Dhaka শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেসব কারণে সৌন্দর্য হারাচ্ছে মেট্রোরেল স্টেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীবাসীর স্বস্তির নাম এখন মেট্রোরেল। ঝকঝকে স্টেশন, আধুনিক সেবা আর দ্রুত যাতায়াত; সব মিলিয়ে নগরজীবনে নতুন গতি এনে দিয়েছে এই পরিবহন ব্যবস্থা। তবে স্টেশনের নিচের অংশের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বাড়ছে যাত্রীদের ভোগান্তি। হকারদের দখল, ময়লা-আবর্জনা আর বিশৃঙ্খল পরিবেশে বিরক্ত যাত্রীরা।

রাজধানীর ব্যস্ত জীবনে সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ যানজট। প্রতিদিন এতে নষ্ট হচ্ছে প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা। স্থবিরতায় আর্থিক ক্ষতিও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ২০২২ সালে স্বস্তি হয়ে আসে মেট্রোরেল। এখন উত্তরা থেকে মতিঝিল যেতে সময় লাগছে মাত্র ৩৫ মিনিট।

প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ যাত্রী পরিবহন করছে মেট্রোরেল। ১৬টি স্টেশনই আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন। তবে স্টেশনের নিচের অংশে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। এ যেন ‘উপরে ফিটফাট, নিচে সদরঘাট’ অবস্থা।

হকারদের দখলে স্টেশনে ওঠানামাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অফিস সময়ে যাত্রীদের চলাচলে তৈরি হচ্ছে তীব্র ভোগান্তি। যাত্রীরা চান, স্টেশনের উপরের অংশের মতো নিচের এলাকাও পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখা হোক। এক যাত্রী বলেন, হকারদের কারণে ফুটপাতের বেশিরভাগ অংশ দখল হয়ে থাকে। এতে চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত যাতায়াতও সম্ভব হয় না।

আরেক যাত্রী বলেন, হকারদের কারণে পরিবেশ ভীষণ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা বাড়ছে।

মেট্রোরেলে যাতায়াতকারী যাত্রীরা ফুটপাতজুড়ে হকার বসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, মেট্রোরেল একটি আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা। কিন্তু স্টেশনের নিচের অংশ এখনও বাজারই রয়ে গেছে। এতে আধুনিক এই স্থাপনা দ্রুত নোংরা হচ্ছে এবং সৌন্দর্য হারাচ্ছে।

মেট্রোরেলের যাত্রী আজিজুল ইসলাম আকাশ বলেন, নিঃসন্দেহে মেট্রোরেল ঢাকাবাসীর জন্য আশীর্বাদ। বিশেষ করে মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনটি মিরপুর-১, ২, ১০, ১৩ ও ১৪ নম্বরের লোকেরা ব্যবহার করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রয়োজনে অন্য এলাকা থেকেও এই স্টেশনে অনেক লোক আসে। এই স্টেশনটি মানুষ বেশি ব্যবহার করে। এ জন্যই স্টেশনটির নিচের অংশ চলাচলের জন্য সব সময় ফ্রি রাখা দরকার। অথচ এখানে হকারদের দৌরাত্ম্য বেশি। বিকাল হলেই তারা পুরো ফুটপাত দখল করে রাখে।

স্টেশনের দোতলা থেকে ওপরের অবস্থা যতই ভালো থাকুক, নিচের অবস্থা খারাপ থাকায় মেট্রোরেলের যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জানিয়ে আয়শা আক্তার নামে আরেক যাত্রী বলেন, মেট্রোরেল এখন সকাল-বিকাল চলে। সকালের দিকে নিচের অংশটা ফ্রি থাকলেও বিকালে সেখান দিয়ে হাঁটা যায় না। দুই পাশজুড়ে হকারদের ভিড় লেগে থাকে। স্টেশন থেকে নিচে নামলেই ময়লার স্তূপ দেখা যায়। দুর্গন্ধ আসে। শুধু স্টেশন আধুনিক করলে হবে না, এর আশপাশ ও ব্যবস্থাপনাও আধুনিক করতে হবে।

তবে হকারদের দাবি, জীবিকার তাগিদেই তারা সেখানে বসেন। বিকল্প ব্যবস্থা না হলে স্থান ছেড়ে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা বলেন, পেটের দায়ে এখানে বসি। অল্প কিছু জিনিস নিয়ে বসি। এটা শখ করে করি না। সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করে, তাহলে সরে যেতে পারি।

স্টেশনের নিচের অংশের এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। তবে টেলিফোনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, স্টেশনের নিচের অংশ দেখভালের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। এ বিষয়ে মেট্রোরেলের সরাসরি কিছু করার সুযোগ নেই।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টেশনের ভেতরের মতো বাইরের অংশও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে ভবিষ্যতে যাত্রীসেবা ব্যাহত হতে পারে। এতে ধীরে ধীরে যাত্রী কমে লোকসানের মুখেও পড়তে পারে মেট্রোরেল।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক বলেন, যারা নিয়ম বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকেন, তারা যখন নজরদারি করেন না তখন একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়। ফলে কার্যকর ব্যবস্থা আর থাকে না, বরং ‘চোর-পুলিশ’ খেলা চলতে থাকে। অথচ মেট্রোরেলের মতো বড় একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়।

আবহাওয়া

ফারাক্কা চুক্তিই বলে দেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকবে কি না : মির্জা ফখরুল

