Dhaka শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়িতে ভাঙা-জোড়া কাঠের সেতু পারাপারে ভরসা পাঁচ গ্রামের মানুষের

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের দক্ষিণ বান্দরমারা এলাকায় এনায়েতপুর ছড়ার ওপর নির্মিত এই ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু (কালভার্ট) দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন পাঁচ গ্রামের প্রায় চার হাজার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ ও ৪ ফুট প্রস্থের কাঠের এই সেতুটি গাছের খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কোথাও কোথাও তক্তা আলগা, আবার কোথাও খুঁটি হেলে পড়েছে। মোটরসাইকেল ও সাইকেল নিয়েও অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অন্তত ৩০ বছর ধরে গাছের খুঁটি ও কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি এই সেতুটি মেরামত আর ভাঙা-গড়ার মধ্যেই টিকে আছে। কিন্তু আজও সেখানে নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী পাকা সেতু।

দাঁতমারা ইউনিয়ন সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই সেতু দিয়ে বড় বেতুয়া, ছোট বেতুয়া, ঘরকাটা, শেষ ছড়া, হাসনাবাদ ও কাঞ্চনা এলাকার মানুষ চলাচল করেন। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী, দিনমজুর, ব্যবসায়ী। সবাইকে এই সেতুর ওপরই নির্ভর করতে হয়।

শিক্ষার্থী আমিন বলে, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাই। সেতুর কাছে এলেই ভয় লাগে—পড়ে যাব কি না।

স্থানীয় দোকানদার রেজাউল করিম বলেন, এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করে। বন্যা হলে অনেক দিন চলাচল বন্ধ থাকে। তখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। বহুবার বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি- শুধু আশ্বাসই পেয়েছি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ২০ ফুটের একটি সেতুর অভাবে মানুষের কত কষ্ট, তা বলে বোঝানো যাবে না। যোগাযোগের অভাবে অনেক কিছুই থেমে থাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছরই এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে গাছের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে সেতুটি মেরামত করা হয়। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম জানান, সেতুটি নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে শুধু আশ্বাসই পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণ করে এলাকার মানুষের ভোগান্তি দূর করা হোক।

আবহাওয়া

ফটিকছড়িতে ভাঙা-জোড়া কাঠের সেতু পারাপারে ভরসা পাঁচ গ্রামের মানুষের

প্রকাশের সময় : ০৩:২৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের দক্ষিণ বান্দরমারা এলাকায় এনায়েতপুর ছড়ার ওপর নির্মিত এই ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু (কালভার্ট) দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন পাঁচ গ্রামের প্রায় চার হাজার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ ও ৪ ফুট প্রস্থের কাঠের এই সেতুটি গাছের খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কোথাও কোথাও তক্তা আলগা, আবার কোথাও খুঁটি হেলে পড়েছে। মোটরসাইকেল ও সাইকেল নিয়েও অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অন্তত ৩০ বছর ধরে গাছের খুঁটি ও কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি এই সেতুটি মেরামত আর ভাঙা-গড়ার মধ্যেই টিকে আছে। কিন্তু আজও সেখানে নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী পাকা সেতু।

দাঁতমারা ইউনিয়ন সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই সেতু দিয়ে বড় বেতুয়া, ছোট বেতুয়া, ঘরকাটা, শেষ ছড়া, হাসনাবাদ ও কাঞ্চনা এলাকার মানুষ চলাচল করেন। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী, দিনমজুর, ব্যবসায়ী। সবাইকে এই সেতুর ওপরই নির্ভর করতে হয়।

শিক্ষার্থী আমিন বলে, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাই। সেতুর কাছে এলেই ভয় লাগে—পড়ে যাব কি না।

স্থানীয় দোকানদার রেজাউল করিম বলেন, এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করে। বন্যা হলে অনেক দিন চলাচল বন্ধ থাকে। তখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। বহুবার বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি- শুধু আশ্বাসই পেয়েছি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ২০ ফুটের একটি সেতুর অভাবে মানুষের কত কষ্ট, তা বলে বোঝানো যাবে না। যোগাযোগের অভাবে অনেক কিছুই থেমে থাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছরই এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে গাছের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে সেতুটি মেরামত করা হয়। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম জানান, সেতুটি নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে শুধু আশ্বাসই পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণ করে এলাকার মানুষের ভোগান্তি দূর করা হোক।