Dhaka রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একনেক সভায় ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উত্থাপিত ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একনেকের ১০ম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয়তা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

ব্রিফিংয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, একনেক সভায় মোট ১৭টি প্রকল্প উত্থাপন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৫টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং অধিকাংশ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। তবে কয়েকটি প্রকল্প শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং কিছু প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশোধন বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের নির্দেশনা রয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় মন্তব্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনার একটি সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী যেসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে বা যেগুলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর প্রাসঙ্গিক নয়, সেগুলো চিহ্নিত করে পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। অনেক প্রকল্প এমন অবস্থায় রয়েছে, যেগুলোর বাস্তব প্রয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

প্রকল্পে ব্যয় সাশ্রয় ও যৌক্তিকতা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশটা খুব স্পষ্ট। সেটা হচ্ছে আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে, ব্যয়ের দিক থেকে। এছাড়া ব্যয়গুলো কোন কোন খাতে হচ্ছে, সেগুলো যৌক্তিকতা যাচাই-বাছাই করা। যে যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেগুলো আসলে কতটা সামগ্রিকভাবে আমাদের জনগণের জীবনে যে উন্নতি চিন্তা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারকে তার যে নির্বাচনী ইশতেহার পরিকল্পনা সবগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য কিনা? এই সব দিকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অত্যন্ত স্পষ্ট। ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হতে হবে, প্রতিটি খাতে ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রকল্পগুলো জনগণের জীবনে বাস্তব উন্নয়ন বয়ে আনবে কিনা তা বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে প্রকল্পগুলোর সামঞ্জস্য থাকতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প প্রস্তাবের ওপর বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ চলছে এবং সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, একদিকে প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা ও যাচাই চলছে, অন্যদিকে উন্নয়ন কার্যক্রমও এগিয়ে নিতে হচ্ছে। ফলে এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করার চেষ্টা করছে সরকার।

জ্বালানি সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে জ্বালানি সংকট বিষয়ে কোনো নির্ধারিত আলোচনা হয়নি।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ একনেকের সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আবহাওয়া

উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রেলকর্মীদের দৈনিক খাবার ভাতা ২৮৫ টাকা

একনেক সভায় ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশের সময় : ০৩:২৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উত্থাপিত ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একনেকের ১০ম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয়তা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

ব্রিফিংয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, একনেক সভায় মোট ১৭টি প্রকল্প উত্থাপন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৫টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং অধিকাংশ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। তবে কয়েকটি প্রকল্প শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং কিছু প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশোধন বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের নির্দেশনা রয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় মন্তব্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনার একটি সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী যেসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে বা যেগুলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর প্রাসঙ্গিক নয়, সেগুলো চিহ্নিত করে পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। অনেক প্রকল্প এমন অবস্থায় রয়েছে, যেগুলোর বাস্তব প্রয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

প্রকল্পে ব্যয় সাশ্রয় ও যৌক্তিকতা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশটা খুব স্পষ্ট। সেটা হচ্ছে আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে, ব্যয়ের দিক থেকে। এছাড়া ব্যয়গুলো কোন কোন খাতে হচ্ছে, সেগুলো যৌক্তিকতা যাচাই-বাছাই করা। যে যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেগুলো আসলে কতটা সামগ্রিকভাবে আমাদের জনগণের জীবনে যে উন্নতি চিন্তা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারকে তার যে নির্বাচনী ইশতেহার পরিকল্পনা সবগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য কিনা? এই সব দিকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অত্যন্ত স্পষ্ট। ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হতে হবে, প্রতিটি খাতে ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রকল্পগুলো জনগণের জীবনে বাস্তব উন্নয়ন বয়ে আনবে কিনা তা বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে প্রকল্পগুলোর সামঞ্জস্য থাকতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প প্রস্তাবের ওপর বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ চলছে এবং সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, একদিকে প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা ও যাচাই চলছে, অন্যদিকে উন্নয়ন কার্যক্রমও এগিয়ে নিতে হচ্ছে। ফলে এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করার চেষ্টা করছে সরকার।

জ্বালানি সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে জ্বালানি সংকট বিষয়ে কোনো নির্ধারিত আলোচনা হয়নি।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ একনেকের সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।