Dhaka শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লিবিয়ায় মাফিয়াদের হাতে জিম্মি আগৈলঝাড়ার আসাদুল, ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে :

দুই মাষ ধরে লিবিয়ায় মাফিয়ার নির্যাতনের স্বীকার আগৈলঝাড়ার আসাদুল, নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে ইতিমধ্যেই হাতিয়ে নিয়েছে ৪ লাখ টাকা। বাকি টাকা দুই দিনের মধ্যে না দিলে মাফিয়ারা আসাদুলকে হত্যার পর ৪ টুকরা করে মরুভূমিতে লাশ ফেলে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে আসাদুলের পরিবারকে। আসাদুলের দরিদ্র অসহায় পরিবার প্রশাসন ও সরকারের কাছে তাকে উদ্ধারের জন্য আকুতি জানিয়েছেন।

জানা গেছে উপজেলার চাঁদত্রিশিরা গ্রামের আবু বক্তিয়ারের ছেলে আসাদুল বক্তিয়ার সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর ভিজিট ভিসায় (পাসপোর্ট নং-A04802999) তার আত্মীয় এরফান সরদারের মাধ্যমে বৈধ পথে লিবিয়ায় যায়, লিবিয়ার আনজারা শহরে মসজিদের পাশে একটি দোকানে টেইলারিং এর কাজ করে দেশের বাড়িতে মাষে ২০-২৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে আসছিল।

গত ৯ রমজান সেহরি খাওয়ার পরে ভোর রাতে একই এলাকার বাসা থেকে আসাদুলকে ৫-৬ জনের একটি মাফিয়ার দল জোর করে তুলে নিয়ে যায়।

লিবিয়ায় তাদের আস্তানায় নিয়ে আসাদুলকে হাত-পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে উলঙ্গ করে বেদম মারধর করে, এমনকি চাকু দিয়ে পুচিয়ে শরির থেকে রক্ত ঝরিয়ে ও হাত-পায়ের নক উপরে ফেলার হুমকিও দেয়, এ দৃশ্য মোবাইলে আসাদুলের বাড়িতে তার বাবা মা স্ত্রী সন্তানকে দেখিয়ে ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আসাদুলের অসহায় দরিদ্র পরিবার দীর্ঘ দিনে কোন টাকা জোগার করতে না পেরে মাফিয়াদের হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে, আসাদুলের পরিবারের কাছ থেকে টাকা না পাওয়ায় মাফিয়াদের বন্দীদশায় আসাদুলের উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন, এর পরে লিবিয়ায় থাকা আসাদুলের শ্যালক এরফান সরদার লিবিয়ার স্থানীয় দুইটি থানায় এ ঘটনা জানালে মাফিয়ারা এরফানকে তার বাসায় খুজতে যায়, তখন জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে এরফান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেলে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসে গত ৩০ মার্চ বোন নিপা বেগমকে সাথে নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ঘটনার বিবরনসহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পরবর্তীতে আসাদুলের উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয় মাফিয়ারা এবং নির্যাতনের একাধীক ভিডিও আসাদুলের পরিবারকে দেখায় এসব ভিডিও দেখে আসাদুলের বাবা মা স্ত্রী সন্তান মাফিয়াদের হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করলেও তাদের মন গলাতে পারেনি।

আসাদুলের উপর নির্যাতনের এক ভিডিওতে পরিবারকে মাফিয়াদের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে তার জীবন বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছে আসাদুল। পরবর্তীতে দেশে থাকা আসাদুলের পরিবার বাধ্য হয়ে সুদে ৩ লক্ষ ও শ্বশুরবাড়ি থেকে ১ লক্ষ টাকা জোগার করে রোববার ডাচবাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ ও সোমবার ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা দেয় মাফিয়াদের।

এরপর মাফিয়ারা ওই পরিবারকে ফোনে জানায়, বাকি টাকা ২ দিনের মধ্যে না দিলে আসাদুলকে হত্যার পর ৪ টুকরা করে মরুভূমিতে ফেলে দেবে। এ খবর জানার পর ওই পরিবারের সবাই দিশেহারা হয়ে পরেছে।

আসাদুলের পিতা আবু বক্তিয়ার বলেন, মাফিয়ারা ৩০ লাখ টাকা চায় দুই মাসে এক টাকাও জোগার করতে পারি নাই, ছেলেকে ঝুলিয়ে পিটাচ্ছে শরিরে রক্ত ঝরছে, সম্পত্তি থাকলে বিক্রি করে টাকা দিতাম, একজন পিতা হয়ে ছেলের এমন করুণ পরিণতি দেখে কিভাবে সইবো, সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবি- আমার কলিজার টুকরা বাবারে আইনা দেন।

