Dhaka বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশ স্থিতিশীল হওয়ায় ব্যারাকে ফিরছেন সেনারা : সেনাপ্রধান

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : 

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ২০২৪ সালে দেশের প্রয়োজনে সেনাসদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে দেশ স্থিতিশীল হওয়ায় তারা ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেন। দেশের ক্রান্তিলগ্নে সেনাসদস্যদের এমন ভূমিকা জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, আমরা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে এখনো ডেপ্লয়েড আছি। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে আমরা এ কাজ করে যাচ্ছি, এখনো আছি। এখনো ১৬-১৭ হাজার সারা বাংলাদেশের ৬২টা জেলায় আছে। আমরা অনেক সৈনিক আমরা উইথড্রো করেছি, বাট এখনো সম্পূর্ণ উইথড্রো হয়নি। ইনশাআল্লাহ আমরা আশা করছি যে কিছু সময়ের মধ্যে আমরা সবাই ব্যারাকে ফেরত আসতে পারবো। তারপরও দেশের প্রয়োজনে আমাদের কিছু কাজ করে যেতেই হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার আমাদের চাইবে, মাঠে থেকে বিভিন্ন কাজ করে যাব। যেমন এখন ফিউল ডিপোগুলোতে আমাদের ডিপ্লয়মেন্ট আছে। এ রকম টাইম টু টাইম বিভিন্ন কাজে আমাদের হয়তো সরকারকে সহায়তা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের যে প্রধান কাজ ক্যান্টনমেন্টে ফেরত এসে প্রশিক্ষণগুলো করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি, আমাদের নিজস্ব যে পদ্ধতি আছে, নিজস্ব ওয়ে আছে সেগুলো আস্তে আস্তে আমাদের শুরু করতে হবে। এজন্য ফায়ারিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এতদিন ফায়ারিং সেভাবে করতে পারিনি। এখন ফায়ারিং কমপ্রেশন হলো। আমি রেজাল্ট দেখলাম, দক্ষতা দেখলাম, আমি অত্যন্ত আশান্বিত যে এতদিন ফিল্ডে থাকার পরেও আমাদের ফায়ারিং সক্ষমতা কমেনি। এটা একটা ভালো লক্ষণ। আমাদের আস্তে আস্তে ট্রেনিং ইভেন্টগুলো শুরু করতে হবে। আমাদের যে কাজ সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা, ডিসিপ্লিন ঠিক রাখা সেগুলো আমরা শুরু করছি।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, গত ১৮ মাস মাঠে দায়িত্ব পালন করেও সেনাসদস্যরা ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় যে দক্ষতা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অভূতপূর্ব। সেনাপ্রধান বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের সদস্যদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দি অর্ডন্যান্স (এমজিও), কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার কুমিল্লা এরিয়া, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার সিলেট এরিয়াসহ সেনাসদর ও বিভিন্ন ফরমেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আবহাওয়া

রামিসা হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দ্রুত দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশ স্থিতিশীল হওয়ায় ব্যারাকে ফিরছেন সেনারা : সেনাপ্রধান

প্রকাশের সময় : ০৩:৪১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : 

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ২০২৪ সালে দেশের প্রয়োজনে সেনাসদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে দেশ স্থিতিশীল হওয়ায় তারা ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেন। দেশের ক্রান্তিলগ্নে সেনাসদস্যদের এমন ভূমিকা জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, আমরা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে এখনো ডেপ্লয়েড আছি। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে আমরা এ কাজ করে যাচ্ছি, এখনো আছি। এখনো ১৬-১৭ হাজার সারা বাংলাদেশের ৬২টা জেলায় আছে। আমরা অনেক সৈনিক আমরা উইথড্রো করেছি, বাট এখনো সম্পূর্ণ উইথড্রো হয়নি। ইনশাআল্লাহ আমরা আশা করছি যে কিছু সময়ের মধ্যে আমরা সবাই ব্যারাকে ফেরত আসতে পারবো। তারপরও দেশের প্রয়োজনে আমাদের কিছু কাজ করে যেতেই হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার আমাদের চাইবে, মাঠে থেকে বিভিন্ন কাজ করে যাব। যেমন এখন ফিউল ডিপোগুলোতে আমাদের ডিপ্লয়মেন্ট আছে। এ রকম টাইম টু টাইম বিভিন্ন কাজে আমাদের হয়তো সরকারকে সহায়তা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের যে প্রধান কাজ ক্যান্টনমেন্টে ফেরত এসে প্রশিক্ষণগুলো করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি, আমাদের নিজস্ব যে পদ্ধতি আছে, নিজস্ব ওয়ে আছে সেগুলো আস্তে আস্তে আমাদের শুরু করতে হবে। এজন্য ফায়ারিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এতদিন ফায়ারিং সেভাবে করতে পারিনি। এখন ফায়ারিং কমপ্রেশন হলো। আমি রেজাল্ট দেখলাম, দক্ষতা দেখলাম, আমি অত্যন্ত আশান্বিত যে এতদিন ফিল্ডে থাকার পরেও আমাদের ফায়ারিং সক্ষমতা কমেনি। এটা একটা ভালো লক্ষণ। আমাদের আস্তে আস্তে ট্রেনিং ইভেন্টগুলো শুরু করতে হবে। আমাদের যে কাজ সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা, ডিসিপ্লিন ঠিক রাখা সেগুলো আমরা শুরু করছি।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, গত ১৮ মাস মাঠে দায়িত্ব পালন করেও সেনাসদস্যরা ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় যে দক্ষতা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অভূতপূর্ব। সেনাপ্রধান বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের সদস্যদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দি অর্ডন্যান্স (এমজিও), কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার কুমিল্লা এরিয়া, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার সিলেট এরিয়াসহ সেনাসদর ও বিভিন্ন ফরমেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।