নিজস্ব প্রতিবেদক :
আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যারা আগে ঘুষ খেত, তারা এখনও ঘুষ খায়। এখন তারা বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে। সমাজে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। সমাজে এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই পরিবর্তনের আশা দেখছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর তথ্য ভবনে আয়োজিত এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভোল পাল্টে এখন সবাই জুলাইযোদ্ধা হয়ে গেছে। যারা ভোল পাল্টিয়েছে তারা এখন বেশি অপকর্মে লিপ্ত। সরকার গঠনের পর গত পাঁচ মাসে সমাজের কিছুই বদলাইনি, আগের মতোই ঘুষ-দুর্নীতি চলছে। পরিবর্তন বলতে কেবল তারেক রহমান, তিনি চেষ্টা করছেন সমাজ পরিবর্তনের। সবাই মিলে তাকে সহযোগিতা করতে হবে।
বিএনপি মহাসচিবের মতে, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। ক্ষমতায় গেলেই ক্ষমতাসীনদের মধ্যে একটি রসায়ন কাজ করে ক্ষমতাকে আকড়ে ধরার, এই ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য জুলাই আন্দোলনে রক্ত দিয়েছে তরুণরা। জুলাইয়ের ত্যাগ ধারণ, পরিবর্তনের চেষ্টা না করলে এত রক্ত বৃথা যাবে। বিএনপি এই সমাজটাকে পাল্টে দিতে চায়।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের মূল্যবোধ ধারণ করে পরিবর্তনের চেষ্টা না করলে সন্তানহারা মায়েদের অশ্রু এমনি হারিয়ে যাবে। শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিশ্চিত করা।
মির্জা ফখরুল বলেন, সমাজে বড় পরিবর্তন কখনোই হঠাৎ করে আসে না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন, সংগ্রাম এবং প্রয়োজন হলে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই পরিবর্তন অর্জিত হয়। ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পেছনে মানুষের দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও দেশের প্রত্যাশিত পরিবর্তন পুরোপুরি অর্জিত হয়নি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একই সময়ে স্বাধীন হওয়া বিশ্বের অনেক দেশ উন্নয়নের দৌড়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। জবাবদিহি, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশও আরও এগিয়ে যেতে পারবে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আন্দোলনের শুরুতে তরুণদের ন্যায্য দাবির প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন ছিল। পরবর্তীতে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। শহীদদের পরিবারের ত্যাগ ও বেদনা জাতিকে সবসময় স্মরণ রাখতে হবে। তাদের আত্মত্যাগের মূল্য ধারণ করতে না পারলে সেই ত্যাগ অর্থহীন হয়ে যাবে।
দেশের পরিবর্তনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মূল্যবোধ, শিক্ষা ও দায়িত্বশীলতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো বাবা-মাকে সন্তানের মৃত্যুজনিত শোক বহন করতে না হয়।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, পরিবর্তন বাইরে থেকে আসবে না; পরিবর্তন শুরু করতে হবে নিজেদের মধ্য থেকেই। দেশের মানুষ পরিশ্রমী ও ত্যাগী। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি সবসময় প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য ও ভালোবাসার মাধ্যমে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের পর হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন, ‘প্রতিশোধ নয়, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভালোবাসার মাধ্যমে দেশ গড়ে তুলতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার দীর্ঘ ত্যাগ যেমন মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা, তেমনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’
তিনি বলেন, অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীও দেশের প্রয়োজনে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, যা দেশের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের গভীর আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বার্তা দিয়েছিলেন, প্রতিশোধ নয়, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভালোবাসার মাধ্যমে দেশ গড়ে তুলতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার দীর্ঘ ত্যাগ যেমন মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা, তেমনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীও দেশের প্রয়োজনে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, যা দেশের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের গভীর আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















