জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি :
জয়পুরহাট জেলা শহরের জানিয়ার বাগান মহল্লার একটি বাসার পঞ্চম তলা ফ্ল্যাট থেকে সাজেদা ইসলাম নামে এক গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডের প্রায় চার বছর পর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জয়পুরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ হাসিবুল হক এ রায় দেন। এ সময় সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর পুলিশের পাহারায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- জয়পুরহাট সদর উপজেলার খঞ্জনপুর এলাকার আনিছুর রহমানের ছেলে আবু সাঈদ (২৭) ও একই এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে রাব্বী হোসেন (২৮)।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাজেদা ইসলাম পাঁচবিবি উপজেলার আয়ামারসূলপুর গ্রামের হাফিজুল ইসলামের স্ত্রী। সাজেদার স্বামী সিলেটের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সাজেদা তার ছোট মেয়ে উম্মে আরিফাকে নিয়ে জেলা শহরের জানিয়ার বাগান এলাকার একটি ভাড়া বাসার পঞ্চম তলায় বসবাস করতেন।
২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে ছোট মেয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিতে যায়। দুপুর দেড়টার পর সে বাসায় ফিরে দরজা খোলা দেখতে পায়। মায়ের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে গোসলখানায় গিয়ে মুখে স্কচটেপ লাগানো, গলায় ওড়না বাঁধানো ও হাত বাঁধা অবস্থায় মায়ের মরদেহ দেখতে পায়। পরে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা থানায় খবর দিলে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
সাজেদার মেয়ের স্কুলে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন আবু সাঈদ। স্কুলে যাওয়া-আসার সূত্রে সাজেদার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। পুলিশের ভাষ্য, ওই সম্পর্কের জের ধরে আবু সাঈদ ও রাব্বী হোসেন সাজেদাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা সাজেদার মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে, হাত বেঁধে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ঘটনার দুই দিন পর ২৯ সেপ্টেম্বর নিহতের স্বামী হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিয়াউর রহমান ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আজ আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।
আদালতে মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনা করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নূর-ই আলম সিদ্দিক। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী রফিকুল ইসলাম তালুকদার তরুণ ও মামুনুর রশীদ।
জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি 
























