পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ১৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে পর্যটকবাহী একটি ছোট বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বিদেশি পর্যটক এবং দুই জন ক্রু সদস্য রয়েছেন।

শনিবার (১ আগস্ট) দুর্ঘটনার সময় বিমানটি যাত্রীদের বিখ্যাত নাজকা লাইনস দেখাতে নিয়ে যাচ্ছিল। যাত্রীদের বেশির ভাগই পর্যটক ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (১ আগস্ট) বিমানটি পর্যটকদের নিয়ে পেরুর বিখ্যাত ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘নাজকা লাইনস’ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। বিমানটি ইকা বিভাগের পিসকো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ মেজর হোর্হে আন্দ্রেদে সাংবাদিকদের জানান, বিমানে থাকা ১১ জন যাত্রী ও ২ জন ক্রুর সবাই মারা গেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা যায়, বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পরপরই চারদিকে আগুন ধরে যায়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। বিমানটি পেরুর ভ্রমণ সংস্থা অ্যারোডিয়ানা’র ছিল। তবে দুর্ঘটনার মূল কারণ এখনো জানা যায়নি।

পেরুর পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন ইতালির নাগরিক, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে। এছাড়া স্পেনের দুইজন ৫২ বছর বয়সী নাগরিক এবং জার্মানির ৭৭ ও ৭৮ বছর বয়সী দুই নাগরিক রয়েছেন। বাকি দুইজন হলেন বিমানের পাইলট আমেরিকো সালাজার এবং সহ-পাইলট ইরেঙ্কা গুয়ানিলো দেল কার্পিও।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই আগুনে পুড়ে যায়, ফলে কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিমানটি ইকা বিভাগের পিসকো শহর থেকে উড্ডয়ন করেছিল।

প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজি দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

পেরু পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। মাচু পিচুর ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ, কুসকোর ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং নাসকা লাইনস দেখতে প্রতি বছর লাখো পর্যটক দেশটিতে ভ্রমণ করেন। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পেরুতে ৪১ লাখের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।

পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের আন্দিজ পর্বতমালা-সংলগ্ন মরুভূমিতে অবস্থিত নাসকা লাইনসকে ইউনেস্কো “প্রত্নতত্ত্বের অন্যতম বৃহৎ রহস্য” হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশাল আকৃতির এই জিওগ্লিফগুলোতে প্রাণী, উদ্ভিদ, কাল্পনিক সত্তা ও কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ জ্যামিতিক নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ধারণা করা হয়, এগুলোর সঙ্গে প্রাচীন জ্যোতির্বিদ্যা-সংক্রান্ত আচার-অনুষ্ঠানের সম্পর্ক ছিল। বিশাল আয়তনের কারণে নাসকা লাইনস মূলত আকাশ থেকেই সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়।

বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় পড়া বিমানটি পেরুর পর্যটনসেবা প্রতিষ্ঠান অ্যারোডিয়ানা পরিচালিত ছিল।

পেরু দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। দেশটির বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৪১ লাখ বিদেশি পর্যটক পেরু ভ্রমণ করেন। তাদের অন্যতম আকর্ষণ ইনকা সভ্যতার নিদর্শন মাচু পিচ্চু, কুসকোর ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং নাজকা লাইনস।

খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে খ্রিস্টাব্দ ৫০০-এর মধ্যবর্তী সময়ে মাটিতে খোদাই করা বিশালাকার জ্যামিতিক নকশা ও পশুপাখির চিত্রের জন্য ‘নাজকা লাইনস’ বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এটি ইউনেস্কো স্বীকৃত একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। এসব বিশালাকার মূর্তি ও নকশা বিমান থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় বলেই পর্যটকরা আকাশপথে এটি পরিদর্শনে যান। মাচু পিচু, কুস্কো ও নাজকা লাইনসের মতো বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের কারণে প্রতিবছর পেরুতে লাখ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটকের সমাগম ঘটে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

