বিরামপুর রেলগেট বাঁশ ও দড়ি বেঁধে চলছে ব্যস্ত ক্রসিংয়ের কার্যক্রম বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি : 

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম ঘোড়াঘাট-বিরামপুর রেলগেটের স্বয়ংক্রিয় গেটবারটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। রেলের এ রুট দিয়ে প্রতিদিন ১৪ জোড়া ট্রেন চলে। বিকল্প হিসেবে সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশ ও দড়ি। জোড়াতালির এই ব্যবস্থাপনার কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং যানবাহন চালকেরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের রেললাইনের উপর অবস্থিত এই রেল ক্রসিংটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও শত শত যানবাহন চলাচল করে। বিরামপুর শহরের সঙ্গে ঘোড়াঘাট উপজেলাসহ উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সিগন্যাল বার বা লোহার গেটবারটি নষ্ট হয়ে থাকায় ট্রেন আসার সময় গেটম্যানরা ম্যানুয়ালি একটি বাঁশ নামিয়ে এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। অনেক সময় ট্রেনের গতিবিধি বুঝতে না পেরে বা তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অনেক যানবাহন বাঁশের নিচ দিয়েই পার হওয়ার চেষ্টা করে, যা চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

news-picture

আবিদ হাসান নামে এক ট্রাকচালকসহ কয়েকজন বলেন, এই রেলগেটটি দিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচল করে। ডিজিটাল যুগে এসে রেলগেটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বাঁশ আর দড়ি দিয়ে ট্রেন আটকানো হচ্ছে, এটা ভাবাই যায় না। রাতের বেলা দূর থেকে এই বাঁশ চোখে পড়ে না, ফলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এই রেলে গেটে কয়েকবার বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিলো। অনেক লোক মারাও গেছে। আমরা চাই এই রেল গেটের একটি সমাধান হোক।

চালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রেলগেটে লোহার বার খারাপ হওয়ার কারণেই মূলত সব অ্যাকসিডেন্ট হচ্ছে।

দায়িত্বরত গেটম্যান সেলিম হোসেন জানান, তাদের গেটের মূল ব্যারিকেডগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে রশি ও বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড বানাতে হচ্ছে।

গেটম্যান আসাদুল্লাহর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গেটবারটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। গত দুই মাস থেকে এই অবস্থায় পড়ে আছে। তবে এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাদের এই দেশীয় পদ্ধতি (বাঁশ-দড়ি) ব্যবহার করতে হচ্ছে। ট্রেন আসার মুহূর্তে একা হাতে বিশাল বাঁশ ও দড়ি টেনে সড়ক সামলানো তাদের জন্যও বেশ কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বিরামপুর স্টেশন মাস্টার কাজী ফয়েজ আলাউদ্দীন জানান, বিরামপুর-ঘোড়াঘাট রেলগেটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এভাবে অবহেলা চলতে থাকলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। পূর্বের গেটবারটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারনে বাঁশ ও দড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। ১০ দিনের মধ্যে নতুন বার বসানোর কাজ সম্পন্ন হবে।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিনা খাতুন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এটি নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই সেটি সম্পন্ন হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বিরামপুর রেলগেট বাঁশ ও দড়ি বেঁধে চলছে ব্যস্ত ক্রসিংয়ের কার্যক্রম বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

প্রকাশের সময় : ০১:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি : 

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম ঘোড়াঘাট-বিরামপুর রেলগেটের স্বয়ংক্রিয় গেটবারটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। রেলের এ রুট দিয়ে প্রতিদিন ১৪ জোড়া ট্রেন চলে। বিকল্প হিসেবে সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশ ও দড়ি। জোড়াতালির এই ব্যবস্থাপনার কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং যানবাহন চালকেরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের রেললাইনের উপর অবস্থিত এই রেল ক্রসিংটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও শত শত যানবাহন চলাচল করে। বিরামপুর শহরের সঙ্গে ঘোড়াঘাট উপজেলাসহ উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সিগন্যাল বার বা লোহার গেটবারটি নষ্ট হয়ে থাকায় ট্রেন আসার সময় গেটম্যানরা ম্যানুয়ালি একটি বাঁশ নামিয়ে এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। অনেক সময় ট্রেনের গতিবিধি বুঝতে না পেরে বা তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অনেক যানবাহন বাঁশের নিচ দিয়েই পার হওয়ার চেষ্টা করে, যা চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

news-picture

আবিদ হাসান নামে এক ট্রাকচালকসহ কয়েকজন বলেন, এই রেলগেটটি দিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচল করে। ডিজিটাল যুগে এসে রেলগেটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বাঁশ আর দড়ি দিয়ে ট্রেন আটকানো হচ্ছে, এটা ভাবাই যায় না। রাতের বেলা দূর থেকে এই বাঁশ চোখে পড়ে না, ফলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এই রেলে গেটে কয়েকবার বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিলো। অনেক লোক মারাও গেছে। আমরা চাই এই রেল গেটের একটি সমাধান হোক।

চালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রেলগেটে লোহার বার খারাপ হওয়ার কারণেই মূলত সব অ্যাকসিডেন্ট হচ্ছে।

দায়িত্বরত গেটম্যান সেলিম হোসেন জানান, তাদের গেটের মূল ব্যারিকেডগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে রশি ও বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড বানাতে হচ্ছে।

গেটম্যান আসাদুল্লাহর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গেটবারটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। গত দুই মাস থেকে এই অবস্থায় পড়ে আছে। তবে এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাদের এই দেশীয় পদ্ধতি (বাঁশ-দড়ি) ব্যবহার করতে হচ্ছে। ট্রেন আসার মুহূর্তে একা হাতে বিশাল বাঁশ ও দড়ি টেনে সড়ক সামলানো তাদের জন্যও বেশ কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বিরামপুর স্টেশন মাস্টার কাজী ফয়েজ আলাউদ্দীন জানান, বিরামপুর-ঘোড়াঘাট রেলগেটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এভাবে অবহেলা চলতে থাকলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। পূর্বের গেটবারটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারনে বাঁশ ও দড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। ১০ দিনের মধ্যে নতুন বার বসানোর কাজ সম্পন্ন হবে।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিনা খাতুন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এটি নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই সেটি সম্পন্ন হবে।