Dhaka শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লুটপাট করতে গোপালগঞ্জে বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

গোপালগঞ্জে লুটপাট করার জন্য বড় বড় প্রকল্প নেয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, গোপালগঞ্জের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের লোক নেই। মানুষদের অর্থে নির্মিত এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের সেবা দেওয়া হয় না।

শনিবার (১৬ মে) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

তিনি বলেন, আমরা একটি ধ্বংস প্রাপ্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। সরকারের অর্থে টান আছে। তারপরও আমরা ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছি। বিদ্যুৎখাতসহ বিভিন্ন খাতের অলিগার্কিক ব্যবস্থাপনা ভাঙতে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।

অর্থনীতি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমাদের সরকার ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে উত্তরাঞ্চলে নতুন একটা অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করতে চায়। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধ শিল্প কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে আমরা অর্থনীতির গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও অলিগার্কিক ব্যবস্থা ভাঙতে চাই।

তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন সরকার টাকা ছাপাচ্ছে, তাহলে সেটি ‘গালগল্প’ ছাড়া কিছু নয়। অতীতেও সরকার এমন সংকটে পড়েছিল, তবে সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তা মোকাবিলা করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে রয়েছে। একই সঙ্গে নারীর উন্নয়নকে সামাজিক অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক বলেও উল্লেখ করেন ড. তিতুমীর।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সংকটের মধ্যেও সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বারস্থ হয়নি। বরং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে সম্ভাবনা ও অগ্রগতির মাধ্যমে উত্তরণের চেষ্টা করছে সরকার। সরকার এমন সংকটে পড়েছিল, তবে সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তা মোকাবিলা করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সুত্রে ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিকে আরো চাপে ফেলেছে। বিশ্ববাজারে পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়া ছাড়াও আমদানি খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়ায় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে সীমিত ও নিম্ন—মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।

এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবারের বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া এবারের বাজেটে সরকারকে জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য, রপ্তানী ও সামাজিক সুরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন খাতে ভতুর্কির ওপর নজর দিতে হচ্ছে। তবে বাজেট যাতে জনভোগান্তি না বাড়ায়, নিম্ন—মধ্যবিত্তের ওপর চাপ তৈরি না করে, ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবারের বাজেটে অন্তর্ভূক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার। সুবিধাভোগী নির্বাচন ও এর অর্থায়ন নিয়ে কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করলেও, সরকারের স্বদিচ্ছা থাকলে এই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড সঠিকভাবে সঠিক মানুষের কাছে পৌছানো গেলে এটি অবশ্যই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করবে। এতে ঋণের বোঝা বাড়ার কোন শঙ্কা নেই।

“মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক প্রাক—বাজেট ছায়া সংসদে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার) এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম ও সাংবাদিক গোলাম কাদির রবু। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

আবহাওয়া

ফারাক্কা চুক্তিই বলে দেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকবে কি না : মির্জা ফখরুল

লুটপাট করতে গোপালগঞ্জে বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৭:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

গোপালগঞ্জে লুটপাট করার জন্য বড় বড় প্রকল্প নেয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, গোপালগঞ্জের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের লোক নেই। মানুষদের অর্থে নির্মিত এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের সেবা দেওয়া হয় না।

শনিবার (১৬ মে) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

তিনি বলেন, আমরা একটি ধ্বংস প্রাপ্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। সরকারের অর্থে টান আছে। তারপরও আমরা ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছি। বিদ্যুৎখাতসহ বিভিন্ন খাতের অলিগার্কিক ব্যবস্থাপনা ভাঙতে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।

অর্থনীতি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমাদের সরকার ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে উত্তরাঞ্চলে নতুন একটা অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করতে চায়। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধ শিল্প কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে আমরা অর্থনীতির গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও অলিগার্কিক ব্যবস্থা ভাঙতে চাই।

তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন সরকার টাকা ছাপাচ্ছে, তাহলে সেটি ‘গালগল্প’ ছাড়া কিছু নয়। অতীতেও সরকার এমন সংকটে পড়েছিল, তবে সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তা মোকাবিলা করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে রয়েছে। একই সঙ্গে নারীর উন্নয়নকে সামাজিক অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক বলেও উল্লেখ করেন ড. তিতুমীর।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সংকটের মধ্যেও সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বারস্থ হয়নি। বরং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে সম্ভাবনা ও অগ্রগতির মাধ্যমে উত্তরণের চেষ্টা করছে সরকার। সরকার এমন সংকটে পড়েছিল, তবে সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তা মোকাবিলা করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সুত্রে ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিকে আরো চাপে ফেলেছে। বিশ্ববাজারে পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়া ছাড়াও আমদানি খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়ায় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে সীমিত ও নিম্ন—মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।

এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবারের বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া এবারের বাজেটে সরকারকে জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য, রপ্তানী ও সামাজিক সুরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন খাতে ভতুর্কির ওপর নজর দিতে হচ্ছে। তবে বাজেট যাতে জনভোগান্তি না বাড়ায়, নিম্ন—মধ্যবিত্তের ওপর চাপ তৈরি না করে, ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবারের বাজেটে অন্তর্ভূক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার। সুবিধাভোগী নির্বাচন ও এর অর্থায়ন নিয়ে কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করলেও, সরকারের স্বদিচ্ছা থাকলে এই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড সঠিকভাবে সঠিক মানুষের কাছে পৌছানো গেলে এটি অবশ্যই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করবে। এতে ঋণের বোঝা বাড়ার কোন শঙ্কা নেই।

“মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক প্রাক—বাজেট ছায়া সংসদে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার) এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম ও সাংবাদিক গোলাম কাদির রবু। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।