সবাই বলল ওয়েদার ভালো হবে, সেজন্য পরীক্ষা রেখেছি : সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল বলে জানিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সবাই জানিয়েছিলেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে। সে কারণেই পরীক্ষা স্থগিত না করে যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বলেন।

সংসদে স্পিকারের মাধ্যমে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষাটি কিছুটা পেছানোর জন্য অনুরোধ করেছিল, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যে কারণে ঢাকায় আন্দোলনও হয়েছে। এইচএসসির মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যেটার ওপর আগামীতে একটা ছেলে বা মেয়ের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা নির্ভর করে। আর পদার্থবিজ্ঞানের মতো বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের এই দাবি বিবেচনার কী সমস্যা ছিল, কেন পরীক্ষাটি অন্তত একদিন বা দুইদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া গেলো না, তা মন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি।

রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে বন্যার কারণে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। চলমান পরিস্থিতির ওপর সরকার সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছিল এবং ৬৪ জেলার এসপি, আটটি বিভাগীয় কমিশনার, প্রতিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ইউএনওদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। এমনকি আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়। তারা সবাই পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে বলে জানানোর পর, বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি বলেন, পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠে পানি জমে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ডিসির সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। সাময়িক দুর্যোগের কারণে শিক্ষার্থীদের কাপড় ভিজে গেলে বিকল্প কাপড়ের ব্যবস্থা করে এক ঘণ্টা বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করা হয় এবং তাদের পরীক্ষার সময়সীমাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসনকে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে পরীক্ষা বন্ধ বা বিলম্বে নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া ছিল বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

এহছানুল হক মিলন বলেন, সারা দেশের জেলা প্রশাসক ও মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া অন্য কোথাও পরীক্ষা পরিচালনায় বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন মডারেশনের প্রক্রিয়াটি দুই বছর আগে থেকে শুরু করতে হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব পেয়েছে মাত্র চার মাস, ফলে এই প্রশ্নগুলো বিগত সরকারের আমলের মডারেটরদের তৈরি। তবুও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়টি চিহ্নিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মার্জিয়া বেগমের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সাধারণ বা বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের যে দাবি উঠেছে, তা সরকারের ভাবনায় রয়েছে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভেটিংয়ের কাজ চলছে। ইউরোপ ও আমেরিকার পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষায়িত ‘স্কুল অব এগ্রিকালচার’ বা কৃষি অনুষদ গড়ে তোলা হবে, যা এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাবে।

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবর্ষকে সময়োপযোগী করতে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্গঠনের কাজ করছে। এই নতুন পরিকল্পনার আওতায় আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজন করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ধাপে ধাপে শিক্ষাবর্ষের শুরু ও পাবলিক পরীক্ষার মধ্যকার সামঞ্জস্য ফিরবে এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় অপচয় হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। সরকার পর্যায়ক্রমে পাবলিক পরীক্ষাগুলো আরও আগাম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে সংসদের একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষক পদগুলো খুব শিগগিরই পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

খায়রুল কবির খোকন তার প্রশ্নে জানতে চান, বর্তমানে দেশের ৩৪ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে কিনা এবং এই শূন্য পদগুলো কবে নাগাদ পূরণ হবে।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা একটি রিট পিটিশন সম্প্রতি নিষ্পত্তি হয়েছে। আইনি জটিলতা কেটে যাওয়ায় এখন খুব দ্রুতই যোগ্য শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদগুলো পূরণ হয়ে যাবে।

মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, আগের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হতো। তবে নতুন বিধিমালা অনুযায়ী এখন থেকে ৮০ শতাংশ পদই পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। নতুন এই বিধিমালা তৈরির পর মামলাজনিত কারণে এতদিন পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এখন যেহেতু মামলার রায় চলে এসেছে, তাই সম্পূর্ণ নীতিমালা মেনে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে ৮০ শতাংশ পদেই দ্রুত পদোন্নতি দেওয়া হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ সম্পূরক প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা সকলেই উদ্বিগ্ন বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নিয়ে। পরীক্ষা নিয়ে আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে ছিলাম এবং আছি, সারা দিনই এ কাজটি করে থাকি। সেখানে দেখা গিয়েছে, কোনো কোনো কেন্দ্রে পানি উঠে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র সরিয়ে দিয়েছি। স্থানীয় প্রশাসনকে আমরা এ দায়িত্ব দিয়েছি।’

