ধর্ষণ কিংবা দুর্নীতি ছোট-বড় হয় না, সবই সমান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

উচ্চ দুর্নীতি এবং নিম্ন দুর্নীতি বলে কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দুর্নীতি ছোট হয় না। বড়ও হয় না। যেমন ধর্ষণ ছোটও হয় না, বড়ও হয় না।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীকে আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয়, আমরা তো এখন দুর্নীতি দমন কমিশন-সংক্রান্ত আলোচনায় আছি, অনুগ্রহ করে সে বিষয়েই বক্তব্য শেষ করুন।’

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির ক্ষেত্রেও অনেকে উচ্চ ও নিম্ন দুর্নীতির কথা বলেন। কিন্তু আইনে উচ্চ বা নিম্ন দুর্নীতির কোনো পৃথক সংজ্ঞা নেই। দুর্নীতি মানেই দুর্নীতি। এখানে ছোট-বড় বলে কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘ঠিক একইভাবে ধর্ষণের ক্ষেত্রেও কোনো ছোট-বড় নেই। সব ঘটনাই সমান গুরুত্বের। তাই যে কোনো ধর্ষণের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ডেফিনিশনে উচ্চ দুর্নীতিও নেই, নিম্ন দুর্নীতিও নেই। যেমন ধর্ষণ ছোটও হয় না, বড়ও হয় না। সবই সমান। ধর্ষণের ক্ষেত্রে একটা বিচার চাইবো, আরেকটা চাইবো না তা হয় না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গতকাল এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে। তখন আমার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হয়নি। বিরোধী দলের একজন নেতা একটি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, ১৯ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও সরকার ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে পারবে কি না। পরে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে আমরা বিবৃতি দিয়েছি।
তিনি বলেন, আসলে তারা ধর্ষণের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, নাকি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন-সেটি জনগণই মূল্যায়ন করবে।

জাতীয় সংসদে দুদকের বরাদ্দ সংক্রান্ত ছাঁটাই প্রস্তাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা দুদক যেহেতু শক্তিশালী করতে চাই এটা জাতির প্রত্যাশা সেজন্য। এখানে কিছু আইনি ইনফ্রাস্ট্রাকচার আছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, একটা অর্গানাইজেশন হিসেবে শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করবো। আমরা দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটা তখন গ্রহণ করিনি। এখন আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হবে।

একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হবে বলেই দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের অধ্যাদেশটি গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটা অর্গানাইজেশন হিসেবে শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করব বলে আমরা দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটা তখন গ্রহণ করিনি। এখন আলোচনা শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ। কমিশন চেয়ারম্যান যাদেরকে নিয়োগ করতে হয় তাদের কীভাবে নিয়োগ করা হবে সেজন্য সার্চ কমিটি আছে, আগের আইনেও ছিল এবং সেই অধ্যাদেশটা গ্রহণ করা না গেলেও আগের আইনটা রিভাইভ হয়েছে। ওখানেও সার্চ কমিটি আছে, সেই সার্চ কমিটি অনুসারে দুর্নীতি দমন কমিশনটা গঠন করার জন্য সার্চ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি অনেকদিন পরে তার প্রতিনিধি নিয়োগ করেছেন। বহু দিন গড়িয়ে গেছে, হয়ত আপনারা মনে করেছেন সরকার আন্তরিক না। সরকার আন্তরিক ছিল, চিঠি দিয়েছে। সার্চ কমিটি গঠন করা হবে, দুর্নীতি দমন করা হবে কিন্তু আমরা সহযোগিতাটা চাই। সার্চ কমিটি গঠিত হবে, দুর্নীতি দমন কমিশনও গঠিত হবে, দুর্নীতির সমস্ত বিষয় অ্যাড্রেস করা হবে। তবে আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে চাই, এটা হচ্ছে একটা মধ্যবর্তী ব্যবস্থা। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনটা পার্লামেন্টে নিয়ে এলে তখন আরও সত্যিকারের দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন হবে, আইনটা গঠন হবে। তখন আমরা সেখানে আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারব, আলোচনার ভিত্তিতে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন গঠিত হবে। কিন্তু মধ্যখানে আমাদেরকে দুর্নীতি দমন কমিশনটা ফাংশনাল করার জন্য একটা সার্চ কোডের মধ্য দিয়ে, আগের আইনটার মধ্য দিয়ে একটা কমিশন গঠন করে ফেলতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য এইটা বলেছেন যে দুর্নীতির অর্থ পাচারের যে টাকা পাচার হয়েছে দেশ থেকে সেটা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা। আমরা এখানে অনেক আলোচনা করেছি। একদিন আমি একটা কাগজ নিয়ে এখানে কিছু তথ্য দিয়েছিলাম। সেটা হচ্ছে স্টেট অব দ্য স্টেট ইকোনমি। ২০১৯-২০২৩ এটা হচ্ছে, স্টেট অব দ্য বাংলাদেশ ইকোনমি। আগের গভর্নমেন্টের সময় কী অবস্থায় ছিল তার একটা হোয়াইট পেপার রেডি করা হয়েছিল, সেই রিপোর্টটা পেশ করা হয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার কাছে। এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রখ্যাত অর্থনীতি দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে। শুধু ব্যাংকিং খাতে যে লুটপাট হয়েছে, সেটাই বলা হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় যে ব্যাংক লোন দেওয়া হয়েছে সেটাতে ২৪টা পদ্মা সেতু করা যেত। তো সুতরাং এগুলো অ্যাড্রেস করতে হবে, সমস্ত পাচারের অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে। সবার সহযোগিতা সেখানে আমরা চাই।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ধর্ষণ কিংবা দুর্নীতি ছোট-বড় হয় না, সবই সমান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ধর্ষণ কিংবা দুর্নীতি ছোট-বড় হয় না, সবই সমান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১০:০৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