মা বকুল বেগম বলেন, ওরা টাকার জন্য আমার ছেলেকে ঝুলিয়ে পিটাচ্ছে এবং চাকু দিয়ে শরীর থেকে রক্ত ঝড়াচ্ছে, আমি তো একজন মা তা দেখে কিভাবে সহ্য করব। আমাদের সহায় সম্বল কিছুই নেই, কিভাবে ছেলেকে ছারিয়ে আনবো, দুই মাসে আমাদের নাওয়া খাওয়া ঘুম নেই, কি ভাবে বেঁচে আছি আল্লাহ’ই জানেন।

স্ত্রী নিপা বেগম জানান, সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরানোর আশায় আমার ভাই তাকে আড়াই বছর আগে লিবিয়া নেয় ওখানে টেইলারিং কাজ করতো, গত রোজায় মাফিয়ারা ধরে নিয়ে টাকা দাবী করে নির্যাতন চালায়, ওইসব ভিডিও আমাদের দেখায়, সুদে ৪ লাখ টাকা জোগার করে মাফিয়াকে দুই বারে দিয়েছি, বাকি টাকা দুই দিনের মধ্যে না দিলে তাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে। স্বামী আমাকে বলে বাঁচাও এখন আমি কি করবো, আমি কি ভাবে তাকে বাচাবো।

আসাদুল বক্তিয়ারের ছেলে ৭ম শ্রেণীর ছাত্র হামিম ও মাদ্রাসার ছাত্র শামিম পিতার এ অবস্থার কথা শুনে শুধুই ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকে আর বাবার জন্য কান্নাকাটি করে, বাবা কখন ফিরে আসবে এ আশায় পথ চেয়ে বসে আছে।

এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, লিবিয়ায় এক যুবককে অপহরন করে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি মিডিয়া কর্মীর মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি, ওই পরিবার আমার কাছে লিখিত ভাবে জানালে ওই কপি আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণসহ ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে অবহিত করব।

আবহাওয়া

লিবিয়ায় মাফিয়াদের হাতে জিম্মি আগৈলঝাড়ার আসাদুল, ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

প্রকাশের সময় : ১০:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে :

দুই মাষ ধরে লিবিয়ায় মাফিয়ার নির্যাতনের স্বীকার আগৈলঝাড়ার আসাদুল, নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে ইতিমধ্যেই হাতিয়ে নিয়েছে ৪ লাখ টাকা। বাকি টাকা দুই দিনের মধ্যে না দিলে মাফিয়ারা আসাদুলকে হত্যার পর ৪ টুকরা করে মরুভূমিতে লাশ ফেলে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে আসাদুলের পরিবারকে। আসাদুলের দরিদ্র অসহায় পরিবার প্রশাসন ও সরকারের কাছে তাকে উদ্ধারের জন্য আকুতি জানিয়েছেন।

জানা গেছে উপজেলার চাঁদত্রিশিরা গ্রামের আবু বক্তিয়ারের ছেলে আসাদুল বক্তিয়ার সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর ভিজিট ভিসায় (পাসপোর্ট নং-A04802999) তার আত্মীয় এরফান সরদারের মাধ্যমে বৈধ পথে লিবিয়ায় যায়, লিবিয়ার আনজারা শহরে মসজিদের পাশে একটি দোকানে টেইলারিং এর কাজ করে দেশের বাড়িতে মাষে ২০-২৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে আসছিল।

গত ৯ রমজান সেহরি খাওয়ার পরে ভোর রাতে একই এলাকার বাসা থেকে আসাদুলকে ৫-৬ জনের একটি মাফিয়ার দল জোর করে তুলে নিয়ে যায়।

