নিজস্ব প্রতিবেদক :
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং দুজন কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এসে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
এর আগে সচিবালয়ে আসেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও কমিশনাররা। দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক নম্বর ভবনে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ১০ মিনিটের মধ্যেই তারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বের হয়ে যান।
বিকেলে পদত্যাগপত্র জমাদান শেষে সাংবাদিকদের দুদকের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মোমেন বলেন, ‘নতুন সরকারের প্রত্যাশা আছে, যে কারণে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে সহযোগী হিসেবে আমরা পদত্যাগ করেছি। নির্বাচিত সরকার আসার ১৪তম দিনে আমরা পদত্যাগ করলাম। এর বিশেষ কোনো কারণ নেই।’
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা অনুভব করেছি যে পরিবর্তনের পর নির্বাচিত যে সরকার এসেছে, তাদেরও প্রত্যাশা রয়েছে। সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য নিশ্চয়ই আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য কমিশন এখানে স্থাপন করবেন। এতে দুদক যেমন ভালো হবে, রাষ্ট্রেরও উপকার হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘নতুন সরকারের সময় যে অংশটুকু কাজ করতে পেরেছি, সেজন্য আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।’
দুদকের ‘নখ-দাঁত’ থাকা না-থাকা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এটা বিচার করার মালিক আপনারা। আমাদের এতদিন নখ-দাঁত ছিল কি ছিল না, তা আপনারা ভালো বুঝতে পারবেন। আমরা আমাদের সময়টুকুতে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি।’
রাজনৈতিক প্রভাবে দুদক চলবে কি না– এমন প্রশ্নে বিদায়ী চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরকারের নিজস্ব ইশতেহার ও প্রত্যাশা থাকে। সরকার সেই অনুযায়ী কাজ করবে, এতে আমি ব্যত্যয় কিছু দেখছি না। আমরাও অনুভব করছি যে এখন আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য লোকের কাজ করা প্রয়োজন।’
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী।

তিনি বলেন, আমি পদত্যাগ করেছি। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছি। কোন চাপের মুখে নয়, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই পদত্যাগ করেছি। নতুন পর্ষদ গঠিত হবে। তাদের জন্য শুভ কামনা।
২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি দুদকের দুই কমিশনারও নিয়োগ দেওয়া হয়।
সে সময় নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ৫ নম্বর আইন)-এর ৬(১) ধারার বিধান অনুসারে তাদেরকে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। এর মধ্যে দুদক আইন, ২০০৪-এর ৫(১) ধারার বিধানমতে ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হলো। নিয়োগকৃতদের মধ্যে চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারকের এবং কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারকের সমরূপ হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















