বিভ্রান্তকারীদের চোখে চোখে রাখুন, সমুচিত জবাব দিন : প্রধানমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিভ্রান্তকারীদের চোখে চোখে রাখতে হবে এবং তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ বিভ্রান্ত করতে এলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে। তোমাদের অতীত আমরা দেখেছি, তোমাদের অতীত আমরা জানি, তোমরা অতীতে কি করেছো। কাজেই তোমাদের কথায় আমরা কান দেবো না।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিল কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিদের মধ্যে সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কী করেছে? সেই অতীত বিবেচনা করে তাদের চোখে চোখে রাখতে হবে। সেই অতীত বিবেচনা করেই আমরা ভবিষ্যতে তারা কী করছে- সেদিকে নজর রাখতে হবে। আমরা দেখেছি একাত্তরে তাদের ভূমিকা কী ছিল? আমরা দেখেছি ছিয়াশি সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল? আমরা দেখেছি ছিয়ানব্বই সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল? বিগত ১৭ বছরের জনগণের যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনে তাদের আমরা রাজপথে দেখিনি। আন্দোলনে বিএনপিসহ বিএনপির সাথে যেই রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে ছিল, তাদের নেতাকর্মীরা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গুম-খুনের শিকার হয়েছে। আজকে যারা বড় বড় কথা বলছে, যারা জনগণকে যারা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে, তাদের আমরা রাজপথে বিগত ১৭ বছর দেখি নাই।

May be an image of one or more people, speaker and crowd

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী আছে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে, অতীতে তাদের ভূমিকা কী ছিল। ’৭১, ’৮৬ কিংবা ’৯৬ সালে তারা কী করেছে। বিগত ১৭ বছরের জনগণের আন্দোলনে তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে বিএনপি ও তার মিত্ররা। আর এখন তারা সংস্কারের কথা বলছে। অথচ দেশে সবচেয়ে আগে সংস্কারের প্রস্তাব বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই ২০২২ সালে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আজকে এরা সংস্কারের কথা বলছে। বিএনপি ২০২২ সালে সংস্কারের কথা বলেছে। কোথায় ছিলেন তখন আপনারা সংস্কার নিয়ে। এই দেশে সবচেয়ে প্রথম বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সংস্কারের প্রস্তাবনা মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন করতে হবে। ইমাম মুয়াজ্জেম সাহেবদের যে ভাতা সেটির বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। যাতে তারা মানুষের মতন মানুষ হতে পারে। দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে হবে। দেশের কল কারখানা তৈরি করতে হবে। যাতে দেশের বেকার যুবকরা, বেকার তরুণরা-তরুণীরা যাতে সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। অর্থাৎ আমাদের এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো।

তিনি বলেন, আমরা অতীতে অনেক সময় শুনেছি যে বাংলাদেশকে অমুক রাষ্ট্রের মতন বানিয়ে ফেলবো। বাংলাদেশকে তমুক দেশের মতন বানিয়ে ফেলবো। আমরা বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের মতন বানাতে চাই না। আমরা বানাতে চাই, আমরা বাংলাদেশকে তৈরি করতে চাই একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসাবে। যেই রাষ্ট্রে কমবেশি প্রতিটি শ্রেণীর মানুষকে রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা সাহায্য করবে। সহযোগিতা দিবে। যেই রাষ্ট্রে প্রত্যেকটি মানুষ প্রত্যেকটি শ্রেণীর প্রতিটি মানুষ তার মর্যাদা অনুযায়ী তার প্রাপ্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাবে।

May be an image of one or more people

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন যে আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম- আমরা দেশে ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই পরিবারের নারী প্রধানকে। কেন? এইজন্য আমরা দিতে চাই যে আমরা বিশ্বাস করি যে পরিবারের নারী বা সমগ্র বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। তাদেরকে পেছনে ফেলে কখনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। এবং সে কারণেই দেখেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি নারীদের শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। বর্তমান সরকার আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি দেশে খালেদা জিয়ার সেই পলিসিকে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমরা অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ করে দিব নারীদেরকে। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি যারা ভালো রেজাল্ট করবে তাদেরকে আমরা সরকার থেকে বৃত্তির ব্যবস্থা করবো।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় কান দেওয়া যাবে না। তারা বিভ্রান্ত করতে এলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, গ্রামের মানুষকে যাতে সামান্য অসুখেই জেলা শহর বা ঢাকায় ছুটতে না হয়, সেজন্য বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে-আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫৫৩টি উপজেলার প্রতিটি ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিলেবাস এমনভাবে তৈরি করতে চাই, যেন একজন শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণি পাস করার পরই আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। পড়ালেখার পাশাপাশি তারা যেন দুটি বিদেশি ভাষায় কথা বলতে পারে এবং যেকোনো একটি খেলা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পারদর্শী হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ আমরা আবার শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য, ক্রীড়াও যাতে একটি পেশা হতে পারে, সেভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলা।