গাজীপুরে পরিবহন সমিতির বাস বন্ধের আল্টিমেটাম

পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ১৩

প্রকাশের সময় : ১২:৩২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে পর্যটকবাহী একটি ছোট বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বিদেশি পর্যটক এবং দুই জন ক্রু সদস্য রয়েছেন।

শনিবার (১ আগস্ট) দুর্ঘটনার সময় বিমানটি যাত্রীদের বিখ্যাত নাজকা লাইনস দেখাতে নিয়ে যাচ্ছিল। যাত্রীদের বেশির ভাগই পর্যটক ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (১ আগস্ট) বিমানটি পর্যটকদের নিয়ে পেরুর বিখ্যাত ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘নাজকা লাইনস’ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। বিমানটি ইকা বিভাগের পিসকো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ মেজর হোর্হে আন্দ্রেদে সাংবাদিকদের জানান, বিমানে থাকা ১১ জন যাত্রী ও ২ জন ক্রুর সবাই মারা গেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা যায়, বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পরপরই চারদিকে আগুন ধরে যায়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। বিমানটি পেরুর ভ্রমণ সংস্থা অ্যারোডিয়ানা’র ছিল। তবে দুর্ঘটনার মূল কারণ এখনো জানা যায়নি।

পেরুর পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন ইতালির নাগরিক, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে। এছাড়া স্পেনের দুইজন ৫২ বছর বয়সী নাগরিক এবং জার্মানির ৭৭ ও ৭৮ বছর বয়সী দুই নাগরিক রয়েছেন। বাকি দুইজন হলেন বিমানের পাইলট আমেরিকো সালাজার এবং সহ-পাইলট ইরেঙ্কা গুয়ানিলো দেল কার্পিও।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই আগুনে পুড়ে যায়, ফলে কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিমানটি ইকা বিভাগের পিসকো শহর থেকে উড্ডয়ন করেছিল।

প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজি দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

পেরু পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। মাচু পিচুর ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ, কুসকোর ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং নাসকা লাইনস দেখতে প্রতি বছর লাখো পর্যটক দেশটিতে ভ্রমণ করেন। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পেরুতে ৪১ লাখের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।

পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের আন্দিজ পর্বতমালা-সংলগ্ন মরুভূমিতে অবস্থিত নাসকা লাইনসকে ইউনেস্কো “প্রত্নতত্ত্বের অন্যতম বৃহৎ রহস্য” হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশাল আকৃতির এই জিওগ্লিফগুলোতে প্রাণী, উদ্ভিদ, কাল্পনিক সত্তা ও কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ জ্যামিতিক নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ধারণা করা হয়, এগুলোর সঙ্গে প্রাচীন জ্যোতির্বিদ্যা-সংক্রান্ত আচার-অনুষ্ঠানের সম্পর্ক ছিল। বিশাল আয়তনের কারণে নাসকা লাইনস মূলত আকাশ থেকেই সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়।

বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় পড়া বিমানটি পেরুর পর্যটনসেবা প্রতিষ্ঠান অ্যারোডিয়ানা পরিচালিত ছিল।

পেরু দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। দেশটির বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৪১ লাখ বিদেশি পর্যটক পেরু ভ্রমণ করেন। তাদের অন্যতম আকর্ষণ ইনকা সভ্যতার নিদর্শন মাচু পিচ্চু, কুসকোর ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং নাজকা লাইনস।

খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে খ্রিস্টাব্দ ৫০০-এর মধ্যবর্তী সময়ে মাটিতে খোদাই করা বিশালাকার জ্যামিতিক নকশা ও পশুপাখির চিত্রের জন্য ‘নাজকা লাইনস’ বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এটি ইউনেস্কো স্বীকৃত একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। এসব বিশালাকার মূর্তি ও নকশা বিমান থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় বলেই পর্যটকরা আকাশপথে এটি পরিদর্শনে যান। মাচু পিচু, কুস্কো ও নাজকা লাইনসের মতো বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের কারণে প্রতিবছর পেরুতে লাখ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটকের সমাগম ঘটে।