বিএনপি ও জামায়াতসহ আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে ৩৮ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল : ইসি সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিগত পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতসহ ৩৮টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলগুলোর অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ইসি সচিব বলেন, মোট ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে বর্তমানে একটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। বাকি ৫৮টি দলের মধ্যে ৩৮টি তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল করেছে, ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে এবং অবশিষ্ট ৮টি দল ইসি থেকে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। আইন অনুযায়ী কোনো সাড়া না দেওয়া দলগুলোকে শিগগিরই নোটিশ পাঠানো হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও আইন সংশোধন নিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনের কিছু প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞা স্পষ্ট করা, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সুপারিশগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সময়সীমা নিয়ে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির তিনটি মূল ধাপ রয়েছে: আইন ও বিধিমালা, সরঞ্জামাদি এবং প্রশিক্ষণ। নির্বাচন কমিশন তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচনের তারিখের মধ্যে সাধারণত ৪৫ দিনের ব্যবধান থাকে। এছাড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত ও প্রিন্ট করতে আরও প্রায় দেড় মাস সময় লাগে। সব মিলিয়ে একটি নির্বাচনের জন্য প্রায় ৩ মাসের একটি ব্যাকওয়ার্ড ক্যালকুলেশন বা প্রস্তুতি সময় প্রয়োজন হয়।

ভোটার তালিকার বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ হবে তাদের নিয়ে তালিকা করা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় পিছিয়ে সম্পূরক ভোটার তালিকা করা যেতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সংলাপের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে জানানো হয়েছে যে, ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিধিমালা নিয়ে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। বাড়তি কোনো সংলাপের বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। এই নির্বাচন আয়োজনের জন্য ভোটার তালিকা তৈরি করতে সংসদ সচিবালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আখতার আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ বা শিডিউল বা অন্য কোনো কিছু ঠিক হয়নি। আমরা ভোটার তালিকার জন্য পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েটের কাছে অনুরোধ করেছি। তারা ভোটার তালিকাটা দেবেন।

তিনি বলেন, ভোটার তালিকা পাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ এবং বা শিডিউল এই জিনিসগুলো নিয়ে কাজ হবে।

তিনি বলেন, আমরা ভোটার তালিকার জন্য পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েটে ওনাদের কাছে অনুরোধ করেছি, যেন ভোটার তালিকাটা ওনারা দেন। ভোটার তালিকা পাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ এবং শিডিউল এ জিনিসগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সেই পদেই এখন ভোটের প্রস্তুতি চলছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেবল সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে থাকেন। তাই তাদের তালিকা নিয়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি।

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন নিয়ে ইসি সচিব বলেন, এনআইডি নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু কমিটির রিকমেন্ডেশনগুলো এখনো ক্রিস্টালাইজ করা হয়নি। ব্রড ফ্রেম অফ রেফারেন্সে আলোচনাটা করা হয়েছে। কিন্তু এসওপিটা (SOP) করা হয়নি, কী কী জিনিস তারা দেখবে। যাতে কোনো রকমের অসংগতি না থাকে। আমি একটা পুরা ব্রিফিং দেবো সামগ্রিক বিষয় নিয়ে।

তিনি সচিব বলেন, গতকাল এক ভদ্রলোক এসেছেন জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য। উনি যে বয়সটা চাচ্ছেন ২০০৮ (ডিসেম্বর), তাহলে ২০০৮-এর যেই কাঙ্ক্ষিত বয়সটা চাচ্ছেন সেই অনুযায়ী দেখা যায়, উনি সাত বছর চার মাস বয়সে ভোটার হয়েছেন। তাহলে সাত বছর চার মাসের একজনকে ভোটার হতে হবে? এটা না করে দিলে আমরা অপরাধী, তো আমার কিছু বলার নেই।

সব ডকুমেন্টে তথ্যের মিল থাকার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, পাসপোর্ট হচ্ছে ট্রাভেল ডকুমেন্ট (travel document), এনআইডি হচ্ছে ন্যাশনাল ডকুমেন্ট (national document)। বার্থ অ্যান্ড ডেথ রেজিস্ট্রেশনের (Birth and Death Registration) সার্টিফিকেটের ওপর আমরা নির্ভরশীল, আমাদেরটার ওপর নির্ভরশীল পাসপোর্ট। তো একটা চেইন (chain) আছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বিমান খাতে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে সরকার : বিমানমন্ত্রী

