১২ কেজি এলপিজির দাম ৩৫৭ টাকা কমে ১,৫২৮ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চলতি জুলাই মাসের জন্য দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১,৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৬.৯৩ টাকা থেকে কমিয়ে ৭৪.৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন দর ঘোষণা করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

নতুন দর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) কমে আসায় এ মূল্য হ্রাস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, জুলাই মাসের জন্য বেসরকারি এলপিজির দাম খুচরা পর্যায়ে ভ্যাটসহ প্রতি কেজি ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জুলাইয়ের সমন্বয়ে ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭০০ টাকা, ১২ দশমিক ৫ কেজির ১ হাজার ৫৯১ টাকা, ১৫ কেজির ১ হাজার ৯১০ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ৭ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ২৯১ টাকা, ২০ কেজির ২ হাজার ৫৪৬ টাকা, ২২ কেজির ২ হাজার ৮০১ টাকা, ২৫ কেজির ৩ হাজার ১৮৩ টাকা, ৩০ কেজির ৩ হাজার ৮১৯ টাকা, ৩৩ কেজির ৪ হাজার ২০১ টাকা, ৩৫ কেজির ৪ হাজার ৪৫৬ টাকা এবং ৪৫ কেজির ৫ হাজার ৭২৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজির দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার ১৭ দিন আগে, ২ এপ্রিল, ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে দাম করা হয়েছিল ১,৭২৭ টাকা। অর্থাৎ, দুই দফায় ১২ কেজি এলপিজির দাম মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর জুন মাসে ১২ কেজির দাম ১,৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১,৮৮৫ টাকা এবং অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৯.৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৮৬.৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে এলপিজি খাতে নজিরবিহীন অরাজকতা চলছে। বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম আদায় করছেন। মার্চ মাসে নির্ধারিত মূল্য ছিল ১,৩৪১ টাকা। তবে বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রির খবরও রেকর্ড করা হয়েছে।

এলপিজি সংকটকে পুঁজি করে একের পর এক সুবিধা দেওয়া হয় আমদানিকারকদের। আমদানি সীমা বাড়ানো, কর কমানো এবং এলসি ঋণ সুবিধার পাশাপাশি ফ্রেইট চার্জও প্রতি টনে ১০৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫০ ডলার করা হয়। শুধু এসব সুবিধাই নয়, আমদানিকারকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঋণে এলসি খোলারও অনুমতি দেওয়া হয়। তারপরও বাজারের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপিজির দর ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন জানানো হয়, সৌদি আরবের কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুযায়ী ভিত্তিমূল্য প্রতি মাসে সমন্বয় করা হবে। আর কমিশন, জাহাজভাড়া, আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কমিশনে পরিবর্তন আনতে হলে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই ঘোষণার পর থেকেই প্রতি মাসে এলপিজির নতুন দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

১২ কেজি এলপিজির দাম ৩৫৭ টাকা কমে ১,৫২৮ টাকা

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চলতি জুলাই মাসের জন্য দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১,৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৬.৯৩ টাকা থেকে কমিয়ে ৭৪.৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন দর ঘোষণা করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

নতুন দর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) কমে আসায় এ মূল্য হ্রাস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, জুলাই মাসের জন্য বেসরকারি এলপিজির দাম খুচরা পর্যায়ে ভ্যাটসহ প্রতি কেজি ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জুলাইয়ের সমন্বয়ে ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭০০ টাকা, ১২ দশমিক ৫ কেজির ১ হাজার ৫৯১ টাকা, ১৫ কেজির ১ হাজার ৯১০ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ৭ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ২৯১ টাকা, ২০ কেজির ২ হাজার ৫৪৬ টাকা, ২২ কেজির ২ হাজার ৮০১ টাকা, ২৫ কেজির ৩ হাজার ১৮৩ টাকা, ৩০ কেজির ৩ হাজার ৮১৯ টাকা, ৩৩ কেজির ৪ হাজার ২০১ টাকা, ৩৫ কেজির ৪ হাজার ৪৫৬ টাকা এবং ৪৫ কেজির ৫ হাজার ৭২৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজির দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার ১৭ দিন আগে, ২ এপ্রিল, ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে দাম করা হয়েছিল ১,৭২৭ টাকা। অর্থাৎ, দুই দফায় ১২ কেজি এলপিজির দাম মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর জুন মাসে ১২ কেজির দাম ১,৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১,৮৮৫ টাকা এবং অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৯.৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৮৬.৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে এলপিজি খাতে নজিরবিহীন অরাজকতা চলছে। বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম আদায় করছেন। মার্চ মাসে নির্ধারিত মূল্য ছিল ১,৩৪১ টাকা। তবে বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রির খবরও রেকর্ড করা হয়েছে।

এলপিজি সংকটকে পুঁজি করে একের পর এক সুবিধা দেওয়া হয় আমদানিকারকদের। আমদানি সীমা বাড়ানো, কর কমানো এবং এলসি ঋণ সুবিধার পাশাপাশি ফ্রেইট চার্জও প্রতি টনে ১০৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫০ ডলার করা হয়। শুধু এসব সুবিধাই নয়, আমদানিকারকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঋণে এলসি খোলারও অনুমতি দেওয়া হয়। তারপরও বাজারের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপিজির দর ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন জানানো হয়, সৌদি আরবের কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুযায়ী ভিত্তিমূল্য প্রতি মাসে সমন্বয় করা হবে। আর কমিশন, জাহাজভাড়া, আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কমিশনে পরিবর্তন আনতে হলে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই ঘোষণার পর থেকেই প্রতি মাসে এলপিজির নতুন দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।