গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাঙ্গালী নদীর ওপর ‘বলিয়ারবের’ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি স্থানীয়দের বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হলেও সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়ক না থাকায় এখনো তা ব্যবহার অনুপযোগী। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো চালু না হওয়ায় হাজারো মানুষ সরাসরি উপকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মূল কাঠামো দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেও দুই পাশে এখনো বিস্তীর্ণ অংশ ভরাটবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা অসম্পূর্ণ, আবার কোথাও কাজ শুরুর আগেই থেমে গেছে। সেতুর ওপর দাঁড়ালে দুই পাড়ের যোগাযোগের সম্ভাবনা চোখে পড়ে, কিন্তু বাস্তবে সেই পথ এখনো তৈরি হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করতে গিয়ে জমি অধিগ্রহণ ও মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়। কিছু স্থানীয় ব্যক্তি জমির মালিকানা দাবি করে আপত্তি তোলায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই সরে যায় বলে জানা গেছে। ফলে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এই সেতু চালু হলে বাঙ্গালী নদীর দুই পাড়ের অন্তত কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। কৃষিপ্রধান এই এলাকায় ধান, ভুট্টা, সবজি ও অন্যান্য ফসল সহজে বাজারজাত করতে পারবেন কৃষকরা। কিন্তু বর্তমানে কৃষকদের অতিরিক্ত পথ ঘুরে ও বেশি খরচে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে সময়মতো বাজারে পণ্য না পৌঁছানোয় অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। নদী পারাপার বা দীর্ঘ পথ ঘুরে স্কুল-কলেজে যেতে বিলম্ব হচ্ছে তাদের। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, সেতুটা আমাদের চোখের সামনে আছে, কিন্তু ব্যবহার করতে পারি না। উন্নয়ন দেখছি, কিন্তু সুবিধা পাচ্ছি না।
কৃষক আব্দুল মোত্তালিব বলেন, আগে নৌকা ছিল, এখন সেতু আছে কিন্তু রাস্তা নেই। তাই আমাদের কষ্ট আগের মতোই রয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম সাজু বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সাঘাটা উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী নয়ন রায় বলেন, জমি সংক্রান্ত জটিলতা ও স্থানীয় বাধার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন নতুন করে বরাদ্দ ও প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া কাজ শুরু করা সম্ভব নয়।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি 