বিএনপি ও জামায়াতসহ আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে ৩৮ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল : ইসি সচিব

প্রকাশের সময় : ০৪:০৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিগত পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতসহ ৩৮টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলগুলোর অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ইসি সচিব বলেন, মোট ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে বর্তমানে একটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। বাকি ৫৮টি দলের মধ্যে ৩৮টি তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল করেছে, ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে এবং অবশিষ্ট ৮টি দল ইসি থেকে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। আইন অনুযায়ী কোনো সাড়া না দেওয়া দলগুলোকে শিগগিরই নোটিশ পাঠানো হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও আইন সংশোধন নিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনের কিছু প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞা স্পষ্ট করা, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সুপারিশগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সময়সীমা নিয়ে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির তিনটি মূল ধাপ রয়েছে: আইন ও বিধিমালা, সরঞ্জামাদি এবং প্রশিক্ষণ। নির্বাচন কমিশন তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচনের তারিখের মধ্যে সাধারণত ৪৫ দিনের ব্যবধান থাকে। এছাড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত ও প্রিন্ট করতে আরও প্রায় দেড় মাস সময় লাগে। সব মিলিয়ে একটি নির্বাচনের জন্য প্রায় ৩ মাসের একটি ব্যাকওয়ার্ড ক্যালকুলেশন বা প্রস্তুতি সময় প্রয়োজন হয়।

ভোটার তালিকার বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ হবে তাদের নিয়ে তালিকা করা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় পিছিয়ে সম্পূরক ভোটার তালিকা করা যেতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সংলাপের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে জানানো হয়েছে যে, ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিধিমালা নিয়ে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। বাড়তি কোনো সংলাপের বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। এই নির্বাচন আয়োজনের জন্য ভোটার তালিকা তৈরি করতে সংসদ সচিবালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আখতার আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ বা শিডিউল বা অন্য কোনো কিছু ঠিক হয়নি। আমরা ভোটার তালিকার জন্য পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েটের কাছে অনুরোধ করেছি। তারা ভোটার তালিকাটা দেবেন।

তিনি বলেন, ভোটার তালিকা পাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ এবং বা শিডিউল এই জিনিসগুলো নিয়ে কাজ হবে।

তিনি বলেন, আমরা ভোটার তালিকার জন্য পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েটে ওনাদের কাছে অনুরোধ করেছি, যেন ভোটার তালিকাটা ওনারা দেন। ভোটার তালিকা পাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ এবং শিডিউল এ জিনিসগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সেই পদেই এখন ভোটের প্রস্তুতি চলছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেবল সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে থাকেন। তাই তাদের তালিকা নিয়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি।

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন নিয়ে ইসি সচিব বলেন, এনআইডি নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু কমিটির রিকমেন্ডেশনগুলো এখনো ক্রিস্টালাইজ করা হয়নি। ব্রড ফ্রেম অফ রেফারেন্সে আলোচনাটা করা হয়েছে। কিন্তু এসওপিটা (SOP) করা হয়নি, কী কী জিনিস তারা দেখবে। যাতে কোনো রকমের অসংগতি না থাকে। আমি একটা পুরা ব্রিফিং দেবো সামগ্রিক বিষয় নিয়ে।

তিনি সচিব বলেন, গতকাল এক ভদ্রলোক এসেছেন জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য। উনি যে বয়সটা চাচ্ছেন ২০০৮ (ডিসেম্বর), তাহলে ২০০৮-এর যেই কাঙ্ক্ষিত বয়সটা চাচ্ছেন সেই অনুযায়ী দেখা যায়, উনি সাত বছর চার মাস বয়সে ভোটার হয়েছেন। তাহলে সাত বছর চার মাসের একজনকে ভোটার হতে হবে? এটা না করে দিলে আমরা অপরাধী, তো আমার কিছু বলার নেই।

সব ডকুমেন্টে তথ্যের মিল থাকার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, পাসপোর্ট হচ্ছে ট্রাভেল ডকুমেন্ট (travel document), এনআইডি হচ্ছে ন্যাশনাল ডকুমেন্ট (national document)। বার্থ অ্যান্ড ডেথ রেজিস্ট্রেশনের (Birth and Death Registration) সার্টিফিকেটের ওপর আমরা নির্ভরশীল, আমাদেরটার ওপর নির্ভরশীল পাসপোর্ট। তো একটা চেইন (chain) আছে।