May be an image of one or more people, dais and text that says "বালাদেশ বাংলাদেশ ফিস ক্যামি অসুস্থ, নই ন"

তিনি জানান, সম্প্রতি সরকারের আয়োজনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে দেশব্যাপী ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত চার বছর ধরে (২০২২ সালের পর থেকে) ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক অবসর ভাতা পাচ্ছিলেন না। স্বৈরাচারের আমলে সেই টাকা নয়-ছয় করে আত্মসাৎ করা হয়েছিল। আপনাদের নির্বাচিত বিএনপি সরকার গতকালই সেই শিক্ষকদের পেনশনের ব্যবস্থা করেছে এবং ভাতার বড় অংশ তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াতে না পারে। আল্লাহর রহমতে, অতীতের মতো এবার বাজেট দেওয়ার পর জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। জনগণের স্বস্তির কথা মাথায় রেখেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কৃষকদের সেচ সুবিধা ও গ্রামীণ মানুষের পানিসংকট দূর করতে খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে আগামী ২০ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করতে চাই।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চীনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামে অনেক নতুন কলকারখানা তৈরি হবে। সেখানে দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিএনপির রাজনীতি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি-এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কয়েকটি রাস্তা বা বিল্ডিং তৈরি করে আমরা বলতে চাই না যে দেশ বানিয়ে ফেলেছি। আমাদের রাজনীতি দেশের মানুষকে ঘিরে। সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ-এটাই আমাদের লক্ষ্য।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমরা অতীতে অনেক সময় শুনেছি—বাংলাদেশকে অমুক রাষ্ট্রের মতো বানিয়ে ফেলব, তমুক রাষ্ট্রের মতো বানিয়ে ফেলব। আমরা বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের মতো বানাতে চাই না। আমরা বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে চাই। যেখানে কমবেশি প্রতিটি শ্রেণির মানুষকে রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা দেবে। যে রাষ্ট্রে প্রত্যেকটি মানুষ, প্রতিটি শ্রেণির মানুষ তার মর্যাদা অনুযায়ী সহযোগিতা রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনা মূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেই পলিসি এগিয়ে নিয়ে যাবে। নারীদের অনার্স পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়ালেখার সুযোগ করে দেবে। শুধু তা-ই নয়, যারা ভালো রেজাল্ট করবে, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। বাংলাদেশের নারী সমাজকে শুধু শিক্ষিত হলে হবে না, তাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে উঠতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম—বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করব। সরকার গঠনের পরে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৩ লাখ কৃষক, যাঁদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ছিল, মওকুফ করেছি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকদের সুবিধার জন্য এবং একই সঙ্গে পানি সরবরাহের সুবিধার জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। সারা দেশে ইনশা আল্লাহ আগামী ২০ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব।’

তারেক রহমান আরও বলেন, প্রাইমারি-সেকেন্ডারিসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক গত চার বছর ধরে অবসর ভাতা পাননি। বিগত স্বৈরাচারের সময় সেই টাকা বিভিন্নভাবে আত্মসাৎ করা হয়। বিএনপি সরকার গঠন করার পরে গতকাল শনিবার এই ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষকের পেনশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৫৫৩টি উপজেলায় এখন যে ৫০ শয্যার হাসপাতাল আছে, সেগুলোকে ১৫১ বেডের হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে, যাতে খুব সিরিয়াস অসুখ না হলে কারও জেলা হাসপাতালে যাওয়া না লাগে।

তারেক রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে দেখেছেন, চায়নার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। চায়না এ দেশে অনেকগুলো কলকারখানা তৈরি করবে। যে কলকারখানায় আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। আর এগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। অবশ্যই দেশের মধ্যে শান্তি রাখতে হবে। এখন মানুষ পরিবর্তন চায়।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

কিশোরগঞ্জে দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে বৃক্ষ রোপণ করেন তারেক রহমান।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

