ভোটের আগে জামায়াতের জয়ের হাইপ তোলা হয়েছিল, কিন্তু মানুষ ভুল করেনি : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সবখানে জামায়াতের জয়ের হাইপ বা জোয়ার তোলা হয়েছিল। আমাকেও হারিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু মানুষ ভুল করেনি। বিএনপিকে বেছে নিয়েছে, বিএনপি উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। কিন্তু কেন? কারণ বিএনপি একটি প্রধান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করে। বিএনপি একটি উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা এ উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পিআইবি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল এতে উল্লেখ করেন, সব দল-মতের মানুষকে নিয়ে রিকনসিলিয়েশন করেছিলেন জিয়া। বাংলাদেশকে কারও শত্রু বানাতে চাননি তিনি।এখনও আধিপত্যের বাইরে এবং কারও প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিলেন জিয়া। বাংলাদেশকে নতুন করে যাত্রা শুরুর সুযোগ করে দিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান। তারেক রহমানও জিয়ার পথ ধরে হাঁটছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কাউকে শত্রু বানাতে চাননি, সবাইকে সাথে নিয়েই এগিয়ে গেছেন তিনি। আমরা ভারত-পাকিস্তান কোনো বলয়ে যেতে চাই না। নিজেদের একটি বলয়ে থাকতে চাই।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে একটি দলকে সবাই ভোট দিয়েছিল, সেটা ওই দলের জন্য নয়, মানুষের আকাঙ্ক্ষার জন্য। মানুষ তখন পাকিস্তান থেকে বের হয়ে আসতে চেয়েছিল। যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সবচেয়ে বড় যে কাজটি করেছিলেন, তা হলো বাংলাদেশের এ ভূখণ্ডের মানুষকে একটি পরিচিতি দিয়েছিলেন। আমরা আলাদা, আমাদের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেটা আমরা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের মধ্যে দেখি।

বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১-পূর্ব পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন বৈষম্য ও নির্যাতনকে আমরা কখনোই ক্ষমা করতে পারি না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা করা যায় না।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে যখন দেশের মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল, তখন নিজের জীবন বাজি রেখে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাতিকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শৈশব থেকেই আমরা পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্য, শোষণ ও বাঙালিদের ওপর নিপীড়ন প্রত্যক্ষ করেছি। সে সময় সাধারণ মানুষ মুক্তির আশায় একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু, স্বাধীনতার পর জনগণ প্রত্যাশিত গণতন্ত্র থেকে আবারও বঞ্চিত হয়।

আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন লড়বেন আইভী
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন, তখন বাংলাদেশ নানা সংকট ও অস্থিরতার মধ্যে ছিল। তিনি সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। তার লক্ষ্য ছিল জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও আত্মমর্যাদার ভিত্তি উপহার দিয়েছিলেন। তার দেখানো পথ অনুসরণ করেই বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিতে চায়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া বাংলাদেশকে কোনো দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশের নিজস্ব শক্তি, সক্ষমতা ও জনগণের ওপর। এ কারণেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান আমাদের যে পথ দেখিয়েছেন, আমরা সেই পথেই এগিয়ে যেতে চাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে দেশ পরিচালনায় কাজ করছেন, তার মধ্যেও আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতিফলন দেখতে পাই।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, এএনএম মুনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আবু রূশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনে তার অবদান নিয়ে বক্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

মেহেরপুরে ইজিবাইক-ট্রাক সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩

ভোটের আগে জামায়াতের জয়ের হাইপ তোলা হয়েছিল, কিন্তু মানুষ ভুল করেনি : মির্জা ফখরুল

প্রকাশের সময় : ০৪:৩৯:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সবখানে জামায়াতের জয়ের হাইপ বা জোয়ার তোলা হয়েছিল। আমাকেও হারিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু মানুষ ভুল করেনি। বিএনপিকে বেছে নিয়েছে, বিএনপি উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। কিন্তু কেন? কারণ বিএনপি একটি প্রধান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করে। বিএনপি একটি উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা এ উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পিআইবি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল এতে উল্লেখ করেন, সব দল-মতের মানুষকে নিয়ে রিকনসিলিয়েশন করেছিলেন জিয়া। বাংলাদেশকে কারও শত্রু বানাতে চাননি তিনি।এখনও আধিপত্যের বাইরে এবং কারও প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিলেন জিয়া। বাংলাদেশকে নতুন করে যাত্রা শুরুর সুযোগ করে দিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান। তারেক রহমানও জিয়ার পথ ধরে হাঁটছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কাউকে শত্রু বানাতে চাননি, সবাইকে সাথে নিয়েই এগিয়ে গেছেন তিনি। আমরা ভারত-পাকিস্তান কোনো বলয়ে যেতে চাই না। নিজেদের একটি বলয়ে থাকতে চাই।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে একটি দলকে সবাই ভোট দিয়েছিল, সেটা ওই দলের জন্য নয়, মানুষের আকাঙ্ক্ষার জন্য। মানুষ তখন পাকিস্তান থেকে বের হয়ে আসতে চেয়েছিল। যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সবচেয়ে বড় যে কাজটি করেছিলেন, তা হলো বাংলাদেশের এ ভূখণ্ডের মানুষকে একটি পরিচিতি দিয়েছিলেন। আমরা আলাদা, আমাদের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেটা আমরা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের মধ্যে দেখি।

বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১-পূর্ব পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন বৈষম্য ও নির্যাতনকে আমরা কখনোই ক্ষমা করতে পারি না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা করা যায় না।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে যখন দেশের মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল, তখন নিজের জীবন বাজি রেখে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাতিকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শৈশব থেকেই আমরা পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্য, শোষণ ও বাঙালিদের ওপর নিপীড়ন প্রত্যক্ষ করেছি। সে সময় সাধারণ মানুষ মুক্তির আশায় একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু, স্বাধীনতার পর জনগণ প্রত্যাশিত গণতন্ত্র থেকে আবারও বঞ্চিত হয়।

আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন লড়বেন আইভী
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন, তখন বাংলাদেশ নানা সংকট ও অস্থিরতার মধ্যে ছিল। তিনি সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। তার লক্ষ্য ছিল জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও আত্মমর্যাদার ভিত্তি উপহার দিয়েছিলেন। তার দেখানো পথ অনুসরণ করেই বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিতে চায়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া বাংলাদেশকে কোনো দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশের নিজস্ব শক্তি, সক্ষমতা ও জনগণের ওপর। এ কারণেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান আমাদের যে পথ দেখিয়েছেন, আমরা সেই পথেই এগিয়ে যেতে চাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে দেশ পরিচালনায় কাজ করছেন, তার মধ্যেও আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতিফলন দেখতে পাই।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, এএনএম মুনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আবু রূশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনে তার অবদান নিয়ে বক্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।