নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার পরিবর্তনের সুফল মিলবে ৫ বছর পর। আগামী বছরের মধ্যে ‘মিড ডে মিলে কুকড মিলে’র একটি প্রজেক্ট সম্পন্ন করা হবে। এ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের স্কুলগুলোতে শিগগিরই ‘মিড ডে মিল’ চালু করা হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সংলাপ: সরকার কতখানি এগোলো? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষকরা তাদের প্রপোজাল জমা দেবে, আগামী বছরের মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে শেষ হওয়ার আশা।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে সরকারি, বেসরকারি, ইবতেদায়ি, মাদরাসা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রাইমারি শিক্ষাব্যবস্থার অধীনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুলের সময়সীমা এক শিফটে আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। ২০২৮-এর মধ্যে নতুন কারিকুলামে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হবে।
দেশের সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কিন্ডারগার্টেনসহ প্রাথমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। দেশে যে ধরনের বা যে ব্যবস্থাপনাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হোক না কেন, সেখানে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি, এক শিফট চালু এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকর শিখনসময় নিশ্চিত করার বিষয়েও নতুন করে ভাবা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
শিক্ষক সংকট প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষক নিয়োগ, পেশাগত ক্যারিয়ার, মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন—সব বিষয়কে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার কাজ চলছে। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে তাঁদের ক্যারিয়ার ট্রাজেক্টরি, মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণ কীভাবে হবে, এসব বিষয় বাস্তব ও যৌক্তিকভাবে সাজানোর কাজ চলছে।
প্রাথমিক শিক্ষায় চলমান সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রকৃত প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন বা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সাফল্য সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কতটা শিখছে এবং তাদের শেখার ফলাফলে কতটা পরিবর্তন এসেছে, সেটিই প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত।
প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো, প্রযুক্তি, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রকল্পভিত্তিক উন্নয়ন হয়েছে। এসব উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও শিক্ষার্থীর শেখার ফলাফলকে কেন্দ্র করে পুরো ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে সাজাতে হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ভবন নির্মাণ একটি কাজ, আর শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও শেখা আরেকটি কাজ। দুটোকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীর শেখার ফলাফল নিশ্চিত করাই হতে হবে মূল লক্ষ্য।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি, এক শিফট চালু এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকর শিখনসময় নিশ্চিত করার বিষয়েও নতুনভাবে ভাবা হচ্ছে জানিয়ে ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, কারিকুলাম প্রণয়নে শিশুমনোবিজ্ঞানী ও প্রারম্ভিক শিক্ষার বিশেষজ্ঞদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সব ধরনের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা তৈরি করে ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কিন্ডারগার্টেন ও অন্যান্য প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেশের সব ধরনের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। এই দেশের মাটিতে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই থাকুক না কেন, সেখানে শিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান এবং চিকিৎসক তাসনিম জারা।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। এ ছাড়া শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