বিভ্রান্তকারীদের চোখে চোখে রাখুন, সমুচিত জবাব দিন : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৮:০৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিভ্রান্তকারীদের চোখে চোখে রাখতে হবে এবং তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ বিভ্রান্ত করতে এলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে। তোমাদের অতীত আমরা দেখেছি, তোমাদের অতীত আমরা জানি, তোমরা অতীতে কি করেছো। কাজেই তোমাদের কথায় আমরা কান দেবো না।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিল কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিদের মধ্যে সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কী করেছে? সেই অতীত বিবেচনা করে তাদের চোখে চোখে রাখতে হবে। সেই অতীত বিবেচনা করেই আমরা ভবিষ্যতে তারা কী করছে- সেদিকে নজর রাখতে হবে। আমরা দেখেছি একাত্তরে তাদের ভূমিকা কী ছিল? আমরা দেখেছি ছিয়াশি সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল? আমরা দেখেছি ছিয়ানব্বই সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল? বিগত ১৭ বছরের জনগণের যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনে তাদের আমরা রাজপথে দেখিনি। আন্দোলনে বিএনপিসহ বিএনপির সাথে যেই রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে ছিল, তাদের নেতাকর্মীরা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গুম-খুনের শিকার হয়েছে। আজকে যারা বড় বড় কথা বলছে, যারা জনগণকে যারা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে, তাদের আমরা রাজপথে বিগত ১৭ বছর দেখি নাই।

May be an image of one or more people, speaker and crowd

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী আছে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে, অতীতে তাদের ভূমিকা কী ছিল। ’৭১, ’৮৬ কিংবা ’৯৬ সালে তারা কী করেছে। বিগত ১৭ বছরের জনগণের আন্দোলনে তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে বিএনপি ও তার মিত্ররা। আর এখন তারা সংস্কারের কথা বলছে। অথচ দেশে সবচেয়ে আগে সংস্কারের প্রস্তাব বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই ২০২২ সালে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আজকে এরা সংস্কারের কথা বলছে। বিএনপি ২০২২ সালে সংস্কারের কথা বলেছে। কোথায় ছিলেন তখন আপনারা সংস্কার নিয়ে। এই দেশে সবচেয়ে প্রথম বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সংস্কারের প্রস্তাবনা মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন করতে হবে। ইমাম মুয়াজ্জেম সাহেবদের যে ভাতা সেটির বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। যাতে তারা মানুষের মতন মানুষ হতে পারে। দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে হবে। দেশের কল কারখানা তৈরি করতে হবে। যাতে দেশের বেকার যুবকরা, বেকার তরুণরা-তরুণীরা যাতে সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। অর্থাৎ আমাদের এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো।

তিনি বলেন, আমরা অতীতে অনেক সময় শুনেছি যে বাংলাদেশকে অমুক রাষ্ট্রের মতন বানিয়ে ফেলবো। বাংলাদেশকে তমুক দেশের মতন বানিয়ে ফেলবো। আমরা বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের মতন বানাতে চাই না। আমরা বানাতে চাই, আমরা বাংলাদেশকে তৈরি করতে চাই একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসাবে। যেই রাষ্ট্রে কমবেশি প্রতিটি শ্রেণীর মানুষকে রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা সাহায্য করবে। সহযোগিতা দিবে। যেই রাষ্ট্রে প্রত্যেকটি মানুষ প্রত্যেকটি শ্রেণীর প্রতিটি মানুষ তার মর্যাদা অনুযায়ী তার প্রাপ্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাবে।

May be an image of one or more people

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন যে আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম- আমরা দেশে ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই পরিবারের নারী প্রধানকে। কেন? এইজন্য আমরা দিতে চাই যে আমরা বিশ্বাস করি যে পরিবারের নারী বা সমগ্র বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। তাদেরকে পেছনে ফেলে কখনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। এবং সে কারণেই দেখেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি নারীদের শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। বর্তমান সরকার আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি দেশে খালেদা জিয়ার সেই পলিসিকে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমরা অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ করে দিব নারীদেরকে। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি যারা ভালো রেজাল্ট করবে তাদেরকে আমরা সরকার থেকে বৃত্তির ব্যবস্থা করবো।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় কান দেওয়া যাবে না। তারা বিভ্রান্ত করতে এলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, গ্রামের মানুষকে যাতে সামান্য অসুখেই জেলা শহর বা ঢাকায় ছুটতে না হয়, সেজন্য বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে-আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫৫৩টি উপজেলার প্রতিটি ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিলেবাস এমনভাবে তৈরি করতে চাই, যেন একজন শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণি পাস করার পরই আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। পড়ালেখার পাশাপাশি তারা যেন দুটি বিদেশি ভাষায় কথা বলতে পারে এবং যেকোনো একটি খেলা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পারদর্শী হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ আমরা আবার শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য, ক্রীড়াও যাতে একটি পেশা হতে পারে, সেভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলা।

