দেবিদ্বারে মা-ভাবি-ভাতিজিকে গলা কেটে হত্যা, যুবক আটক

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : 

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা ও এক বছর বয়সি ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইমন মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় তার ভাবিকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থা তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর ইমনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ইমনের মা মোছা. ফিরোজা বেগম এবং তার ছয় মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত জাহান। আহত রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অভিযুক্ত ইমন মৃত ফরিদ মিয়া ও পেয়ারা বেগমের ছোট ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বড়শালঘর মৃত ফরিদ মিয়ার তিন ছেলে। ছোট ছেলে ইমনের পায়ের লিগামেন্টে সমস্যা ছিল। পরবর্তীতে তার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর থেকে তার মধ্যে বিভিন্ন ডিসঅর্ডার দেখা দেয়। রোববার দিবাগত রাতে ইমন ঘরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তার মা পেয়ারা বেগম ও ভাবি রাবেয়া তাকে বাধা দেন। তাদের বাধার মুখে আত্মহত্যা থেকে পিছপা হন ইমন।

সোমবার সকালে ওই বিষয় নিয়ে ইমন তার মা ও ভাবিকে গালাগাল করতে থাকেন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা দা দিয়ে মা পেয়ারা বেগমকে কুপিয়ে জখম করেন। মায়ের কাছে থাকা ৮ মাস বয়সী ইসরাতকেও কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় বাধা দিতে এলে ভাবি রাবেয়াকেও কুপিয়ে আহত করেন ইমন।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ৩ জনকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পেয়ারা বেগম ও ইসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। রাবেয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামীম আহসান বলেন, সকালে চিৎকার শুনে ঘরে গিয়ে দেখি, মেঝেতে মা পেয়ারা বেগম ও খাটের ওপর ৮ মাস বয়সী ভাতিজির মরদেহ পড়ে আছে। এলাকাবাসী ঘাতক ঈমনকে আটক করে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে, পরে পুলিশ তাকে আটক করে। তবে কি কারণে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এখন কিছুই বলতে পারছি না।

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত পেয়ার বেগম ও তার নাতনি শিশু নিহত হয়েছেন। দুজন নিহতের খবর আমরা পেয়েছি। রাবেয়া নামের একজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইমনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার কারণ আমরা খতিয়ে দেখছি।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইমন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম অনেক কম : রিজভী

দেবিদ্বারে মা-ভাবি-ভাতিজিকে গলা কেটে হত্যা, যুবক আটক

প্রকাশের সময় : ০১:৪০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : 

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা ও এক বছর বয়সি ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইমন মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় তার ভাবিকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থা তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর ইমনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ইমনের মা মোছা. ফিরোজা বেগম এবং তার ছয় মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত জাহান। আহত রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অভিযুক্ত ইমন মৃত ফরিদ মিয়া ও পেয়ারা বেগমের ছোট ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বড়শালঘর মৃত ফরিদ মিয়ার তিন ছেলে। ছোট ছেলে ইমনের পায়ের লিগামেন্টে সমস্যা ছিল। পরবর্তীতে তার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর থেকে তার মধ্যে বিভিন্ন ডিসঅর্ডার দেখা দেয়। রোববার দিবাগত রাতে ইমন ঘরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তার মা পেয়ারা বেগম ও ভাবি রাবেয়া তাকে বাধা দেন। তাদের বাধার মুখে আত্মহত্যা থেকে পিছপা হন ইমন।

সোমবার সকালে ওই বিষয় নিয়ে ইমন তার মা ও ভাবিকে গালাগাল করতে থাকেন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা দা দিয়ে মা পেয়ারা বেগমকে কুপিয়ে জখম করেন। মায়ের কাছে থাকা ৮ মাস বয়সী ইসরাতকেও কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় বাধা দিতে এলে ভাবি রাবেয়াকেও কুপিয়ে আহত করেন ইমন।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ৩ জনকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পেয়ারা বেগম ও ইসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। রাবেয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামীম আহসান বলেন, সকালে চিৎকার শুনে ঘরে গিয়ে দেখি, মেঝেতে মা পেয়ারা বেগম ও খাটের ওপর ৮ মাস বয়সী ভাতিজির মরদেহ পড়ে আছে। এলাকাবাসী ঘাতক ঈমনকে আটক করে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে, পরে পুলিশ তাকে আটক করে। তবে কি কারণে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এখন কিছুই বলতে পারছি না।

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত পেয়ার বেগম ও তার নাতনি শিশু নিহত হয়েছেন। দুজন নিহতের খবর আমরা পেয়েছি। রাবেয়া নামের একজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইমনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার কারণ আমরা খতিয়ে দেখছি।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইমন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।