রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে যা বললেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নির্ধারিত বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, গত এক সপ্তাহ বিদেশে থাকায় তিনি কিছুই জানেন না। আবার বলেছেন, সাংবাদিকরা যেমন শুনেছেন, তিনিও তেমনই শুনেছেন।ব্যক্তিগত চিকিৎসা শেষ হওয়ায় দেশে ফিরে এসেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করলো, কী করলো, আমার কিছুই জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারবো।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা যেরকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি। তিনি পদত্যাগ করলে সেই অনুযায়ী তারপর যে ব্যাকগ্রাউন্ডটা থাকে, সেই জায়গাতে… এটা অনুমাননির্ভর প্রশ্ন। সুতরাং উনি কী করবেন, না করবেন, আমি জানি না।’

নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসার কথা ছিল ২৬ তারিখে। আমার ব্যক্তিগত কাজ, আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, সেজন্যই আমি এসেছি।’

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের ওপর বর্তাবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী এটা একটা ট্র্যাডিশন। দেশের সংবিধানে লেখা আছে, যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন স্পিকার অ্যাক্টিং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ। সেটা তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটা হলো সংবিধানের পজিশন।’

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারকেই দায়িত্ব নিতে হয়, সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করতে শুরু করলে তাকে থামিয়ে দিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এটা তো অনুমান নির্ভর প্রশ্ন। সুতরাং উনি কী করবেন, না করবেন তা তো আমি জানি না। রাষ্ট্রপতি দেশের প্রথম ব্যক্তি।”

স্পিকার বলেন, “আমি ১৯ তারিখে, এই মাসের ১৯ তারিখে ব্যাংককে গিয়েছিলাম আমার মেডিকেল চেকআপের জন্য। গতকাল আমার মেডিকেল চেকআপ শেষ হয়েছে। সেই কারণে আমি দেশে চলে এসেছি। আপাতত এর বেশি কিছু বলার নাই। সবাইকে ধন্যবাদ।”

তাতে দমে না গিয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “একটা বড় বিষয় নিয়ে অনেক গুঞ্জন চলছে যে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টা… আসলে স্যার, এ বিষয়ে আপনারা কিছু অবগত কি না? আর আরেকটু সামনে যেটা জানতে চাই, যদি উনি (পদত্যাগ) করে থাকেন, সেই ক্ষেত্রে…।”

স্পিকার বলেন, “আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করল, কী করল—আমার কিছুই জানা নাই। এখন হয়ত জানতে পারব। মানে, আমি জানি না।”

এরপর সংবিধানের নিয়ম মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তাহলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করবেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। এই হলো সাংবিধানিক পজিশন। ধন্যবাদ।”

কিন্তু এরপর সাংবাদিকরা প্রশ্ন করে যেতে থাকেন।

স্পিকার তখন বলেন, “আপনারা যেরকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি।”

২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা ছিল, আগে কেন ফিরলেন, সেই প্রশ্ন করলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমার একটু ব্যক্তিগত কাজ আছে… কালকে আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, সেজন্যেই আমি এসেছি।”

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তো পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের ওপরই বর্তাবে, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্পিকার বলেন, “এটা ট্র্যাডিশনালি বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা আছে। যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন অ্যাক্টিং (ভারপ্রাপ্ত) রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন।

“বাট (কিন্তু) মূল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ। সেটা তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটা হল সংসদের পজিশন। থ্যাংক ইউ।”

সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনিসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা স্পিকারকে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে অভ্যর্থনা জানান।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সরাসরি সংসদে ভবনে স্পিকারের বাসভবনের ‍উদ্দেশ্যে রওনা হন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় তার গাড়ির সামনে পেছনে নিরাপত্তার বাাহিনীর গাড়ি দেখা যায়।

উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তার পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়।

এর আগে, চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে এরইমধ্যে অনেকটা হঠাৎ করেই বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়ায়— পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি। তার মধ্যে স্পিকারের আগাম দেশে ফেরার খবর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করে।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক।

দেশে এর আগে ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রয়াত ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৭৮ দিন এ দায়িত্বে ছিলেন।

 

