নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্রের সঙ্গে বিএনপি, শহীদ জিয়া ও প্রয়াত খালেদা জিয়ার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যখনই দেশ সংকটে পড়েছে তখনই বিএনপি তার হাল ধরেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি লুকিয়ে বা গুপ্তভাবে কিছু করেনি, জনগণের অধিকার আদায়ে বিএনপি সর্বদা রাজপথে ছিল। দেশে, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য যতগুলো নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি সরকার গঠন করেছে।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারই হোক অথবা অন্তর্বর্তী সরকারেরই সৃষ্ট সমস্যা হোক—সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। এ সমস্যাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। কেউ যদি অরাজকতা করতে চায়, তাহলে দেশের আইনে বলা আছে তা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে দেশে বড় সমস্যা জ্বালানির সমস্যা। সমস্যা সমাধানে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাস্তবায়ন হতে কিছু সময় লাগবে। ভবিষ্যতে যেন কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে।
বিগত স্বৈরাচারী সরকারের রেখে যাওয়া নানা সংকটকে পুঁজি করে কেউ দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি মানবিক রাষ্ট্র ও টেকসই গণতন্ত্র তৈরি করতে চাই, যেখানে মানুষের কথা বলার অধিকার থাকবে। কিন্তু আমরা খেয়াল করছি, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলোকে পুঁজি করে কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে।

সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার জন্য। অবশ্যই আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখবো। গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতাগুলো আপহোল্ড করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’
একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়; সেটিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে। কাজেই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।’
দেশের প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিশ্রম করেছে। সংকট থেকে ধীরে ধীরে দেশকে বের করেও নিয়ে এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। শিল্পকারখানার মালিকসহ বহু সাধারণ মানুষ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে রয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
তিনি বলেন, ‘তবে আগামীতে যেন দেশের মানুষকে এই জ্বালানি সংকটে পড়তে না হয় সেভাবেই বিএনপি তার কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে।’
দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী দলের নাম বিএনপি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষের যে গণতান্ত্রিক অধিকার সেটিকে যদি কেউ নিশ্চিত করে থাকে, সেই রাজনৈতিক দলটির নাম হচ্ছে বিএনপি। সে কারণেই প্রত্যেকটি নির্বাচনে বাংলাদেশের বাংলাদেশ জাতীয়তা দল এই দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এখন আমরা এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র তৈরি করতে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হবে।’
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্প্রবর্তন, রেমিটেন্স ও তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পের বিকাশ এবং নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু-সবকিছুর পেছনেই জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও বিএনপির যুগান্তকারী অবদান রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে তাদের দেশ গঠনে সম্পৃক্ত করেন। এছাড়া, তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, যা পরবর্তী সময়ে দেশকে একটি উদীয়মান টাইগার হিসেবে পরিচিতি দেয়।’
সংকট মোচনে বিএনপির অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পর দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন করা এবং ৯০-এর স্বৈরাচার পরবর্তী সময়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে দেশকে মুক্ত করে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বিএনপির ভূমিকা অনস্বীকার্য।’
বিগত ১৬-১৭ বছরে বিরোধী দলের ওপর অন্যায়-অত্যাচার এবং নির্যাতনের পরেও বিএনপি রাজপথে থেকে আন্দোলন পরিচালনা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলনের মূল “মাস্টারমাইন্ড” এবং সফলতা অর্জনের পূর্ণ কৃতিত্ব এ দেশের আমজনতার, যাদের সঙ্গে থেকে বিএনপি এই লড়াই সফল করেছে।’
বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের সময়ে একটি রাজনৈতিক দল গুপ্তবেশ ধারণ করেছিল। এখন সেই গুপ্তদের ভেতরে কি স্বৈরাচাররা লুকিয়ে থেকে এই অরাজকতাকে উসকে দিতে চাইছে? যারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে অরাজকতা তৈরি করতে চান, তাদের পরিষ্কারভাবে বলতে চাই-দেশের জনগণ এই সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি সমুন্নত রাখব। কিন্তু কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইলে আইনে বলা আছে কীভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। প্রত্যেককে নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকা দরকার।
জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থা ইনহেরিট করেছি। বিদ্যুতের কষ্টে থাকা সাধারণ মানুষ ও শিল্পমালিকদের কাছে দলের পক্ষ থেকে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আমরা শুধু এক্সকিউজ দিতে চাই না। ভবিষ্যতে যাতে এই সংকট আর না হয়, সেভাবেই সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
বিগত স্বৈরাচারী সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলোকে সরকার কেবল ‘অজুহাত’ হিসেবে দাঁড় করাতে চায় না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠন করার পর একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। ভঙ্গুর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটি আমরা ইনহেরিট (উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া) করেছি, তা হলো জ্বালানি সমস্যা। দেশের বহু মানুষ এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে ভুগছেন, আমরা সেটা অস্বীকার করছি না।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভোগা সাধারণ মানুষ এবং শিল্পকারখানার মালিকদের কাছে দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া যে সমস্যাগুলোর কারণে আজ দেশ ও দেশের মানুষ কষ্ট ভোগ করছে, আমরা শুধু এটিকে এক্সকিউজ বা অজুহাত হিসেবে বলে দিতে চাই না। বরং বাস্তবতা মানুষের কাছে তুলে ধরে আমরা এমন পদক্ষেপ ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে দেশের মানুষ এই ধরনের সমস্যার মধ্যে আর না পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি যুদ্ধ সামাল দিয়ে চলছি। মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপসহ পৃথিবীর প্রায় ৬৫টি দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি যতটুকু সম্ভব দাম না বাড়ানোর। বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত যখন আর সম্ভব হয়নি, তখন জ্বালানির দাম কিছুটা বৃদ্ধি করেছি। তবে জনগণের ওপর যাতে কোনোভাবেই চাপ না পড়ে, সেজন্য কিছুদিন আগে পাস হওয়া বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর ট্যাক্স (কর) আমরা আরও কমিয়ে দিয়েছি। কারণ আমাদের প্রতিটি কাজের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের জনগণ।
তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রত্যেকটি সংকটকালীন মুহূর্তে দেশের মানুষ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে। এবারও আমরা বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে সামলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারের সময় যেমন গুপ্তরা লুকিয়ে ছিল, এখন কি সেই গুপ্তদের মধ্যে স্বৈরাচার লুকিয়ে আছে, কে কাকে গুপ্ত করার দায়িত্ব নিয়েছে—তা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা দরকার।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘গুপ্তরা তাহলে কি স্বৈরাচারকে সুযোগ দিচ্ছে? ৭১ থেকে শুরু করে নানা সময়ে তারা একজন আরেকজনকে গুপ্ত বা আড়াল করে দিয়েছে।’

দেশের চলমান সংকট পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, গত কিছুদিন ধরে আমরা খেয়াল করছিৃ.যেসব সমস্যা আমরা ‘ইনহেরিট’ করেছি, স্বৈরাচার আমলেই হোক অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়ার সমস্যাই হোক না কেন, সে সব সমস্যা আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। সমস্যা নেই আমরা কখনোই বলছি না। সমস্যা আছে। অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। কিন্তু এসব সমস্যা পুঁজি করে খেয়াল করছি যে, কিছু রাজনৈতিক দল কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন এবং বিভ্রান্তি তৈরির মাধ্যমে দেশে একটি অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
সরকারপ্রধান বলেন, পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, অবশ্যই বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার। অবশ্যই আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখব। গণতান্ত্রিক যে নীতি-নৈতিকতা আছে, চেষ্টা করব সর্বোচ্চ দিয়ে সেগুলোকে আপহোল্ড করার জন্য। কিন্তু কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, অবশ্যই দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে কীভাবে অরাজকতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কাজেই সরকার হিসেবে এবং শুধু সরকার হিসেবে নয়, জনগণের দ্বারা একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকে প্রত্যেকের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।
দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা কষ্ট দিতে না পারে, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিটি নেতাকর্মীকে সতর্ক হতে হবে। আমার এই প্রিয় দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে দলকে বিব্রত করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন এমন কোনো কাজ করতে না পারে, যা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়। আজকের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটিই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা ও শপথ।
এ সময় তিনি বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নিহত, গুম হওয়া ও আহত হাজারো নেতাকর্মীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, খাল খনন কর্মসূচি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় সতর্ক থাকা- এই চার বিশেষ আহ্বান দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি রেখেছেন তারেক রহমান।
বৃক্ষ রোপণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘দয়া করে যারা নিজেদেরকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কর্মী মনে করবেন আপনি কয়েকটি কাজে নিজেকে অংশগ্রহণ করাতে পারেন। কয়েকটি কাজে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে আপনি যেরকম নিজেকে প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন যে এই দলের আপনি একজন সাচ্চা কর্মী, একইভাবে আপনি এই দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন। সেটি আপনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন কর্মী হোন প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন নেতা হন না কেন। এখন জিজ্ঞেস করতে পারেন কী সেই কাজ? কয়েকটি কাজ আজকে আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরতে চাই। যেমন আমরা বলেছি যে, এই দেশের পরিবেশ রক্ষার জন্য বর্তমান সরকার আপনাদের সরকার আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করতে চায়। তাহলে কি আমরা শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া বৃক্ষ রোপণ অভিযান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া বৃক্ষ রোপণ অভিযান এবং আপনার বর্তমান আপনার সরকারের ২৫ কোটি গাছ রোপণের যে অভিযান বা পরিকল্পনা সেটিকে নিঃসন্দেহে আমরা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো। আপনি এভাবে আপনার সরকারকে আপনি সহযোগিতা করতে পারেন।

খাল খনন নিয়ে তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার একটি বিখ্যাত কর্মসূচি খাল খনন কর্মসূচি। যা দিয়ে গ্রামের প্রতিটি মানুষ শহীদ জিয়াকে চেনেন। আমরা আপনার এই বর্তমান সরকার শহীদ জিয়ার সেই কর্মসূচিকে আবার চালু করেছে। আগামী ৫ বছরে ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করতে চাই। খালের কি কারণে করতে চাই সেটি বিস্তারিত সেটি আমি আর আজকে বলছি না। আপনি বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে শহীদ জিয়ার একজন সৈনিক হিসেবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার একজন কর্মী হিসেবে আপনি নিঃসন্দেহে আপনার এলাকায় যখন খাল খনন হবে সেই খাল খনন কর্মসূচিতে আপনি গৌরব অহংকার নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে আপনি নিজের মনের কাছে নিজের বিবেকের কাছে আপনি নিজেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।
পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তিনি বলেন, এই দলকে যদি আপনার সহযোগিতা করতে হয় এবং দলের মাধ্যমে যদি সরকারকে সহযোগিতা করতে হয় আসুন না আমরা চেষ্টা করি। আজকে এখানে ছাত্রদল আছে যুবদল আছে স্বেচ্ছাসেবক দল আছে তাঁতী দল আছে আইনজীবী দল আছে মৎস্যজীবী দল আছে সহ আমাদের ১১ টি অঙ্গ সহযোগী সংগঠন আছে মূল দল তো আছেই। আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশের গ্রামে ইউনিয়নে ওয়ার্ডে উপজেলায় পৌরসভায় প্রত্যেকটি জায়গায় আমাদের কমিটিগুলো আছে। আমরা তো চেষ্টা করতে পারি যেখানে যেখানে ময়লা আছে আবর্জনা আছে এগুলোকে সুন্দরভাবে জনগণকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার করে গড়ে তুলি। আমরা এই কাজটিও করতে পারি।
দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তারেক রহমান বলেন, শেষ যে আহ্বানটি আপনাদের কাছে করব সেই আহ্বানটি হচ্ছে আজকের এই ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আসুন আমরা প্রত্যেকে সতর্ক হই জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রত্যেকটি নেতাকর্মী সমগ্র বাংলাদেশে সতর্ক হই, যাতে আমার এই প্রিয় দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন এম কাজ করতে না পারে, যে কাজে মানুষের কষ্ট হয়।
আলোচনার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দলের সাবেক চেয়ারম্যান খালেদা জিয়াসহ সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠা করেন। দিবসটি পালনের যে পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে এই আলোচনাসভার মধ্য দিয়ে তা শেষ হল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুব সাধারণ সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বক্তব্য দেন।
আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