কুমিল্লার পরীক্ষা কেন্দ্রটির উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তা ছাড়া অন্যান্য যেসব জায়গায় পানি উঠেছে, তা তেমন বেশি নয়, গুটি কয়েক। সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র পাল্টানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের যে সুবিধা দেওয়ার, তা হয়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে কাজটি করছি।

মন্ত্রী এহসানুল হক বলেন, যেসব ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের শুধরে দেওয়া আমাদের জন্য বিরাট কাজ নয়। কারণ আমরা অনেক জায়গায় পরীক্ষা বন্ধ করেছি। আমাদের প্রশ্ন সেট রয়েছে। আমরা আবারও পরীক্ষা নেব। আবারও পর্যালোচনা করছি, যদি কোথাও প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার পরে পরীক্ষা দিতে না পারে, সে জরিপ আমাদের কাছে আসলে, প্রয়োজনে আমরা পুনরায় পরীক্ষা নিতে পারি। আমরা চট্টগ্রাম বোর্ডে এ ব্যবস্থা করেছি। সে অবস্থান আমাদের রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের আমরা বঞ্চিত করতে পারি না, বঞ্চিত করব না।’

যশোর-৪ আসনের গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশে কওমি মাদ্রাসা রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার। এসব মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ।

মন্ত্রী আরও জানান, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৬৯ টি, এতে শিক্ষার্থী ৯৯ লাখ ৫৮ হাজার ২৪৬ জন, কিন্ডারগার্টেন ৩২ হাজার ৬৬৩ টি, এতে শিক্ষার্থী ৬০ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ জন। সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে নয় হাজার ২৯৫ টি, সেখানে শিক্ষার্থী প্রায় ১৫ লাখ। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে সাত হাজার ৫২৮ টি, এতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা : শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ৩০ সেপ্টেম্বর

সবাই বলল ওয়েদার ভালো হবে, সেজন্য পরীক্ষা রেখেছি : সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৬:৪২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল বলে জানিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সবাই জানিয়েছিলেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে। সে কারণেই পরীক্ষা স্থগিত না করে যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বলেন।

সংসদে স্পিকারের মাধ্যমে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষাটি কিছুটা পেছানোর জন্য অনুরোধ করেছিল, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যে কারণে ঢাকায় আন্দোলনও হয়েছে। এইচএসসির মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যেটার ওপর আগামীতে একটা ছেলে বা মেয়ের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা নির্ভর করে। আর পদার্থবিজ্ঞানের মতো বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের এই দাবি বিবেচনার কী সমস্যা ছিল, কেন পরীক্ষাটি অন্তত একদিন বা দুইদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া গেলো না, তা মন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি।

রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে বন্যার কারণে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। চলমান পরিস্থিতির ওপর সরকার সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছিল এবং ৬৪ জেলার এসপি, আটটি বিভাগীয় কমিশনার, প্রতিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ইউএনওদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। এমনকি আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়। তারা সবাই পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে বলে জানানোর পর, বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি বলেন, পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠে পানি জমে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ডিসির সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। সাময়িক দুর্যোগের কারণে শিক্ষার্থীদের কাপড় ভিজে গেলে বিকল্প কাপড়ের ব্যবস্থা করে এক ঘণ্টা বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করা হয় এবং তাদের পরীক্ষার সময়সীমাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসনকে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে পরীক্ষা বন্ধ বা বিলম্বে নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া ছিল বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