লিবিয়ায় তাদের আস্তানায় নিয়ে আসাদুলকে হাত-পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে উলঙ্গ করে বেদম মারধর করে, এমনকি চাকু দিয়ে পুচিয়ে শরির থেকে রক্ত ঝরিয়ে ও হাত-পায়ের নক উপরে ফেলার হুমকিও দেয়, এ দৃশ্য মোবাইলে আসাদুলের বাড়িতে তার বাবা মা স্ত্রী সন্তানকে দেখিয়ে ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আসাদুলের অসহায় দরিদ্র পরিবার দীর্ঘ দিনে কোন টাকা জোগার করতে না পেরে মাফিয়াদের হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে, আসাদুলের পরিবারের কাছ থেকে টাকা না পাওয়ায় মাফিয়াদের বন্দীদশায় আসাদুলের উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন, এর পরে লিবিয়ায় থাকা আসাদুলের শ্যালক এরফান সরদার লিবিয়ার স্থানীয় দুইটি থানায় এ ঘটনা জানালে মাফিয়ারা এরফানকে তার বাসায় খুজতে যায়, তখন জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে এরফান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেলে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসে গত ৩০ মার্চ বোন নিপা বেগমকে সাথে নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ঘটনার বিবরনসহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পরবর্তীতে আসাদুলের উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয় মাফিয়ারা এবং নির্যাতনের একাধীক ভিডিও আসাদুলের পরিবারকে দেখায় এসব ভিডিও দেখে আসাদুলের বাবা মা স্ত্রী সন্তান মাফিয়াদের হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করলেও তাদের মন গলাতে পারেনি।

আসাদুলের উপর নির্যাতনের এক ভিডিওতে পরিবারকে মাফিয়াদের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে তার জীবন বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছে আসাদুল। পরবর্তীতে দেশে থাকা আসাদুলের পরিবার বাধ্য হয়ে সুদে ৩ লক্ষ ও শ্বশুরবাড়ি থেকে ১ লক্ষ টাকা জোগার করে রোববার ডাচবাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ ও সোমবার ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা দেয় মাফিয়াদের।

এরপর মাফিয়ারা ওই পরিবারকে ফোনে জানায়, বাকি টাকা ২ দিনের মধ্যে না দিলে আসাদুলকে হত্যার পর ৪ টুকরা করে মরুভূমিতে ফেলে দেবে। এ খবর জানার পর ওই পরিবারের সবাই দিশেহারা হয়ে পরেছে।

আসাদুলের পিতা আবু বক্তিয়ার বলেন, মাফিয়ারা ৩০ লাখ টাকা চায় দুই মাসে এক টাকাও জোগার করতে পারি নাই, ছেলেকে ঝুলিয়ে পিটাচ্ছে শরিরে রক্ত ঝরছে, সম্পত্তি থাকলে বিক্রি করে টাকা দিতাম, একজন পিতা হয়ে ছেলের এমন করুণ পরিণতি দেখে কিভাবে সইবো, সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবি- আমার কলিজার টুকরা বাবারে আইনা দেন।

মা বকুল বেগম বলেন, ওরা টাকার জন্য আমার ছেলেকে ঝুলিয়ে পিটাচ্ছে এবং চাকু দিয়ে শরীর থেকে রক্ত ঝড়াচ্ছে, আমি তো একজন মা তা দেখে কিভাবে সহ্য করব। আমাদের সহায় সম্বল কিছুই নেই, কিভাবে ছেলেকে ছারিয়ে আনবো, দুই মাসে আমাদের নাওয়া খাওয়া ঘুম নেই, কি ভাবে বেঁচে আছি আল্লাহ’ই জানেন।

স্ত্রী নিপা বেগম জানান, সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরানোর আশায় আমার ভাই তাকে আড়াই বছর আগে লিবিয়া নেয় ওখানে টেইলারিং কাজ করতো, গত রোজায় মাফিয়ারা ধরে নিয়ে টাকা দাবী করে নির্যাতন চালায়, ওইসব ভিডিও আমাদের দেখায়, সুদে ৪ লাখ টাকা জোগার করে মাফিয়াকে দুই বারে দিয়েছি, বাকি টাকা দুই দিনের মধ্যে না দিলে তাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে। স্বামী আমাকে বলে বাঁচাও এখন আমি কি করবো, আমি কি ভাবে তাকে বাচাবো।

আসাদুল বক্তিয়ারের ছেলে ৭ম শ্রেণীর ছাত্র হামিম ও মাদ্রাসার ছাত্র শামিম পিতার এ অবস্থার কথা শুনে শুধুই ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকে আর বাবার জন্য কান্নাকাটি করে, বাবা কখন ফিরে আসবে এ আশায় পথ চেয়ে বসে আছে।

এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, লিবিয়ায় এক যুবককে অপহরন করে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি মিডিয়া কর্মীর মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি, ওই পরিবার আমার কাছে লিখিত ভাবে জানালে ওই কপি আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণসহ ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে অবহিত করব।