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে যা বললেন স্পিকার

প্রকাশের সময় : ০২:১৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নির্ধারিত বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, গত এক সপ্তাহ বিদেশে থাকায় তিনি কিছুই জানেন না। আবার বলেছেন, সাংবাদিকরা যেমন শুনেছেন, তিনিও তেমনই শুনেছেন।ব্যক্তিগত চিকিৎসা শেষ হওয়ায় দেশে ফিরে এসেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করলো, কী করলো, আমার কিছুই জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারবো।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা যেরকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি। তিনি পদত্যাগ করলে সেই অনুযায়ী তারপর যে ব্যাকগ্রাউন্ডটা থাকে, সেই জায়গাতে… এটা অনুমাননির্ভর প্রশ্ন। সুতরাং উনি কী করবেন, না করবেন, আমি জানি না।’

নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসার কথা ছিল ২৬ তারিখে। আমার ব্যক্তিগত কাজ, আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, সেজন্যই আমি এসেছি।’

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের ওপর বর্তাবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী এটা একটা ট্র্যাডিশন। দেশের সংবিধানে লেখা আছে, যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন স্পিকার অ্যাক্টিং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ। সেটা তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটা হলো সংবিধানের পজিশন।’

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারকেই দায়িত্ব নিতে হয়, সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করতে শুরু করলে তাকে থামিয়ে দিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এটা তো অনুমান নির্ভর প্রশ্ন। সুতরাং উনি কী করবেন, না করবেন তা তো আমি জানি না। রাষ্ট্রপতি দেশের প্রথম ব্যক্তি।”

স্পিকার বলেন, “আমি ১৯ তারিখে, এই মাসের ১৯ তারিখে ব্যাংককে গিয়েছিলাম আমার মেডিকেল চেকআপের জন্য। গতকাল আমার মেডিকেল চেকআপ শেষ হয়েছে। সেই কারণে আমি দেশে চলে এসেছি। আপাতত এর বেশি কিছু বলার নাই। সবাইকে ধন্যবাদ।”

তাতে দমে না গিয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “একটা বড় বিষয় নিয়ে অনেক গুঞ্জন চলছে যে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টা… আসলে স্যার, এ বিষয়ে আপনারা কিছু অবগত কি না? আর আরেকটু সামনে যেটা জানতে চাই, যদি উনি (পদত্যাগ) করে থাকেন, সেই ক্ষেত্রে…।”

স্পিকার বলেন, “আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করল, কী করল—আমার কিছুই জানা নাই। এখন হয়ত জানতে পারব। মানে, আমি জানি না।”

এরপর সংবিধানের নিয়ম মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তাহলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করবেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। এই হলো সাংবিধানিক পজিশন। ধন্যবাদ।”

কিন্তু এরপর সাংবাদিকরা প্রশ্ন করে যেতে থাকেন।

স্পিকার তখন বলেন, “আপনারা যেরকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি।”

২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা ছিল, আগে কেন ফিরলেন, সেই প্রশ্ন করলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমার একটু ব্যক্তিগত কাজ আছে… কালকে আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, সেজন্যেই আমি এসেছি।”

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তো পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের ওপরই বর্তাবে, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্পিকার বলেন, “এটা ট্র্যাডিশনালি বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা আছে। যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন অ্যাক্টিং (ভারপ্রাপ্ত) রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন।

“বাট (কিন্তু) মূল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ। সেটা তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটা হল সংসদের পজিশন। থ্যাংক ইউ।”

সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনিসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা স্পিকারকে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে অভ্যর্থনা জানান।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সরাসরি সংসদে ভবনে স্পিকারের বাসভবনের ‍উদ্দেশ্যে রওনা হন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় তার গাড়ির সামনে পেছনে নিরাপত্তার বাাহিনীর গাড়ি দেখা যায়।

উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তার পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়।

এর আগে, চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে এরইমধ্যে অনেকটা হঠাৎ করেই বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়ায়— পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি। তার মধ্যে স্পিকারের আগাম দেশে ফেরার খবর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করে।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক।

দেশে এর আগে ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রয়াত ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৭৮ দিন এ দায়িত্বে ছিলেন।