যেসব কারণে সৌন্দর্য হারাচ্ছে মেট্রোরেল স্টেশন

প্রকাশের সময় : ০৩:২৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীবাসীর স্বস্তির নাম এখন মেট্রোরেল। ঝকঝকে স্টেশন, আধুনিক সেবা আর দ্রুত যাতায়াত; সব মিলিয়ে নগরজীবনে নতুন গতি এনে দিয়েছে এই পরিবহন ব্যবস্থা। তবে স্টেশনের নিচের অংশের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বাড়ছে যাত্রীদের ভোগান্তি। হকারদের দখল, ময়লা-আবর্জনা আর বিশৃঙ্খল পরিবেশে বিরক্ত যাত্রীরা।

রাজধানীর ব্যস্ত জীবনে সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ যানজট। প্রতিদিন এতে নষ্ট হচ্ছে প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা। স্থবিরতায় আর্থিক ক্ষতিও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ২০২২ সালে স্বস্তি হয়ে আসে মেট্রোরেল। এখন উত্তরা থেকে মতিঝিল যেতে সময় লাগছে মাত্র ৩৫ মিনিট।

প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ যাত্রী পরিবহন করছে মেট্রোরেল। ১৬টি স্টেশনই আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন। তবে স্টেশনের নিচের অংশে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। এ যেন ‘উপরে ফিটফাট, নিচে সদরঘাট’ অবস্থা।

হকারদের দখলে স্টেশনে ওঠানামাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অফিস সময়ে যাত্রীদের চলাচলে তৈরি হচ্ছে তীব্র ভোগান্তি। যাত্রীরা চান, স্টেশনের উপরের অংশের মতো নিচের এলাকাও পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখা হোক। এক যাত্রী বলেন, হকারদের কারণে ফুটপাতের বেশিরভাগ অংশ দখল হয়ে থাকে। এতে চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত যাতায়াতও সম্ভব হয় না।

আরেক যাত্রী বলেন, হকারদের কারণে পরিবেশ ভীষণ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা বাড়ছে।

মেট্রোরেলে যাতায়াতকারী যাত্রীরা ফুটপাতজুড়ে হকার বসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, মেট্রোরেল একটি আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা। কিন্তু স্টেশনের নিচের অংশ এখনও বাজারই রয়ে গেছে। এতে আধুনিক এই স্থাপনা দ্রুত নোংরা হচ্ছে এবং সৌন্দর্য হারাচ্ছে।

মেট্রোরেলের যাত্রী আজিজুল ইসলাম আকাশ বলেন, নিঃসন্দেহে মেট্রোরেল ঢাকাবাসীর জন্য আশীর্বাদ। বিশেষ করে মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনটি মিরপুর-১, ২, ১০, ১৩ ও ১৪ নম্বরের লোকেরা ব্যবহার করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রয়োজনে অন্য এলাকা থেকেও এই স্টেশনে অনেক লোক আসে। এই স্টেশনটি মানুষ বেশি ব্যবহার করে। এ জন্যই স্টেশনটির নিচের অংশ চলাচলের জন্য সব সময় ফ্রি রাখা দরকার। অথচ এখানে হকারদের দৌরাত্ম্য বেশি। বিকাল হলেই তারা পুরো ফুটপাত দখল করে রাখে।

স্টেশনের দোতলা থেকে ওপরের অবস্থা যতই ভালো থাকুক, নিচের অবস্থা খারাপ থাকায় মেট্রোরেলের যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জানিয়ে আয়শা আক্তার নামে আরেক যাত্রী বলেন, মেট্রোরেল এখন সকাল-বিকাল চলে। সকালের দিকে নিচের অংশটা ফ্রি থাকলেও বিকালে সেখান দিয়ে হাঁটা যায় না। দুই পাশজুড়ে হকারদের ভিড় লেগে থাকে। স্টেশন থেকে নিচে নামলেই ময়লার স্তূপ দেখা যায়। দুর্গন্ধ আসে। শুধু স্টেশন আধুনিক করলে হবে না, এর আশপাশ ও ব্যবস্থাপনাও আধুনিক করতে হবে।

তবে হকারদের দাবি, জীবিকার তাগিদেই তারা সেখানে বসেন। বিকল্প ব্যবস্থা না হলে স্থান ছেড়ে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা বলেন, পেটের দায়ে এখানে বসি। অল্প কিছু জিনিস নিয়ে বসি। এটা শখ করে করি না। সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করে, তাহলে সরে যেতে পারি।

স্টেশনের নিচের অংশের এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। তবে টেলিফোনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, স্টেশনের নিচের অংশ দেখভালের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। এ বিষয়ে মেট্রোরেলের সরাসরি কিছু করার সুযোগ নেই।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টেশনের ভেতরের মতো বাইরের অংশও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে ভবিষ্যতে যাত্রীসেবা ব্যাহত হতে পারে। এতে ধীরে ধীরে যাত্রী কমে লোকসানের মুখেও পড়তে পারে মেট্রোরেল।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক বলেন, যারা নিয়ম বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকেন, তারা যখন নজরদারি করেন না তখন একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়। ফলে কার্যকর ব্যবস্থা আর থাকে না, বরং ‘চোর-পুলিশ’ খেলা চলতে থাকে। অথচ মেট্রোরেলের মতো বড় একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়।