদক :
শাপলা চত্ত্বর হত্যাযজ্ঞে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই সাংবাদিক গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ করা উচিত না বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে তার কাছে কোনো ধারণা নেই।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩১ মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
শাপলা চত্বরের মামলায় সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখানোয় অ্যামনেস্টিসহ অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছে- সাংবাদিকের এক প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, দুজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আমাদের ট্রাইব্যুনাল। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। তবে অ্যামনেস্টি কি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা আমরা দেখিনি। আমাদের একটি চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না। আইনগত সুযোগও নেই। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার এখতিয়ার। তাদের কাজ করতে দেওয়াই উচিত। এখন কোনো সংস্থা তথা অ্যামনেস্টি হোক, বা হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন হোক, কারও এ বিষয়ে এখন হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না।
এ মামলায় আর কোনো সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের তদন্ত চলমান। আমি আগেও বলেছি, যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদেরই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে আমরা অহেতুক কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করার জন্য বিচারের মুখোমুখি করবো না।
দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে তদন্ত চলছে কিনা প্রত্যক্ষ ধারণা নেই বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত কোনো ধারণা নেই। কোনো তদন্ত চলছে কিনা, তা তদন্ত সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলতে পারবেন। এ নিয়ে আমার প্রত্যক্ষ কোনো ধারণা নেই।
আওয়ামী লীগের তদন্তে তাহলে অগ্রগতি নেই; এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত চলছে কিনা, এমন কোনো ধারণা আমার নেই। এমন কোনো তদন্ত সম্পর্কে জানি না। অতএব যখন জানবো, তখন আপনারাও নিশ্চিত জানতে পারবেন।
এসময় সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এত বছরেও সাগর-রুনির তদন্ত শেষ না হওয়া দুঃখজনক।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি ট্রাইব্যুনালে যোগ দেওয়ার পর ৭টি মামলা পুনরায় তদন্তে পাঠিয়েছেন। যেগুলো ঈদের পর অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন হাইকোর্টে যাতে মামলাটি দ্রুত শেষ হয় সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে।
ঈদের পর তথা আগামী জুনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলার রায় ঘোষণা হবে বলা আশাব্যক্ত করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমাদের ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ২২টি মামলার বিচার চলমান রয়েছে। রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ আছে দুটি মামলা। আশা করি ঈদের পরই এসব মামলার রায় হয়ে যাবে। ৩১টি মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা গুম-খুন এবং ক্রসফায়ারের ১৫০টি মামলার তদন্ত হাতে নিয়েছি। এরই মধ্যে এসব কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নরসিংদী, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, রাজশাহীসহ দেশের যেসব স্থানে সবচেয়ে বেশি হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে, সেসব মামলার তদন্ত আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। এক্ষেত্রে আমরা তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের প্রসিকিউশন টিমকে অন্তর্ভুক্ত করে বিশেষ তদন্তের ব্যবস্থা করেছি। আশা করি খুব দ্রুতই এসব প্রতিবেদন দিয়ে আমরা বিচারের পর্যায়ে নিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