May be an image of one or more people, dais and text that says "বালাদেশ বাংলাদেশ ফিস ক্যামি অসুস্থ, নই ন"

তিনি জানান, সম্প্রতি সরকারের আয়োজনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে দেশব্যাপী ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত চার বছর ধরে (২০২২ সালের পর থেকে) ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক অবসর ভাতা পাচ্ছিলেন না। স্বৈরাচারের আমলে সেই টাকা নয়-ছয় করে আত্মসাৎ করা হয়েছিল। আপনাদের নির্বাচিত বিএনপি সরকার গতকালই সেই শিক্ষকদের পেনশনের ব্যবস্থা করেছে এবং ভাতার বড় অংশ তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াতে না পারে। আল্লাহর রহমতে, অতীতের মতো এবার বাজেট দেওয়ার পর জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। জনগণের স্বস্তির কথা মাথায় রেখেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কৃষকদের সেচ সুবিধা ও গ্রামীণ মানুষের পানিসংকট দূর করতে খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে আগামী ২০ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করতে চাই।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চীনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামে অনেক নতুন কলকারখানা তৈরি হবে। সেখানে দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিএনপির রাজনীতি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি-এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কয়েকটি রাস্তা বা বিল্ডিং তৈরি করে আমরা বলতে চাই না যে দেশ বানিয়ে ফেলেছি। আমাদের রাজনীতি দেশের মানুষকে ঘিরে। সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ-এটাই আমাদের লক্ষ্য।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমরা অতীতে অনেক সময় শুনেছি—বাংলাদেশকে অমুক রাষ্ট্রের মতো বানিয়ে ফেলব, তমুক রাষ্ট্রের মতো বানিয়ে ফেলব। আমরা বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের মতো বানাতে চাই না। আমরা বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে চাই। যেখানে কমবেশি প্রতিটি শ্রেণির মানুষকে রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা দেবে। যে রাষ্ট্রে প্রত্যেকটি মানুষ, প্রতিটি শ্রেণির মানুষ তার মর্যাদা অনুযায়ী সহযোগিতা রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনা মূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেই পলিসি এগিয়ে নিয়ে যাবে। নারীদের অনার্স পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়ালেখার সুযোগ করে দেবে। শুধু তা-ই নয়, যারা ভালো রেজাল্ট করবে, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। বাংলাদেশের নারী সমাজকে শুধু শিক্ষিত হলে হবে না, তাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে উঠতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম—বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করব। সরকার গঠনের পরে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৩ লাখ কৃষক, যাঁদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ছিল, মওকুফ করেছি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকদের সুবিধার জন্য এবং একই সঙ্গে পানি সরবরাহের সুবিধার জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। সারা দেশে ইনশা আল্লাহ আগামী ২০ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব।’

তারেক রহমান আরও বলেন, প্রাইমারি-সেকেন্ডারিসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক গত চার বছর ধরে অবসর ভাতা পাননি। বিগত স্বৈরাচারের সময় সেই টাকা বিভিন্নভাবে আত্মসাৎ করা হয়। বিএনপি সরকার গঠন করার পরে গতকাল শনিবার এই ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষকের পেনশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৫৫৩টি উপজেলায় এখন যে ৫০ শয্যার হাসপাতাল আছে, সেগুলোকে ১৫১ বেডের হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে, যাতে খুব সিরিয়াস অসুখ না হলে কারও জেলা হাসপাতালে যাওয়া না লাগে।

তারেক রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে দেখেছেন, চায়নার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। চায়না এ দেশে অনেকগুলো কলকারখানা তৈরি করবে। যে কলকারখানায় আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। আর এগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। অবশ্যই দেশের মধ্যে শান্তি রাখতে হবে। এখন মানুষ পরিবর্তন চায়।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

কিশোরগঞ্জে দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে বৃক্ষ রোপণ করেন তারেক রহমান।