উচ্চ দুর্নীতি এবং নিম্ন দুর্নীতি বলে কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দুর্নীতি ছোট হয় না। বড়ও হয় না। যেমন ধর্ষণ ছোটও হয় না, বড়ও হয় না।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীকে আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয়, আমরা তো এখন দুর্নীতি দমন কমিশন-সংক্রান্ত আলোচনায় আছি, অনুগ্রহ করে সে বিষয়েই বক্তব্য শেষ করুন।’

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির ক্ষেত্রেও অনেকে উচ্চ ও নিম্ন দুর্নীতির কথা বলেন। কিন্তু আইনে উচ্চ বা নিম্ন দুর্নীতির কোনো পৃথক সংজ্ঞা নেই। দুর্নীতি মানেই দুর্নীতি। এখানে ছোট-বড় বলে কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘ঠিক একইভাবে ধর্ষণের ক্ষেত্রেও কোনো ছোট-বড় নেই। সব ঘটনাই সমান গুরুত্বের। তাই যে কোনো ধর্ষণের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ডেফিনিশনে উচ্চ দুর্নীতিও নেই, নিম্ন দুর্নীতিও নেই। যেমন ধর্ষণ ছোটও হয় না, বড়ও হয় না। সবই সমান। ধর্ষণের ক্ষেত্রে একটা বিচার চাইবো, আরেকটা চাইবো না তা হয় না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গতকাল এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে। তখন আমার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হয়নি। বিরোধী দলের একজন নেতা একটি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, ১৯ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও সরকার ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে পারবে কি না। পরে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে আমরা বিবৃতি দিয়েছি।
তিনি বলেন, আসলে তারা ধর্ষণের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, নাকি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন-সেটি জনগণই মূল্যায়ন করবে।

জাতীয় সংসদে দুদকের বরাদ্দ সংক্রান্ত ছাঁটাই প্রস্তাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা দুদক যেহেতু শক্তিশালী করতে চাই এটা জাতির প্রত্যাশা সেজন্য। এখানে কিছু আইনি ইনফ্রাস্ট্রাকচার আছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, একটা অর্গানাইজেশন হিসেবে শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করবো। আমরা দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটা তখন গ্রহণ করিনি। এখন আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হবে।

একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হবে বলেই দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের অধ্যাদেশটি গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটা অর্গানাইজেশন হিসেবে শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করব বলে আমরা দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটা তখন গ্রহণ করিনি। এখন আলোচনা শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ। কমিশন চেয়ারম্যান যাদেরকে নিয়োগ করতে হয় তাদের কীভাবে নিয়োগ করা হবে সেজন্য সার্চ কমিটি আছে, আগের আইনেও ছিল এবং সেই অধ্যাদেশটা গ্রহণ করা না গেলেও আগের আইনটা রিভাইভ হয়েছে। ওখানেও সার্চ কমিটি আছে, সেই সার্চ কমিটি অনুসারে দুর্নীতি দমন কমিশনটা গঠন করার জন্য সার্চ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি অনেকদিন পরে তার প্রতিনিধি নিয়োগ করেছেন। বহু দিন গড়িয়ে গেছে, হয়ত আপনারা মনে করেছেন সরকার আন্তরিক না। সরকার আন্তরিক ছিল, চিঠি দিয়েছে। সার্চ কমিটি গঠন করা হবে, দুর্নীতি দমন করা হবে কিন্তু আমরা সহযোগিতাটা চাই। সার্চ কমিটি গঠিত হবে, দুর্নীতি দমন কমিশনও গঠিত হবে, দুর্নীতির সমস্ত বিষয় অ্যাড্রেস করা হবে। তবে আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে চাই, এটা হচ্ছে একটা মধ্যবর্তী ব্যবস্থা। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনটা পার্লামেন্টে নিয়ে এলে তখন আরও সত্যিকারের দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন হবে, আইনটা গঠন হবে। তখন আমরা সেখানে আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারব, আলোচনার ভিত্তিতে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন গঠিত হবে। কিন্তু মধ্যখানে আমাদেরকে দুর্নীতি দমন কমিশনটা ফাংশনাল করার জন্য একটা সার্চ কোডের মধ্য দিয়ে, আগের আইনটার মধ্য দিয়ে একটা কমিশন গঠন করে ফেলতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য এইটা বলেছেন যে দুর্নীতির অর্থ পাচারের যে টাকা পাচার হয়েছে দেশ থেকে সেটা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা। আমরা এখানে অনেক আলোচনা করেছি। একদিন আমি একটা কাগজ নিয়ে এখানে কিছু তথ্য দিয়েছিলাম। সেটা হচ্ছে স্টেট অব দ্য স্টেট ইকোনমি। ২০১৯-২০২৩ এটা হচ্ছে, স্টেট অব দ্য বাংলাদেশ ইকোনমি। আগের গভর্নমেন্টের সময় কী অবস্থায় ছিল তার একটা হোয়াইট পেপার রেডি করা হয়েছিল, সেই রিপোর্টটা পেশ করা হয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার কাছে। এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রখ্যাত অর্থনীতি দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে। শুধু ব্যাংকিং খাতে যে লুটপাট হয়েছে, সেটাই বলা হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় যে ব্যাংক লোন দেওয়া হয়েছে সেটাতে ২৪টা পদ্মা সেতু করা যেত। তো সুতরাং এগুলো অ্যাড্রেস করতে হবে, সমস্ত পাচারের অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে। সবার সহযোগিতা সেখানে আমরা চাই।