অনিয়ম করলেই ঠিকাদারের টেন্ডার বাতিল : ডিএসসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাসাবাড়ির বর্জ্য অপসারণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অনিয়ম করলে ঠিকাদারদের টেন্ডার বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর শান্তিনগর বাজার এলাকায় ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য যেসব টেন্ডার দেওয়া হয়েছে, সেগুলো নিয়ে অভিযোগ আসছে। তারা নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ করছে না। তাছাড়া অতিরিক্ত অর্থও দাবি করছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, তারা যদি নিয়মমাফিক কাজ না করে এবং জোরজবরদস্তি করে, তাহলে ভবিষ্যতে এই পদ্ধতিতে আর কোনো টেন্ডার দেওয়া হবে না। তাদের টেন্ডার বাতিল করে ভিন্ন মাধ্যমে ময়লা সংগ্রহ করা হবে।

তিনি বলেন, এখনো সময় আছে—তারা যদি নিজেদের সংশোধন করে এবং জনগণ যদি তাদের কাজে সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। অন্যথায় টেন্ডার বাতিল করতে বাধ্য হবো।

নগরবাসীর উদ্দেশে আবদুস সালাম বলেন, বায়ুদূষণে যদি কোনো শহর বিশ্বের প্রথম ১০টির মধ্যে থাকে, তবে তা আমাদের সবার জন্য লজ্জার। তাই নগর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নগরবাসী ও সিটি করপোরেশন উভয়েরই।

তিনি বলেন, শহর পরিষ্কার রাখতে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। গত কয়েক মাসে জনসচেতনতা তৈরিতে আমরা অনেকটা সফল হয়েছি। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে আমরা নগরকে বায়ুদূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।

তিনি আরো বলেন, পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি আমাদের গাছও লাগাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমাদের ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ার বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন। তাই নগরবাসীকে আহ্বান জানাই, আপনারা নিজের ঘর ও আঙিনা পরিষ্কার রাখুন এবং বাড়ির সামনের রাস্তাও পরিষ্কার রাখুন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, মার্কেটগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ নোংরা করা যাবে না।

তিনি বলেন, মার্কেটে নির্দিষ্ট বিন রাখা হবে। সেখান থেকেই আমাদের কর্মীরা ময়লা সংগ্রহ করবেন। নির্ধারিত সময়েই ময়লা ফেলতে হবে, অন্য সময় নয়।

অক্সিজেন গ্রহণের জন্য গাছ রোপণের ওপর জোর দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যার যার বাড়িঘরের সামনের রাস্তা পরিষ্কার রাখতে হবে। মার্কেটগুলো থেকে রাস্তার মাঝখানে আবর্জনা ফেলে যায়। তাদেরকে বিনে ময়লা ফেলতে বলেছি। আমরা সময় নির্ধারণ করে দিয়েছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ময়লা ফেলতে হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে আজ বিভিন্ন জায়গায় হকার বসছে, কিন্তু তারা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করছে না। তাদেরও নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতে হবে।

বাসাবাড়ি থেকে নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, আবার কোথাও কোথাও থেকে অভিযোগ আসছে বেশি টাকা নিচ্ছে। যারা এমনটা করবে আগামীতে তাদের টেন্ডার দিবো না।

ডেঙ্গু নিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে জরিপ করা হয়েছে বলে জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, জরিপে ৬৫ শতাংশ বাসা বাড়িতে লার্ভা পেয়েছি। আমরা নতুন ওষুধ দিচ্ছি। এই নতুন ট্যাবলেট যেই সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দিতে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রস্তুতি নিয়েছি।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, সচিব জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে শান্তিনগর বাজার থেকে একটি র‌্যালি বের হয়, যা ভিআইপি রোডে গিয়ে শেষ হয়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

আওয়ামী লীগ দেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনিয়ম করলেই ঠিকাদারের টেন্ডার বাতিল : ডিএসসিসি প্রশাসক

প্রকাশের সময় : ১২:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাসাবাড়ির বর্জ্য অপসারণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অনিয়ম করলে ঠিকাদারদের টেন্ডার বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর শান্তিনগর বাজার এলাকায় ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য যেসব টেন্ডার দেওয়া হয়েছে, সেগুলো নিয়ে অভিযোগ আসছে। তারা নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ করছে না। তাছাড়া অতিরিক্ত অর্থও দাবি করছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, তারা যদি নিয়মমাফিক কাজ না করে এবং জোরজবরদস্তি করে, তাহলে ভবিষ্যতে এই পদ্ধতিতে আর কোনো টেন্ডার দেওয়া হবে না। তাদের টেন্ডার বাতিল করে ভিন্ন মাধ্যমে ময়লা সংগ্রহ করা হবে।

তিনি বলেন, এখনো সময় আছে—তারা যদি নিজেদের সংশোধন করে এবং জনগণ যদি তাদের কাজে সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। অন্যথায় টেন্ডার বাতিল করতে বাধ্য হবো।

নগরবাসীর উদ্দেশে আবদুস সালাম বলেন, বায়ুদূষণে যদি কোনো শহর বিশ্বের প্রথম ১০টির মধ্যে থাকে, তবে তা আমাদের সবার জন্য লজ্জার। তাই নগর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নগরবাসী ও সিটি করপোরেশন উভয়েরই।

তিনি বলেন, শহর পরিষ্কার রাখতে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। গত কয়েক মাসে জনসচেতনতা তৈরিতে আমরা অনেকটা সফল হয়েছি। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে আমরা নগরকে বায়ুদূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।

তিনি আরো বলেন, পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি আমাদের গাছও লাগাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমাদের ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ার বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন। তাই নগরবাসীকে আহ্বান জানাই, আপনারা নিজের ঘর ও আঙিনা পরিষ্কার রাখুন এবং বাড়ির সামনের রাস্তাও পরিষ্কার রাখুন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, মার্কেটগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ নোংরা করা যাবে না।

তিনি বলেন, মার্কেটে নির্দিষ্ট বিন রাখা হবে। সেখান থেকেই আমাদের কর্মীরা ময়লা সংগ্রহ করবেন। নির্ধারিত সময়েই ময়লা ফেলতে হবে, অন্য সময় নয়।

অক্সিজেন গ্রহণের জন্য গাছ রোপণের ওপর জোর দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যার যার বাড়িঘরের সামনের রাস্তা পরিষ্কার রাখতে হবে। মার্কেটগুলো থেকে রাস্তার মাঝখানে আবর্জনা ফেলে যায়। তাদেরকে বিনে ময়লা ফেলতে বলেছি। আমরা সময় নির্ধারণ করে দিয়েছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ময়লা ফেলতে হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে আজ বিভিন্ন জায়গায় হকার বসছে, কিন্তু তারা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করছে না। তাদেরও নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতে হবে।

বাসাবাড়ি থেকে নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, আবার কোথাও কোথাও থেকে অভিযোগ আসছে বেশি টাকা নিচ্ছে। যারা এমনটা করবে আগামীতে তাদের টেন্ডার দিবো না।

ডেঙ্গু নিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে জরিপ করা হয়েছে বলে জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, জরিপে ৬৫ শতাংশ বাসা বাড়িতে লার্ভা পেয়েছি। আমরা নতুন ওষুধ দিচ্ছি। এই নতুন ট্যাবলেট যেই সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দিতে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রস্তুতি নিয়েছি।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, সচিব জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে শান্তিনগর বাজার থেকে একটি র‌্যালি বের হয়, যা ভিআইপি রোডে গিয়ে শেষ হয়।