এহছানুল হক মিলন বলেন, সারা দেশের জেলা প্রশাসক ও মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া অন্য কোথাও পরীক্ষা পরিচালনায় বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন মডারেশনের প্রক্রিয়াটি দুই বছর আগে থেকে শুরু করতে হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব পেয়েছে মাত্র চার মাস, ফলে এই প্রশ্নগুলো বিগত সরকারের আমলের মডারেটরদের তৈরি। তবুও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়টি চিহ্নিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মার্জিয়া বেগমের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সাধারণ বা বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের যে দাবি উঠেছে, তা সরকারের ভাবনায় রয়েছে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভেটিংয়ের কাজ চলছে। ইউরোপ ও আমেরিকার পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষায়িত ‘স্কুল অব এগ্রিকালচার’ বা কৃষি অনুষদ গড়ে তোলা হবে, যা এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাবে।

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবর্ষকে সময়োপযোগী করতে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্গঠনের কাজ করছে। এই নতুন পরিকল্পনার আওতায় আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজন করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ধাপে ধাপে শিক্ষাবর্ষের শুরু ও পাবলিক পরীক্ষার মধ্যকার সামঞ্জস্য ফিরবে এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় অপচয় হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। সরকার পর্যায়ক্রমে পাবলিক পরীক্ষাগুলো আরও আগাম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে সংসদের একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষক পদগুলো খুব শিগগিরই পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

খায়রুল কবির খোকন তার প্রশ্নে জানতে চান, বর্তমানে দেশের ৩৪ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে কিনা এবং এই শূন্য পদগুলো কবে নাগাদ পূরণ হবে।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা একটি রিট পিটিশন সম্প্রতি নিষ্পত্তি হয়েছে। আইনি জটিলতা কেটে যাওয়ায় এখন খুব দ্রুতই যোগ্য শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদগুলো পূরণ হয়ে যাবে।

মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, আগের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হতো। তবে নতুন বিধিমালা অনুযায়ী এখন থেকে ৮০ শতাংশ পদই পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। নতুন এই বিধিমালা তৈরির পর মামলাজনিত কারণে এতদিন পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এখন যেহেতু মামলার রায় চলে এসেছে, তাই সম্পূর্ণ নীতিমালা মেনে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে ৮০ শতাংশ পদেই দ্রুত পদোন্নতি দেওয়া হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ সম্পূরক প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা সকলেই উদ্বিগ্ন বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নিয়ে। পরীক্ষা নিয়ে আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে ছিলাম এবং আছি, সারা দিনই এ কাজটি করে থাকি। সেখানে দেখা গিয়েছে, কোনো কোনো কেন্দ্রে পানি উঠে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র সরিয়ে দিয়েছি। স্থানীয় প্রশাসনকে আমরা এ দায়িত্ব দিয়েছি।’

কুমিল্লার পরীক্ষা কেন্দ্রটির উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তা ছাড়া অন্যান্য যেসব জায়গায় পানি উঠেছে, তা তেমন বেশি নয়, গুটি কয়েক। সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র পাল্টানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের যে সুবিধা দেওয়ার, তা হয়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে কাজটি করছি।

মন্ত্রী এহসানুল হক বলেন, যেসব ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের শুধরে দেওয়া আমাদের জন্য বিরাট কাজ নয়। কারণ আমরা অনেক জায়গায় পরীক্ষা বন্ধ করেছি। আমাদের প্রশ্ন সেট রয়েছে। আমরা আবারও পরীক্ষা নেব। আবারও পর্যালোচনা করছি, যদি কোথাও প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার পরে পরীক্ষা দিতে না পারে, সে জরিপ আমাদের কাছে আসলে, প্রয়োজনে আমরা পুনরায় পরীক্ষা নিতে পারি। আমরা চট্টগ্রাম বোর্ডে এ ব্যবস্থা করেছি। সে অবস্থান আমাদের রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের আমরা বঞ্চিত করতে পারি না, বঞ্চিত করব না।’

যশোর-৪ আসনের গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশে কওমি মাদ্রাসা রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার। এসব মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ।

মন্ত্রী আরও জানান, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৬৯ টি, এতে শিক্ষার্থী ৯৯ লাখ ৫৮ হাজার ২৪৬ জন, কিন্ডারগার্টেন ৩২ হাজার ৬৬৩ টি, এতে শিক্ষার্থী ৬০ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ জন। সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে নয় হাজার ২৯৫ টি, সেখানে শিক্ষার্থী প্রায় ১৫ লাখ। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে সাত হাজার ৫২৮ টি, এতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ।