Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন বিমানঘাঁটির ঘোষণা

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি : 

বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে এখানে বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপন এবং পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বগুড়া এয়ারফিল্ড ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিমানবাহিনী প্রধান এসব তথ্য জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কার্গো সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে এই অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের মালামাল সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করা যায়।

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের এই বিমানবন্দরের জন্য ১০ হাজার ৫০০ ফুটের একটি রানওয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার ফিজিবিলিটি স্টাডি দ্রুত শুরু হবে। বিমানবন্দর ও ঘাঁটি এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের বাজারমূল্যের তিনগুণ অর্থ প্রদান করা হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, ২০ এপ্রিল আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কার্গো সুবিধা, প্রশিক্ষণ একাডেমি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে বগুড়াসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

রানওয়ে সম্প্রসারণে যেসব স্থাপনা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে সেগুলো অধিগ্রহণ করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে বড়মহর গ্রাম এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে নতুন করে যেন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দেশে দক্ষ বৈমানিকের অভাব দূর করতে বগুড়ায় একটি উন্নত ফ্লাইং একাডেমি পরিচালনা করা হবে। এখানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের পাইলট তৈরি করা হবে, যা সাধারণ পরিবারের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।

উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম অ্যাভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়ে আফরোজা খানম রিতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা বগুড়া পরিদর্শনে এসেছি। উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম অ্যাভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা হবে।

বগুড়াবাসী সত্যিই ভাগ্যবান। মন্ত্রণালয়ের এই বৃহৎ পরিকল্পনার যাত্রা বগুড়া দিয়েই শুরু হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আমরা কোনো দীর্ঘসূত্রতায় যাব না, দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক বিমান উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে বেবিচককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। স্থানীয় উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন একটি বড় ঘোষণা দিয়ে বলেন, বগুড়ার স্ট্র্যাটেজিক ইম্পর্টেন্স বা কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। এখানে একটি অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন সরকার দিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার নতুন জঙ্গি বিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সেই আধুনিক জঙ্গি বিমানগুলো বগুড়া ঘাঁটিতেই মোতায়েন করা হবে। এটি জাতীয় আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করবে।

হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।’

তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে বগুড়া এয়ারফিল্ড সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর জন্য বেবিচক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

পরিদর্শনকালে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের মোশারফ হোসেন, বেবিচকের চেয়ারম্যানসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বগুড়া ছাড়াও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর অর্থনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া

ছেলের কবরের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সেলিনা জেটলি

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন বিমানঘাঁটির ঘোষণা

প্রকাশের সময় : ০২:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি : 

বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে এখানে বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপন এবং পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বগুড়া এয়ারফিল্ড ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিমানবাহিনী প্রধান এসব তথ্য জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কার্গো সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে এই অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের মালামাল সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করা যায়।

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের এই বিমানবন্দরের জন্য ১০ হাজার ৫০০ ফুটের একটি রানওয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার ফিজিবিলিটি স্টাডি দ্রুত শুরু হবে। বিমানবন্দর ও ঘাঁটি এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের বাজারমূল্যের তিনগুণ অর্থ প্রদান করা হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, ২০ এপ্রিল আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কার্গো সুবিধা, প্রশিক্ষণ একাডেমি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে বগুড়াসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

রানওয়ে সম্প্রসারণে যেসব স্থাপনা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে সেগুলো অধিগ্রহণ করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে বড়মহর গ্রাম এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে নতুন করে যেন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দেশে দক্ষ বৈমানিকের অভাব দূর করতে বগুড়ায় একটি উন্নত ফ্লাইং একাডেমি পরিচালনা করা হবে। এখানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের পাইলট তৈরি করা হবে, যা সাধারণ পরিবারের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।

উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম অ্যাভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়ে আফরোজা খানম রিতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা বগুড়া পরিদর্শনে এসেছি। উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম অ্যাভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা হবে।

বগুড়াবাসী সত্যিই ভাগ্যবান। মন্ত্রণালয়ের এই বৃহৎ পরিকল্পনার যাত্রা বগুড়া দিয়েই শুরু হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আমরা কোনো দীর্ঘসূত্রতায় যাব না, দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক বিমান উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে বেবিচককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। স্থানীয় উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন একটি বড় ঘোষণা দিয়ে বলেন, বগুড়ার স্ট্র্যাটেজিক ইম্পর্টেন্স বা কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। এখানে একটি অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন সরকার দিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার নতুন জঙ্গি বিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সেই আধুনিক জঙ্গি বিমানগুলো বগুড়া ঘাঁটিতেই মোতায়েন করা হবে। এটি জাতীয় আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করবে।

হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।’

তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে বগুড়া এয়ারফিল্ড সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর জন্য বেবিচক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

পরিদর্শনকালে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের মোশারফ হোসেন, বেবিচকের চেয়ারম্যানসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বগুড়া ছাড়াও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর অর্থনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।