Dhaka শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি : 

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে যেটি বড় ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদের সময়ে মানবতা, মানবিকতা এবং দেশের আবহমান কালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে একেবারেই বিনষ্ট করে দেয়া হয়েছে। ঢাকার মিরপুরে একটি নিষ্পাপ মেয়ের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ মিলেছে।

তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়ে আজকের অনুষ্ঠানে আমি পরিষ্কারভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এ ধরণের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বর্তমান সরকার রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।

এ সর্বোচ্চ শাস্তির কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি, মানুষ এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতন করার সাহস না পায়। একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদেরকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমান কালের ধর্মীয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম প্রাসঙ্গিক।

May be an image of one or more people, dais and text

কাজী নজরুল ইসলাম মানেই বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ভোরের উদয় বলে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন-সংগ্রাম, সাহিত্য-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য, তার রচনার মাঝে মহিমাময় সৌন্দর্য নিয়ে বাক্সময় হয়েছে।

তিনি বলেন, বিপ্লব-বিদ্রোহ কিংবা রণসংগীত, ইসলামী মূল্যবোধের গান অথবা ভজন, কীর্তন কিংবা শ্যামাসংগীত, প্রেম প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ, কৈশোরের আনন্দ কিংবা যৌবনের উন্মাদনা প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল ইসলাম আমাদের সত্য প্রকাশ। কাজী নজরুল ইসলাম মানেই বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ভোরের উদয়। বাংলা সাহিত্যের এক নতুন রুচির বিপ্লব। তিনি ছিলেন নারী অধিকার, মেহনতি মানুষের কল্যাণ আর অসাম্প্রদায়িক বিশ্ব মানবতার এক অনন্য ফেরিওয়ালা। এই মহাকবি বাংলাদেশের আবহমান কালের চির যৌবনের প্রতীক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জীবন ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন শুধুমাত্র দেশের মানুষের অধিকার ও অর্থসম্পদই লুট করেনি; বিচার বিভাগসহ দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সবচেয়ে যেটি বড় ক্ষতি হয়েছে- বিশেষ করে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদের সময়ে মানবতা, মানবিকতা এবং দেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে একেবারে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

May be an image of one or more people, dais and text that says '۱٩٩٩٩ ឯ জয জর৪ 8 お8 উবদারন' や ২৩মে২০২৬ ২৩ মে ২০২৬ তিথি জনাব こ মাননীয় প্রধানয় হমান এমপি বাংলাদেশ সরক সি'

তারেক রহমান বলেন, আগামী দুই দিন পর বাংলাদেশের জনগণের পরমপ্রিয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবাষির্কী। তার স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা। কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাকে স্মরণ করছি। ২০০৬ সালের পর জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হয়নি। প্রায় দুই দশক পর আজ পুনরায় রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী আয়োজন করতে পেরে সরকার গৌরব বোধ করছে। এ অনুষ্ঠানে আমি একজন মানুষকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই, তিনি ছিলেন মরহুম দারোগা রফিজ উল্লাহ। এ মানুষটি ত্রিশালে কাজীর সিমলা গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন কবিকে।

জাতীয়ি কবির প্রতি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা থাকার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়ত জানেন না, ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে বহন করেছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালের ২৫ মে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির মাজার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

May be an image of dais and text

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন,পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।

তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম মানেই বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ভোরের উদয়। বাংলা সাহিত্যের এক নতুন রুচির বিপ্লব।তিনিই কবিতায় এনেছেন যুদ্ধের গর্জন, কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন রাষ্ট্রীয় ও আত্মিক স্বাধীনতার বজ্রনিনাদ। তিনি ছিলেন নারী অধিকার, মেহনতি মানুষের কল্যাণ আর অসাম্প্রদায়িক বিশ্বমানবতার এক অনন্য ফেরিওয়ালা। এই মহাকবি বাংলাদেশের আবহমান কালের সংস্কৃতির চিরযৌবনের প্রতীক হয়ে আমাদের হৃদয়ে জাগরুক হয়ে আছেন, থাকবেন।

কবি নজরুলের জীবন এবং কর্ম বর্তমান সময়ে প্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে আরো বেশি ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তার জীবনবোধ, তার জীবন দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্ম পৌঁছে দিতে হবে। এরই অংশ হিসেবে আমাদের জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণা দেয়া যায় কিনা, এ ব্যাপারে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাই।

কবির বাল্যস্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালের দড়িরামপুরের নজরুল একাডেমি মাঠের নজরুল মঞ্চে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তিনদিনের এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

May be an image of ‎dais and ‎text that says "‎১২গকজ ស জস্ঠ 8งง প্রধান S ه ብ জনাব তারেব মাননীয় প্রধনম্তী, গণপ্প আয়োন ১২৭তম ১২৭তম ማጽኝይ বষকা বাষকা দখাপন দ্রোহের কবਿ, দ্লোহেরকবি,প্রাণের প্রাণের‎"‎‎

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা, জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুর রহমান শিবলী, ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কবিপৌত্রী খিলখিল কাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিখ মনজুর এবং জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে কবি নজরুল নিয়ে গবেষণা ও কবির জীবন-দর্শন নিয়ে অবদান রাখায় দুজনের হাতে নজরুল পদক ও সন্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

নজরুল স্মরনিকার মোড়ক উন্মোচনও করেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী অতিথিদের সারিতে বসে নজরুল ইসলামের স্মরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

