চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
নৌ পরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, মেরিটাইম খাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে। বাংলাদেশও দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে সমুদ্র খাতে আরও এগিয়ে যেতে চায়।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ২৮তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ বিকাশ। আপনারা শুধু ব্যক্তি নন, আপনারা জাতির সম্পদ। বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে গিয়ে আপনারা বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরবেন, দেশের সক্ষমতা ও স্মার্টনেস প্রদর্শন করবেন। যারা এই কোর্স সম্পন্ন করে সমুদ্রে যাবেন, তারা নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখেছেন। জাহাজ ব্যবস্থাপনা কিংবা নৌ চলাচল-যেখানেই থাকুন না কেন, দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশই জলভাগ, যা একসময় ছিল দুর্গম। তবে আধুনিক বিশ্ব সেই সীমাবদ্ধতা জয় করেছে।
কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, একমাত্র অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা অনেক সময় বেকারত্ব তৈরি করে। এর বিপরীতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেয়। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত মেরিটাইম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থেকে ইতোমধ্যে হাজারো দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে এই খাত আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নবীন ক্যাডেটদের দেশ ও জাতির সম্পদ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মূল ভিত্তি। আপনারা যখন বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে কাজ করবেন, তখন আপনাদের পেশাদারিত্ব ও স্মার্টনেসের মাধ্যমেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।
প্রশিক্ষণকালীন প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ জয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, পৃথিবীর দুই-তৃতীয়াংশই জলভাগ। এক সময়ের দুর্গম এই সমুদ্র আজ আধুনিক বিশ্বের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। জাহাজ ব্যবস্থাপনা বা নৌ-চলাচল—যে বিভাগেই আপনারা থাকুন না কেনো, সততা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, কেবল সার্টিফিকেটসর্বস্ব শিক্ষা অনেক সময় বেকারত্বের সৃষ্টি করে। কিন্তু মেরিটাইম প্রশিক্ষণের মতো কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। নব্বইয়ের দশক থেকে এই ইনস্টিটিউট যে দক্ষ জনবল তৈরি করছে, তা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে এই খাতের আরও আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, সরকার দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। বন্দরের লাভ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সামগ্রিক সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মালিকানাধীন জাহাজ বাংলার জয়যাত্রাকে ফেরাতে কূটনৈতিক চ্যানেলে সব ধরনের কাজ চলছে বলে জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ ফেরাতে কাজ চলছে। জাহাজে সম্ভবত ৩৫ জন নাবিক রয়েছেন। তারা ভালো আছেন। তাদের মনোবল চাঙা রাখা হয়েছে। তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর নিচ্ছি। তারা তাড়াতাড়ি চলে আসবেন। সরকার কূটনৈতিক পন্থায় কাজ করছে, সবসময় কাজ চলছে। এর কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি কী হবে সেটি কেউ জানে না। যখন কোনো পরিস্থিতি উদ্ভব হয়, ওই পরিস্থিতিতে যা যা করণীয় সরকার তা তা করছে। এটি এমন না যে, আপনি একটা রোডম্যাপ দিয়ে দিলেন, সেভাবে চলবে। একেকটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। সেটাকে কীভাবে ম্যানেজ করা যায়, সেভাবে আমাদের দপ্তর সারাক্ষণ কাজ করছে। তবে এতে নিশ্চয়ই দেশ ও রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরদের দেওয়ার কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, যে অবস্থায় এগিয়েছিল, সে অবস্থায় এখনো আছে। আমরা বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করছি। আমাদের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা হবে, বন্দরের নিরাপত্তা কীভাবে থাকবে, দিনে দিনে আমাদের টেকনোলজি যেটি অর্জন করার দরকার সেটি আমরা বন্দর ব্যবস্থাপনায় কীভাবে অর্জন করতে পারি, এর সুফল কী কী আছে, আবার অন্য কোনো কোম্পানিকে দিলে আমাদের সক্ষমতায় কোনো ব্যত্যয় ঘটে কী না- এ ধরনের বহুমুখী চিন্তা ও সমস্যাগুলো আমলে নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মনে রাখবেন, যা-ই করা হবে, দেশ ও জনগণের আস্থা ধারণ করেই সিদ্ধান্ত নেবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের উদ্দেশে তিনি স্বাস্থ্য সচেতনতার কথাও উল্লেখ করেন। দীর্ঘসময় রোদে প্যারেড করার কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ ও দক্ষতা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি 






















