নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাঁচাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে মন্ত্রীর পেছনে ঘোরার বিষয়টি অসত্য বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আয়োজিত হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল, ভেন্টিলেশন সমস্যা, শিশু মৃত্যুর ঘটনা ও চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিন এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরছে’ এমন বক্তব্যের বিষয়ে ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, এ কথা সত্য নয়। আমরা কেন টাকা নিয়ে ঘুরব? আমাদের টাকা নিয়ে ঘোরার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর পেছনে আমরা টাকা নিয়ে ঘুরেছি এটা তাকেই প্রমাণ করতে হবে।
মহিউদ্দিন বলেন, হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) আপিল করবেন।
তিনি বলেন, এক্সপার্ট টিমের মতামতের ভিত্তিতে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। পরামর্শক দলে রয়েছেন একজন বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার, একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তাদের পর্যবেক্ষণে মূল উদ্বেগের বিষয় ছিল ভেন্টিলেশন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা।
তিনি আরো বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও অক্সিজেন পরিমাপের যন্ত্র কিনেছে। এসব যন্ত্র দিয়ে প্রতিটি রুম পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় কোনো রুমেই উল্লেখযোগ্য ডেভিয়েশন (বিচ্যুতি) পাওয়া যায়নি।
মহিউদ্দিন বলেন, বাইরের বায়ুমণ্ডলের তুলনায় ভেতরের কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কিছুটা বেশি পাওয়া গেছে, যা সাধারণ বাসাবাড়িতেও দেখা যায়। তবে এটি গ্রহণযোগ্য মাত্রার বাইরে নয়। তারপরও রোগীদের কমফোর্ট লেভেল বাড়াতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা আরও কমিয়ে বাইরের এটমোসফেরিক লেভেলের কাছাকাছি আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী রুমগুলোতে পজিটিভ এয়ার প্রেসার দেওয়া হচ্ছে, যাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্রুত বের হয়ে যায়। ইতোমধ্যে শিশু ওয়ার্ডসহ কয়েকটি ওয়ার্ডের কাজ শেষ হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, যে ওয়ার্ডটি কর্তৃপক্ষ সিলগালা করেছে, সেটির চাবি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত চাবি পাওয়া গেলে ওই অংশের সংস্কার কাজও শুরু করা যাবে।
হাসপাতালের ওপরের তলায় থাকা বেকারি নিয়েও কথা বলেন মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, বেকারিটির লাইসেন্স সংক্রান্ত কোনো সমস্যা ছিল না। তারপরও সরকারের আপত্তির কারণে আপাতত সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে কর্মরত প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ শ্রমিকের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বেকারিটি অন্যত্র স্থানান্তরের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে বিভিন্ন ইউনিটে ৬০ জন ক্রিটিকাল রোগী আছে। তাই তাদের স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।
এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী পরিচালক বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। আবেদনপত্র প্রস্তুত হয়েছে এবং শিগগিরই তা জমা দেওয়া হবে।
শিশু মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন বলেন, সরকারি প্রতিবেদনে ভেন্টিলেশনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের এক্সপার্টদের মতে, বর্তমানে যে মাত্রা পাওয়া গেছে তা শিশু মৃত্যুর কারণ হওয়ার মতো নয়।
তিনি বলেন, নবজাতক শিশুদের শারীরিক সহনশীলতা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় ভিন্ন। অক্সিজেন কমে যাওয়া বা কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তনের প্রতি তারা অনেক বেশি সংবেদনশীল। এ কারণেই বিষয়টি জটিল।
সরকারের কোনো আশ্বাস পেয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নে তিনি জানান, সরকার থেকে কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়নি। তবে সমস্যাগুলো সমাধান করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলেই তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্টে ওয়ার্ডে অক্সিজেন-এর মাত্রা কম থাকা ও কার্বন ডাই-অক্সাইড এর মাত্রা বেশি থাকায় শিশু মৃত্যুর কারণ উল্লেখের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বভাবতই হাসপাতালের ভেতরে অক্সিজেন-এর মাত্রা কম থাকে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড এর মাত্রা বেশি থাকে বাহিরের পরিবেশ থেকে। তাই, সে অনুযায়ী আমাদের হাসপাতালের ভেতরেও অক্সিজেন-এর পরিমাণ কম ছিলো। কিন্তু সেটা মৃত্যুর কারণ হতে পারে না বলে বিশেষজ্ঞরা আমাদের জানিয়েছেন। একজন বয়স্ক মানুষের থেকে শিশুরা কম অক্সিজেনের মধ্যে টিকে থাকতে পারে। আবার কার্বন ডাই-অক্সাইড-এর ক্ষেত্রেও বয়স্কদের তুলনায় বাচ্চারা বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড এর মধ্যে টিকে থাকে। তাই মৃত্যুর কারণ এটা না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যেহেতু পোস্টমর্টেম হয়নি তাই, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের করা সম্ভব হয়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