আবহাওয়া

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৯:১১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি : 

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে যেটি বড় ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদের সময়ে মানবতা, মানবিকতা এবং দেশের আবহমান কালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে একেবারেই বিনষ্ট করে দেয়া হয়েছে। ঢাকার মিরপুরে একটি নিষ্পাপ মেয়ের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ মিলেছে।

তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়ে আজকের অনুষ্ঠানে আমি পরিষ্কারভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এ ধরণের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বর্তমান সরকার রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।

এ সর্বোচ্চ শাস্তির কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি, মানুষ এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতন করার সাহস না পায়। একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদেরকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমান কালের ধর্মীয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম প্রাসঙ্গিক।

May be an image of one or more people, dais and text

কাজী নজরুল ইসলাম মানেই বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ভোরের উদয় বলে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন-সংগ্রাম, সাহিত্য-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য, তার রচনার মাঝে মহিমাময় সৌন্দর্য নিয়ে বাক্সময় হয়েছে।

তিনি বলেন, বিপ্লব-বিদ্রোহ কিংবা রণসংগীত, ইসলামী মূল্যবোধের গান অথবা ভজন, কীর্তন কিংবা শ্যামাসংগীত, প্রেম প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ, কৈশোরের আনন্দ কিংবা যৌবনের উন্মাদনা প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল ইসলাম আমাদের সত্য প্রকাশ। কাজী নজরুল ইসলাম মানেই বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ভোরের উদয়। বাংলা সাহিত্যের এক নতুন রুচির বিপ্লব। তিনি ছিলেন নারী অধিকার, মেহনতি মানুষের কল্যাণ আর অসাম্প্রদায়িক বিশ্ব মানবতার এক অনন্য ফেরিওয়ালা। এই মহাকবি বাংলাদেশের আবহমান কালের চির যৌবনের প্রতীক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জীবন ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন শুধুমাত্র দেশের মানুষের অধিকার ও অর্থসম্পদই লুট করেনি; বিচার বিভাগসহ দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সবচেয়ে যেটি বড় ক্ষতি হয়েছে- বিশেষ করে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদের সময়ে মানবতা, মানবিকতা এবং দেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে একেবারে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

May be an image of one or more people, dais and text that says '۱٩٩٩٩ ឯ জয জর৪ 8 お8 উবদারন' や ২৩মে২০২৬ ২৩ মে ২০২৬ তিথি জনাব こ মাননীয় প্রধানয় হমান এমপি বাংলাদেশ সরক সি'

তারেক রহমান বলেন, আগামী দুই দিন পর বাংলাদেশের জনগণের পরমপ্রিয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবাষির্কী। তার স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা। কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাকে স্মরণ করছি। ২০০৬ সালের পর জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হয়নি। প্রায় দুই দশক পর আজ পুনরায় রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী আয়োজন করতে পেরে সরকার গৌরব বোধ করছে। এ অনুষ্ঠানে আমি একজন মানুষকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই, তিনি ছিলেন মরহুম দারোগা রফিজ উল্লাহ। এ মানুষটি ত্রিশালে কাজীর সিমলা গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন কবিকে।

জাতীয়ি কবির প্রতি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা থাকার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়ত জানেন না, ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে বহন করেছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালের ২৫ মে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির মাজার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

May be an image of dais and text

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন,পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।

তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম মানেই বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ভোরের উদয়। বাংলা সাহিত্যের এক নতুন রুচির বিপ্লব।তিনিই কবিতায় এনেছেন যুদ্ধের গর্জন, কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন রাষ্ট্রীয় ও আত্মিক স্বাধীনতার বজ্রনিনাদ। তিনি ছিলেন নারী অধিকার, মেহনতি মানুষের কল্যাণ আর অসাম্প্রদায়িক বিশ্বমানবতার এক অনন্য ফেরিওয়ালা। এই মহাকবি বাংলাদেশের আবহমান কালের সংস্কৃতির চিরযৌবনের প্রতীক হয়ে আমাদের হৃদয়ে জাগরুক হয়ে আছেন, থাকবেন।

কবি নজরুলের জীবন এবং কর্ম বর্তমান সময়ে প্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে আরো বেশি ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তার জীবনবোধ, তার জীবন দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্ম পৌঁছে দিতে হবে। এরই অংশ হিসেবে আমাদের জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণা দেয়া যায় কিনা, এ ব্যাপারে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাই।

কবির বাল্যস্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালের দড়িরামপুরের নজরুল একাডেমি মাঠের নজরুল মঞ্চে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তিনদিনের এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

May be an image of ‎dais and ‎text that says "‎১২গকজ ស জস্ঠ 8งง প্রধান S ه ብ জনাব তারেব মাননীয় প্রধনম্তী, গণপ্প আয়োন ১২৭তম ১২৭তম ማጽኝይ বষকা বাষকা দখাপন দ্রোহের কবਿ, দ্লোহেরকবি,প্রাণের প্রাণের‎"‎‎

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা, জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুর রহমান শিবলী, ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কবিপৌত্রী খিলখিল কাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিখ মনজুর এবং জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে কবি নজরুল নিয়ে গবেষণা ও কবির জীবন-দর্শন নিয়ে অবদান রাখায় দুজনের হাতে নজরুল পদক ও সন্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

নজরুল স্মরনিকার মোড়ক উন্মোচনও করেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী অতিথিদের সারিতে বসে নজরুল ইসলামের স্মরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।