Dhaka বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই থেকে পাইলট প্রকল্প আকারে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস-ব্যাগ-জুতা বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জুলাই থেকে পাইলট প্রকল্প আকারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে দেশব্যাপী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে পরবর্তীতে সব উপজেলার সব শিক্ষার্থীর কাছে এসব সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে। পরবর্তীতে মাদরাসা, হাইস্কুল এ উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত হবে।

তিনি বলেন, বিজিএমইএ এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য ড্রেস, ব্যাগ, জুতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনও বিভিন্ন পরিমাণে দেবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আজকের সভায় আমাদের ব্যবসায়ীরা ছিলেন। বিজিএমইএ আমাদের এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য পোশাক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরকম আরও সহযোগিতা পেলে আমরা সব শিক্ষার্থীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্কুল ড্রেস দিতে পারবো।

কবে থেকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু হবে এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জুলাই থেকে এটা শুরু করবো। এটা পাইলট প্রোগ্রাম। প্রথমে আটটি বিভাগেরই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর আমরা ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলো ইনক্লুড করবো।’

বেসরকারি বিদ্যালয়ে দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নে এহছানুল হক মিলন বলেন, আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ী পাবে। এরপর আমরা বেসরকারি বিদ্যালয়ের দিকে যাবো। আর প্রাথমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলো শেষ করার পর মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়ে পোশাক বিতরণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থী এক শ্রেণিতে এক সেট পোশাক পাবে। এটা পাইলট প্রোগ্রামের সিদ্ধান্ত। পরবর্তীতে আমরা দেখবো আমাদের সক্ষমতা কতটা বাড়ে; আমরা আরও বেশি দিতে পারি কি না। তবে প্রথমে এক সেট করে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়া হবে।

পোশাক কেমন হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোশাক একই রকম হবে। ছেলেদের পোশাক এক রকম, আর মেয়েদের এক রকম হবে। আবার ইবতেদায়ীর পোশাক কিছুটা ভিন্ন হবে। কেমন রঙের হবে, সেটাও আমরা ঠিক করেছি। এটা শিগগির জানানো হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের কাজটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় করবে। কিন্তু এতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যুক্ত থাকবে। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো এবং শিক্ষাকে এগিয়ে নেবো।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটির আওতায় অনেক উদ্যোক্তা ইতোমধ্যেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চলতি বছরে এটি পাইলট আকারে শুরু হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে বড় আকারে শুরু হবে। ক্রমেই প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, সারা দেশে ছেলে শিক্ষার্থীরা এক কালারের ব্যাগ, জামা ও জুতা পাবে। একইসঙ্গে সব মেয়েরা পাবে একই ধরনের জামা, জুতা ও ব্যাগ। এর কোনো ব্যতয় হবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পড়াশোনা করেন, বিনামূল্যে বই পান, মিড ডে মিল পান, এখন থেকে শিক্ষার্থীরা জামা, জুতা, পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ পাবে। অভিভাবকরা নিশ্চিন্ত থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পেছনে কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। আমরা একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলতে চাই—সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য একই ডিজাইন ও একই রঙের ড্রেস, একই ধরনের ব্যাগ এবং একই ধরনের জুতা প্রদান করা হবে। এতে সমতা ও শৃঙ্খলার একটি সুন্দর বার্তা প্রতিষ্ঠিত হবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একটি অসহায় পরিবারের শিশুর জন্য শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে আর কোনো আর্থিক বাধা থাকবে না। বই, খাবার, পোশাক—সবকিছুই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হবে। এটি শুধু একটি সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং আমাদের সংবিধান প্রদত্ত শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং বিজিএমইএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

আবহাওয়া

সার্ককে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিকে আরো শক্তিশালী করা সম্ভব : নজরুল ইসলাম খান

জুলাই থেকে পাইলট প্রকল্প আকারে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস-ব্যাগ-জুতা বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:১৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জুলাই থেকে পাইলট প্রকল্প আকারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে দেশব্যাপী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে পরবর্তীতে সব উপজেলার সব শিক্ষার্থীর কাছে এসব সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে। পরবর্তীতে মাদরাসা, হাইস্কুল এ উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত হবে।

তিনি বলেন, বিজিএমইএ এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য ড্রেস, ব্যাগ, জুতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনও বিভিন্ন পরিমাণে দেবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আজকের সভায় আমাদের ব্যবসায়ীরা ছিলেন। বিজিএমইএ আমাদের এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য পোশাক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরকম আরও সহযোগিতা পেলে আমরা সব শিক্ষার্থীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্কুল ড্রেস দিতে পারবো।

কবে থেকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু হবে এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জুলাই থেকে এটা শুরু করবো। এটা পাইলট প্রোগ্রাম। প্রথমে আটটি বিভাগেরই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর আমরা ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলো ইনক্লুড করবো।’

বেসরকারি বিদ্যালয়ে দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নে এহছানুল হক মিলন বলেন, আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ী পাবে। এরপর আমরা বেসরকারি বিদ্যালয়ের দিকে যাবো। আর প্রাথমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলো শেষ করার পর মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়ে পোশাক বিতরণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থী এক শ্রেণিতে এক সেট পোশাক পাবে। এটা পাইলট প্রোগ্রামের সিদ্ধান্ত। পরবর্তীতে আমরা দেখবো আমাদের সক্ষমতা কতটা বাড়ে; আমরা আরও বেশি দিতে পারি কি না। তবে প্রথমে এক সেট করে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়া হবে।

পোশাক কেমন হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোশাক একই রকম হবে। ছেলেদের পোশাক এক রকম, আর মেয়েদের এক রকম হবে। আবার ইবতেদায়ীর পোশাক কিছুটা ভিন্ন হবে। কেমন রঙের হবে, সেটাও আমরা ঠিক করেছি। এটা শিগগির জানানো হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের কাজটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় করবে। কিন্তু এতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যুক্ত থাকবে। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো এবং শিক্ষাকে এগিয়ে নেবো।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটির আওতায় অনেক উদ্যোক্তা ইতোমধ্যেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চলতি বছরে এটি পাইলট আকারে শুরু হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে বড় আকারে শুরু হবে। ক্রমেই প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, সারা দেশে ছেলে শিক্ষার্থীরা এক কালারের ব্যাগ, জামা ও জুতা পাবে। একইসঙ্গে সব মেয়েরা পাবে একই ধরনের জামা, জুতা ও ব্যাগ। এর কোনো ব্যতয় হবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পড়াশোনা করেন, বিনামূল্যে বই পান, মিড ডে মিল পান, এখন থেকে শিক্ষার্থীরা জামা, জুতা, পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ পাবে। অভিভাবকরা নিশ্চিন্ত থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পেছনে কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। আমরা একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলতে চাই—সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য একই ডিজাইন ও একই রঙের ড্রেস, একই ধরনের ব্যাগ এবং একই ধরনের জুতা প্রদান করা হবে। এতে সমতা ও শৃঙ্খলার একটি সুন্দর বার্তা প্রতিষ্ঠিত হবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একটি অসহায় পরিবারের শিশুর জন্য শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে আর কোনো আর্থিক বাধা থাকবে না। বই, খাবার, পোশাক—সবকিছুই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হবে। এটি শুধু একটি সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং আমাদের সংবিধান প্রদত্ত শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং বিজিএমইএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।